সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেন দিয়ে পরিচালনা করা হবে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। প্রতিটি সেট ট্রেনে রয়েছে ছয়টি কোচ। সব মিলিয়ে মেট্রোর একটি ট্রেনে একসঙ্গে ২ হাজার ৩০৮ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবে। তবে এর মধ্যে আসনে বসতে পারবে ৩০৬ জন। বাকিদের ভ্রমণ করতে হবে দাঁড়িয়ে।

উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোতে ২৪ সেট ট্রেন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। প্রতিদিন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ। আপাতত ট্রেনগুলোতে ছয়টি কোচ থাকলেও ভবিষ্যতে আটটি কোচ দিয়ে মেট্রোর ট্রেনগুলো পরিচালনা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তারা। মেট্রোর ট্রেনের ছয়টি কোচের মধ্যে মাঝের চারটি সাধারণ কোচ। এসব কোচের প্রতিটিতে ৫৪টি আসন রয়েছে। সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩৯০। ট্রেনের সামনের ও পেছনের কোচ দুটি ট্রেইলার কোচ। এসব কোচে রয়েছে ইঞ্জিন। যাত্রীরাও ট্রেইলার কোচে ভ্রমণ করতে পারবে। প্রতিটি ট্রেইলার কোচে আসন সংখ্যা ৪৫। সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩৭৪।

মেট্রোরেলর এ ট্রেনগুলো যৌথভাবে তৈরি করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি ও মিত্সুবিশি। ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনতে মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ট্রেন সেটের (বগি ও সিমুলেটর) পাশাপাশি রোলিং স্টক পরিচালন ও সংরক্ষণের জন্য ডিপোর যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং পরিচালন ও সংক্ষণকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১ হাজার ৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় দুই পাশে লম্বালম্বি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে রয়েছে দুটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুইপাশে চারটি করে দরজা রাখা হয়েছে।