মিডল্যান্ড ব্যাংকে দুই ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। যেমন গোল্ড কার্ড ও প্লাটিনাম কার্ড। যেখানে সব সুবিধা দুই ধরনের কার্ডেই সমানভাবে বিদ্যমান। রিওয়ার্ড পয়েন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। আমরা ক্রেডিট কার্ডে প্রতি ৫০ টাকা খরচের জন্য একটি রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে থাকি, যা ২০ পয়সার সমতুল্য। আর এসব রিওয়ার্ড পয়েন্ট বিলের সঙ্গে নগদ সমন্বয়ের সুবিধা রয়েছে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো পণ্য বা আউটলেট থেকে ‘পণ্য ক্রয় ভাউচার’-এর মাধ্যমে রিডেম্পশনের পরিবর্তে সরাসরি বকেয়া বিলের সঙ্গে নগদ সমন্বয় করা যায়।
আমাদের ক্রেডিট কার্ড থেকে বিভিন্ন এমএফএস অ্যাড মানি সম্পূর্ণ ফ্রি। ফলে গ্রাহকরা কেনাকাটার জন্য পিওএসের পাশাপাশি এফএফএসে এই ফ্রি অ্যাড মানি সুবিধা নিয়ে লেনদেনও করতে পারেন। অতি অল্প খরচে ক্রেডিট কার্ড থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা যায়, যাকে বাজারে নিম্নতম খরচ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ভিসা মানি ট্রান্সফার সুবিধার মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে বিদেশ থেকে কার্ডে টাকাও জমা করা সম্ভব।
গ্রাহকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মিডল্যান্ড ব্যাংক এমনই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে, যেখানে যেকোনো মূল্যের ১৫টি ট্রানজেকশন করে বার্ষিক চার্জ মওকুফ করা যায়। অন্যদিকে বার্ষিক চার্জটি কার্ড অ্যাকটিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই দিতে হয় না, বরং গ্রাহক সুবিধা বিবেচনায় সেটি কাটা হয় বছর শেষে। অর্থাৎ বার্ষিক বা অ্যানুয়াল ফি চার্জ করা হয় ‘কার্ড অ্যানিভার্সারি’ বছরে।
বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টেও রয়েছে ডিসকাউন্টের সুবিধা। সর্বোচ্চ ২০% ছাড় পেতে কেনাকাটার আগে সেই মার্চেন্টকে শুধু যাচাই করতে হবে কোথায় তা পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া ঘরে বসে অনলাইন বা ই-কমার্স পেমেন্টও করা যায় মিডল্যান্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও বছরজুড়ে রয়েছে সর্বোচ্চ ৩০% ডিসকাউন্ট সুবিধা। বিভিন্ন পেশাজীবী পাচ্ছেন ফ্রি অ্যানুয়াল ফি কার্ড। যেমন ধরুন সব সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, মানবসম্পদ বিভাগ বা আইটি খাতে কর্মরত গ্রাহকরা এ সুবিধা পাচ্ছেন তিন বছরের জন্য।
সর্বোচ্চ তিনটি সম্পূরক কার্ড একদম ফ্রি অর্থাৎ প্রাথমিক ক্রেডিট কার্ডের অধীনে তিনটি সম্পূরক কার্ড বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ইস্যু করা হয়। মিডল্যান্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কোনো সুদ ছাড়াই ‘ইজিপে’ ব্যবহার করে সমানসংখ্যক মাসিক কিস্তিতে (ইএমআই) নির্দিষ্ট মার্চেন্ট পয়েন্ট থেকে পণ্য কেনার সুবিধা আছে। সার্বজনীনভাবে গৃহীত একটি ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ভিসা ক্রেডিট কার্ড, যা বিশ্বব্যাপী গৃহীত হয়। ফলে বিদেশ ভ্রমণের সময় মিডল্যান্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড থাকলে পেমেন্ট বা অর্থ বিষয়ে দেবে স্বস্তি। বিশেষ করে বিদেশের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং দোকানসহ বেশির ভাগ মার্কেটেই কেনাকাটা করতে এটি ব্যবহার করা যায়। ফলে নগদ অর্থ বহন বা মুদ্রা রূপান্তরের প্রয়োজন হয় না, যা বেশ সুবিধাজনক ও ক্ষেত্রবিশেষে লাভজনক। অন্যদিকে বিদেশ ভ্রমণের সময় প্রচুর পরিমাণে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়।
মিডল্যান্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়ও (বিআইজিআই) সুবিধা পাচ্ছেন। ছোট পরিবার বা নবদম্পতির একটি পরিবার ন্যূনতম খরচে পাঁচ তারকা রেস্টুরেন্টে একটি আনন্দঘন মুহূর্ত পার করতে পারে। আবার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ সুবিধা, যেখানে অপেক্ষারত সময়টুকু পার করা যায় সহজেই। পাঁচ তারকা আতিথেয়তার স্বাদও গ্রহণ করা যায়।
সর্বনিম্ন টাকা ২৫ হাজার থেকে এফডিআর/ডিপিএস লিয়েন করে খুব দ্রুত ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা হয়। এখানে এফডিআরের ইন্টারেস্টও যেমন পাওয়া যাবে আবার ক্রেডিট কার্ডের ইন্টারেস্টও অনেক কম হবে, যা মাত্র ১৪%। গ্রাহকরা ঘরে বসেই কার্ড দিয়ে তাদের পছন্দমতো বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারেন, যেমন বিল দেয়া, টপআপ করা ইত্যাদি। শক্তিশালী ডিজিটাল অ্যাপ মিডল্যাল্ড অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই কার্ড থেকে তাত্ক্ষণিক ফান্ড ট্রান্সফার বা কার্ডের বিপরীতে প্রদেয় বিল বিভিন্ন উপায়ে দেয়া যায়, যেমন এনপিএসবি, ইইফটিন, এমএফএস বা সরাসরি ব্রাঞ্চ।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্য দায়িত্বশীল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। খরচ বা কেনাকাটার জন্য একটি বাজেট থাকা উচিত। এমনকি সুদের চার্জ ও বিলম্বের ফি এড়াতে সময়মতো পরিশোধ করতে হবে ক্রেডিট কার্ডের বিল। এখানে এটাও জানতে হবে যে এটিএম থেকে নগদ তোলা সবসময়ই উচ্চ সুদ বহন করে। তাই নগদ উত্তোলন এড়ানো ভালো। জরুরি অবস্থা হলেই কেবল ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এটিএম থেকে নগদ উত্তোলন করা উচিত, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিল সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় দৈনিক সুদ চার্জ করা হয়। অনেক সময় লুকানো খরচ সম্পর্কে বলা হয়। যদিও একটি ব্যবসায় কোনো লুকানো খরচ নেই কিন্তু রয়েছে সচেতনতার অভাব। যেহেতু ক্রেডিট কার্ড একটি লাইফস্টাইল প্রডাক্ট, কোনো লোন প্রডাক্ট নয় তাই নিয়মিত বিল পরিশোধ করা উচিত। যদি নিয়মিত ন্যূনতম বকেয়া পরিশোধ করা হয় তাহলে বিলম্বিত অর্থ দেয়ার ফি এড়ানো সম্ভব।
ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইন কেনাকাটার সময় জালিয়াতি ও কার্ডের তথ্য চুরি ঠেকাতে বেশকিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ওয়েবসাইট ব্যবহার করা। ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্টসহ প্রতিটি অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্য একটি শক্তিশালী, অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। সেই সঙ্গে নিয়মিতভাবে ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করা দরকার। সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে অবিলম্বে ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে। ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে দ্রুত ব্যাংকে রিপোর্ট করা একান্ত জরুরি। আর যদি কোনো গ্রাহক বিদেশ ভ্রমণ না করেন তার ফরেন পার্ট বন্ধ রাখাই ভালো, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা সম্পসারণে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কার্ড ব্যবহারের জন্যে পিওএস মেশিনগুলো তুলনামূলকভাবে শহরের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টেই বেশি। ফলে কার্ড ব্যবসা এখনো শহরকেন্দ্রিকই রয়ে গেছে। অথচ উন্নত দেশে বিভিন্ন সুবিধার কারণে ঘরে বসেই কেনাকাটা লাভজনক। তাই সেসব দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার অনেক বেশি। অন্যদিকে আমাদের দেশে এখনো সেই পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুধু মার্চেন্ট পয়েন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।





