মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব প্রায় চার বছর ধরে পালন করছেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি)। দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই ও কৃষি খাতের ভূমিকা, ব্যাংকের বিনিয়োগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে—
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে চাই।
কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাত আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং যেকোনো অর্থনীতিতেই সিএমএসএমই একটি বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের কর্মপরিধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি করতে হলে সিএমএসএমই খাতের কোনো বিকল্প নেই। এখন বড় কোম্পানিগুলো অটোমেশনের দিকে ঝুঁকছে। ফলে কারখানায় জনবলের চাহিদা কমছে। জনবলের কর্মক্ষেত্রের প্রধান জায়গা হয়ে উঠছে সিএমএসএমই।
আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এর অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে সিএমএসএমই খাতকে আমরা সেভাবে এগিয়ে নিতে পারিনি। কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় জায়গা মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার সিএমএসএমইর ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছে। এ খাতের জন্য বিভিন্ন
ধরনের রিফাইন্যান্সিং স্কিমও নিয়ে আসছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওতে সিএমএসএমই খাতের অবস্থান কী?
কয়েক বছর ধরেই আমরা টেকসই সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। এ কারণে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওতে খাতটির অবস্থান এখন বেশ জোরালো। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সিএমএসএমই খাতে আমাদের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় ১৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতের। ২০২৪ সালের মধ্যে এটিকে আমরা ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি।
শুধু দেশের অর্থনীতির জন্যই নয়, যেকোনো ব্যাংকের ঝুঁকির পরিমাণ কমাতে ঋণ পোর্টফোলিও বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। যার উপাদান হতে পারে সিএমএসএমই। আমরা পোর্টফোলিও বহুমুখী করতে সিএমএসএমই ও রিটেইলে বিনিয়োগ বাড়নোর চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সিএমএসএমই খাতের জন্য রিফাইন্যান্স ও প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গঠন করেছে। বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণ ও বিতরণে আপনাদের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
বাংলাদেশ ব্যাংক রিফাইন্যান্স ও প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গঠন করে সিএমএসএমই ও কৃষিসহ কয়েকটি খাতের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে, সেটির আকার ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ১৭-১৮ হাজার কোটি টাকা নিতে পেরেছে। কারণ তহবিল থেকে অর্থপ্রাপ্তির যেসব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো পূরণ করা বেশ কঠিন। ব্যাংকগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণেই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের পুরো অর্থ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ সিএমএসএমই ও কৃষি খাতের জন্য খুবই ভালো। ব্যাংকগুলো চাইলে তহবিলগুলো থেকে অর্থ নিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতে ঋণ পোর্টফোলিও বাড়াতে পারে।
তবে এটিও মনে রাখতে হবে সিএমএসএমই খাত বিশ্বব্যাপীই ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা যেকোনো দুর্যোগে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোই সবার আগে বিপদগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের মতো দেশে জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি অনেক বেশি। যেমন ঘূর্ণিঝড় মোখার গতিপথ পরিবর্তন না হলে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনের অনেক এসএমই প্রতিষ্ঠান ভেসে যেত। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগ ফিরে আসার সম্ভাবনাও থাকত না। সে কারণে ব্যাংকগুলো এ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটু চিন্তাভাবনা করে। রিফাইন্যান্সিং স্কিমের বড় সুবিধা হলো অনেক কম সুদে টাকাটা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া যায়। আর উদ্যোক্তাদের কাছে ২-৪ শতাংশ কম সুদ বিশাল আশীর্বাদ।
বিশেষ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত আপনারা কত পেলেন?
এখন পর্যন্ত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৬২ কোটি টাকা পেয়েছে। সেখান থেকে ৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণও করেছি। পাঁচ বছর আগে আমরা ২৫-৩০ লাখ টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে নিতাম। সে অবস্থান থেকে অনেক দূর এগিয়েছি। আমার মনে হয়, প্রত্যেক ব্যাংককে যদি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় আনা যায়, তাহলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের সহায়তা করছে। অনেক ক্ষেত্রে উনারা সহায়ক ভূমিকাও পালন করে। কীভাবে একটা প্রস্তাব দেয়া উচিত তার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও সভার আয়োজন করছে। কোনো ব্যাংকের সমস্যা হলে ডেকে কারণ জানতে চায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা আমাদের বলেও দেয় কীভাবে একটা প্রস্তাব জমা দিতে হবে।
প্রি-ফাইন্যান্স ও রিফাইন্যান্স স্কিমের ক্ষেত্রে সুদহার অনেক কম। বিষয়টি উদ্যোক্তা তৈরিতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে রিফাইন্যান্স ও প্রি-ফাইন্যান্সে সুদহার আরো কমানো হয়েছে। রিফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ সুদ দেয়া আছে। ২ শতাংশ সুদহার কম কথা নয়। যেকোনো উদ্যোক্তার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০০৭-০৮-এর আগে আমাদের পোর্টফোলিওতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ছিল সামান্য। অবদানের এ হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। শিল্পে কর্মক্ষেত্রের ৭০-৮০ শতাংশ আসছে সিএমএসএমই খাতকেন্দ্রিক বিনিয়োগ থেকে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি শুধু বড় করপোরেটের জন্য হয়নি, এদেরও বড় ভূমিকা আছে। পণ্য, সেবা সরবরাহ প্রক্রিয়া ও বিতরণ পর্যায়েও বিরাট ভূমিকা আছে সিএমএসএমইর। এই একটা খাত আমাদের অর্থনীতিতে বেশ বড় ভূমিকা পালন করছে। পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে আমাদের গ্রাহকরা লাভবান হতে পারবেন।
এখানে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো, এ বিনিয়োগের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। ব্যাংক যে উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করছে সে উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যয় হচ্ছে কিনা তার তদারকি করতে হয়। অনেক সময় জনবলের জন্য এবং সাবধানতার ঘাটতির কারণে এর সুপারভিশন করা সম্ভব হয় না। তাই ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা খুবই কঠিন।
সিএমএসএমই খাতে উৎপাদনমুখী শিল্পের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশে বাণিজ্য ও সেবা খাতে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বেশি। উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা কী?
