বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হবে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। মেট্রোরেলের ইলেকট্রোমেকানিক্যাল অংশে কোনো বিকল্প নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করার ব্যবস্থা নেই। মেট্রোরেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি সাবস্টেশন। প্রতিটি সাবস্টেশনে রয়েছে দুটি ট্রান্সফরমার। একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, অন্যটি জরুরি প্রয়োজনে চালু হবে। জাতীয় গ্রিড বিপর্যয় হলেও ব্যাটারির মাধ্যমে চলমান ট্রেনগুলো নিকটবর্তী স্টেশনে পৌঁছতে পারবে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ঝুলন্ত তার (সিম্পল ক্যাটনারি ওভারহেড ওয়্যার) থেকে বিদ্যুৎ পৌঁছবে ট্রেনের ইঞ্জিনে (ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট মোটর)। ট্রেনে যাত্রীর চাপ, গতি, ট্রিপের সময়, ট্রিপের দৈর্ঘ্য, সর্বোচ্চ গতি, ব্রেকিং ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে একটি ট্রেনে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ দরকার হবে।

মেট্রোরেলের জন্য উত্তরা ডিপো ও মতিঝিল এলাকায় দুটি রিসিভিং সাবস্টেশন তৈরি করা হয়েছে। মতিঝিল রিসিভিং সাবস্টেশনে পিজিসিবি মানিকনগর গ্রিড সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। অন্যদিকে উত্তরা রিসিভিং সাবস্টেশনে টঙ্গী গ্রিড সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে ডেসকো।

মেট্রোরেলের জন্য জাপান থেকে কেনা হচ্ছে ২৪ সেট ট্রেন। প্রতিটি সেটে থাকবে ছয়টি কোচ। পাঁচ সেটের প্রথম চালানটি আসবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। আর ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সব ট্রেন ডিএমটিসিএলের হাতে চলে আসবে। কাওয়াসাকি-মিত্সুবিশির নির্মাণ করা এসব ট্রেন চলবে ডিসি ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের বিদ্যুতে। ভোল্টের তারতম্য হতে পারে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ পর্যন্ত।

নির্মাণাধীন উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ করছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড তুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও জাপানভিত্তিক মারুবেনি করপোরেশন। এজন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের ১১ জুলাই শুরু হয়। গত নভেম্বর পর্যন্ত এসব কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ১৭ শতাংশ। উত্তরা ডিপো এলাকায় রেলওয়ে ট্র্যাক এবং বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে কমিশনিং করা হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে ভায়াডাক্টের সম্পূর্ণ অংশে ওভারহেড ক্যাটনারি সিস্টেম ও সিগন্যালিং সিস্টেমের ইকুইপমেন্ট স্থাপন করে টেস্টিং সম্পন্ন করা হয়েছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অটোমেটিক ফেয়ার কালেকশন ইকুইপমেন্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

একইভাবে মতিঝিল রিসিভিং সাবস্টেশনের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করে যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন ও ১৩২ কেভি কেবল লেইংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশে (১৬ দশমিক ১৯ কিলোমিটার) রেললাইন ও ওসিএস পোর্টাল স্থাপনকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার ওসিএস ওয়্যারিংয়ের মধ্যে ১৩ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে।