মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থানে ভিসা চিহ্নিত আউটলেটে কেনাকাটা করা যায়। বাংলাদেশী টাকা এবং বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যবহারযোগ্য এ কার্ড দিয়ে দেশের সব এটিএম এবং দেশের বাইরে ভিসাচিহ্নিত এটিএম থেকে নগদ অর্থ তোলা যায়। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডগুলোয় এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) সংযোজিত। ফলে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনাকাটায় পিওএস মেশিনের সংস্পর্শ ছাড়াই লেনদেন করা যায়। এমনকি এ কার্ডের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণ চেক ব্যবহার করা যায় কিংবা মার্কেন্টাইল ব্যাংকে গ্রাহকের কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে সেখানেও স্থানান্তর করা যায়।

একটা সময় পর্যন্ত দেশে ক্রেডিট কার্ডের বিস্তার বেশ ধীরগতিতে হলেও সম্প্রতি বেড়েছে এর জনপ্রিয়তা। নগদের বিকল্প তারল্য হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ায়, বেড়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। মূলত ব্যাংকের সর্বোত্তম গ্রাহকসেবা এবং ন্যূনতম খরচে সর্বোচ্চ সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তার কারণে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সেবাকে প্রথম সারির ক্রেডিট কার্ড সেবা হিসেবে পরিচিত করেছে।

গ্রাহকের তাত্ক্ষণিক ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্রেডিট কার্ড আর এটিই এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সময় উপযোগী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেজন্য দিনে দিনে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এ ক্রেডিট কার্ডের আরো বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলো হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নিতে গ্রাহককে কোনো ইস্যু চার্জ কিংবা প্রিলিমিনারি খরচ দিতে হয় না। এমনকি কার্ড ব্যবহার করে বছরে ১৪টি লেনদেন কিংবা ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের কেনাকাটা করলে পরের বছরের বার্ষিক কার্ড ফি কিংবা বার্ষিক কার্ড নবায়ন ফি দিতে হয় না। এভাবে কোনো কার্ড ফি ইস্যু চার্জ/বার্ষিক/নবায়ন ফি ছাড়াই গ্রাহক আজীবন এ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে অনুমোদিত অর্থ গ্রাহক মাত্র শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রসেসিং ফি দিয়ে কার্ড চেকের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারেন। যা বাংলাদেশের সমগ্র ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ব্যাংকের নিজস্ব কল সেন্টারে সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় ১৬২২৫ নম্বরে টেলিফোন করে গ্রাহক ব্যাংকে তার নিজস্ব সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা স্থানান্তরও করিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া ক্রেডিট কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ, এমবিএল রেইনবোসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় টাকা স্থানান্তর করা যায়।

এ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ই-কমার্সের মাধ্যমে কেনাকাটা এবং যেকোনো ধরনের ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, মোবাইল ফোন বিল, ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম ইত্যাদি) পরিশোধ করা যায়। সিগনেচার ক্রেডিট কার্ডধারী গ্রাহকরা বিদেশযাত্রার সময় দুজন এবং প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা একজন সঙ্গীসহ হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে কোনো খরচ ছাড়া প্রবেশাধিকার ও সেবা উপভোগ করতে পারেন। সিগনেচার, প্লাটিনাম ও গোল্ড ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা দেশের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় একটি কিনলে একটি ফ্রি সুবিধা উপভোগ করেন।

গ্রাহককে সুবিধা দিতে ইলেকট্রনিকস, আসবাবপত্র, হাসপাতাল, মোবাইল ও মোবাইল অ্যাকসেসরিজ, কম্পিউটার সামগ্রীসহ দেশের কয়েক হাজার আউটলেটের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। যেখান থেকে কার্ডধারীরা কিস্তিতে পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন। এছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে নগদ উত্তোলনসহ যেকোনো চলতি দায়/দেনা কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের বিল দেয়ার জন্য গ্রাহককে এখন আর ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এমবিএল রেইনবো অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই এখন বিল দেয়া যায়।

এছাড়া লেনদেনের ওপর বিভিন্ন সময় ক্যাশব্যাক, ক্যাশ রিওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা পান গ্রাহক। সিগনেচার ও প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের ওপর রিওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হয়, যা গ্রাহক পরবর্তী সময়ে বার্ষিক কার্ড ফি প্রদান, গিফট ভাউচার, প্রিপেইড কার্ডে ট্রান্সফারসহ নানা উপায়ে এনক্যাশমেন্ট করতে পারেন। ক্রেডিট শিল্ড সুবিধার আওতায় নামমাত্র প্রিমিয়াম দিয়ে কার্ডধারীর মৃত্যু ও স্থায়ী অক্ষমতার জন্য পুরো কার্ডের বকেয়া সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কার্ডধারীর পরিবার বীমা কোম্পানির কাছ থেকে তাত্ক্ষণিক খরচ মেটাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকেন।

গ্রাহকের সর্বোত্তম সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয় মার্কেন্টাইল ব্যাংক। গ্রাহক তার কাঙ্ক্ষিত সেবা পেয়েই কেবল বিদ্যমান কার্ড আবার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজের পরিচিত ও স্বজনদের তথ্য দিয়ে থাকেন। এছাড়া ব্যাংকিং সম্পর্ক বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকের সদস্যদের বিশেষ সুবিধাসংবলিত ক্রেডিট কার্ড সেবাও দেয়া হয়। ক্রেডিট কার্ড ব্যবসার প্রসারে গ্রাহকের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ড ও এর সংযোজিত সুবিধার সন্নিবেশ করে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। শিগগিরই কার্ড ডিজিটালাইজেশন করতে যাচ্ছে ব্যাংকটি, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করাসহ যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান ও কার্ডসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে। বর্তমানে দেশব্যাপী ১৫২টি শাখা, ৩২টি উপশাখা এবং ১৮৭টি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডের আবেদন, তথ্য অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট সেবা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্টদের। দেশের জনসংখ্যার বিশাল একটা অংশ এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে। স্বভাবতই সে তুলনায়

ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কমই হবে। তাছাড়া সবাই এখনো এ কার্ড ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে অবগতও নয়। সম্প্রতি ক্রেডিট কার্ড প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে গ্রাহকের ই-টিনের পাশাপাশি আয়কর বিবরণী জমার প্রমাণপত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ অবস্থায় অনেক সম্ভাব্য গ্রাহক ক্রেডিট কার্ড সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানতকৃত অর্থ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগে ব্যাংককে নানাবিধ শর্ত পরিপালন করতেই হয়। তবে শর্ত পরিপালনের পরেও অন্য যেকোনো ভোক্তা ঋণের চেয়ে ক্রেডিট কার্ড নেয়া সহজ এবং গ্রাহকবান্ধব। মার্কেন্টাইল ব্যাংকও বিদ্যমান গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ড সেবা নিশ্চিতে গুরুত্ব দেয়।

একসময় ক্রেডিট কার্ড ব্যবসার জন্য সুসংগঠিত ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার অভাব ছিল। ফলে বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন নিয়মে তাদের ক্রেডিট কার্ড সেবা দিত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোরদার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রদত্ত নীতিমালার আওতায় গ্রাহকের সেই ভীতি কেটে গেছে এবং সাধারণ গ্রাহক ক্রেডিট সেবার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতর উৎসবকে সামনে রেখে মার্কেন্টাইল ব্যাংক বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রমজান মাসব্যাপী সিগনেচার, প্লাটিনাম ও গোল্ড ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁতে ইফতার, ডিনার এবং সাহরির বুফেতে একটি কিনলে একটি ফ্রি সুবিধা উপভোগ করবেন। বিখ্যাত লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ে আমাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহক। এছাড়া অসংখ্য লাইফস্টাইল শোরুম এবং অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে ঈদের কেনাকাটায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করবেন।

জরুরি প্রয়োজনে স্বল্পকালীন ঋণের প্রধান উৎস, চিন্তামুক্ত এবং নিরাপদ লেনদেনে ক্যাশের বিকল্প হলো ক্রেডিট কার্ড। দৈনন্দিন পণ্য ক্রয় ও সেবা গ্রহণ, লাইফস্টাইল পণ্য, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, সুপার শপ, স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল, টিকিট বুকিংসহ অনলাইন কেনাকাটা এবং অনলাইনে বিল দেয়ার ক্ষেত্রে কার্ডের ব্যবহার অদ্বিতীয়। লেনদেনে ক্রেডিট কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী। গ্রাহক তার মাসিক খরচের হিসাব বিবরণী আকারে পেয়ে থাকেন। কোনো সুদ বা চার্জ ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত ঋণ ব্যবহার করা যায়।

আমাদের দেশে প্রধানত বিভাগীয় শহরগুলোতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশি। বিষয়টা অবশ্য দেশের সার্বিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। তবে অনলাইন ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বাড়াতে বিভাগীয় শহরের বাইরে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও কার্ড ব্যবহারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা, চিকিৎসা, লাইফস্টাইল শপসহ যাবতীয় অনলাইন প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করছি, যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকও ক্রেডিট কার্ড সেবা উপভোগ করতে পারেন।