বাংলাদেশ পঞ্চাশ বছরের পুরনো দেশ। তবে এখানে এখনো বাণিজ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকে যারা বড় শিল্প উদ্যোক্তা, তারা একসময় ট্রেডার ছিলেন। ট্রেডিং করে তারা শিখেছেন, তারপর উৎপাদনে এসেছেন। এখনকার পরিস্থিতিও তাই। আর ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ ব্যাংকের জন্য সহজ। আপনি এলসি করবেন, পণ্য আনবেন, বিক্রি করবেন—বিনিয়োগ উঠে আসবে।
কিন্তু একটা উৎপানমুখী বিনিয়োগে আপনাকে অনেক কিছু দেখতে হবে, দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও এসে যায়। এখন যারা ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের উৎপাদনমুখী শিল্পের দক্ষতা উন্নয়ন হয়নি। একটা ট্রেডিং করতে গেলে পাঁচ-সাতজন লোক এবং এক হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়েই কাজ শুরু করতে পারবেন। কিন্তু যখন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে যাবেন তখন লেবার ম্যানেজমেন্ট ও ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্টসহ অনেক কিছুই আসে। যার জন্য আমাদের নতুন উদ্যোক্তারা এখনো প্রস্তুত নন। তার পরও চেষ্টা চলছে। ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ৪০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করার কথা বলা আছে। আমাদের ব্যাংক সেখানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চলে গেছে। আমাদের ব্যাংকগুলোরও চেষ্টা করতে হবে, গ্রাহকদেরও আসতে হবে।
একটা আশার কথা হচ্ছে শিক্ষিত তরুণরা আগে পাস করে চাকরি খুঁজতেন, এখন অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা অর্জন করছেন। এদের অনেকেই সরাসরি কৃষি খাতে, এসএমই ও ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিংয়ের দিকে যাচ্ছেন। এদের শিক্ষার ভিত্তিটা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সহযোগিতা করবে। আমি আশা করছি, সামনে এটা আরো বাড়বে।
বর্তমানে যারা বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পায়নের সঙ্গে জড়িত, তারা একসময় ট্রেডিংয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন তারা আবার সবকিছু করছেন। ছোট ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যখন কোনো একটি ক্ষেত্রে ফিল্ডে যাচ্ছেন, ওই ফিল্ড বড়রা গ্রাস করছে। এমন হলে ছোট উদ্যোক্তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যায়। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন। এক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা প্রয়োজন কিনা?
শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী একই সমস্যা হচ্ছে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ছোট কোম্পানিগুলোকে খেয়ে ফেলছে। এখন হয়তো আপনি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কিন্তু বিতরণটা অন্য কাউকে দিচ্ছেন। তখন তা আর আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এজন্য বড়রা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়। আমি কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখেছি, এটা শেষ পর্যন্ত সফল হয় না। আপনি কিছু কোম্পানির কথা বলছেন, তারা গিয়েছিল কিন্তু আবার গুটিয়ে নিয়েছে।
এক্ষেত্রে তো ব্যাংকারদের দায়ও আছে। ব্যাংকাররা এ রকম প্রজেক্টে বিনিয়োগ করছেন কেন?
বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে অনেক সময় একটা চাপও থাকে। ধরেন ওই কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে কোম্পানিকে ওইটুকু সাপোর্ট দিতে হয়। এসব কোম্পানি করার সময় ব্যাংকগুলো চেষ্টাও করে করপোরেট গ্যারান্টি নিয়ে বিনিয়োগ করতে, যাতে ব্যবসায় গেলেও ব্যবসা খারাপ হলে ব্যাংক যেন ওটাকে কাভার করতে পারে। এসব করে কখনো সমস্যা হয়নি।
সবসময় মূল ব্যবসায় থাকা উচিত। মূল ব্যবসা থেকে ছোট ব্যবসায় চলে গেলে সমস্যা হয়। বিভিন্ন কোম্পানি যে খারাপ করছে, তার কারণ তারা মূল ব্যবসা থেকে সাইড ব্যবসায় চলে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে কৃষি। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে কৃষির ভূমিকাই সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে। কৃষি খাতে বিদ্যমান ঋণকে যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?
আমাদের জাতীয় আয়ের ১২ শতাংশ অবদান কৃষির। বাংলাদেশ যে এতদূর এগিয়েছে, তার কারণ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। আমাদের কৃষিজীবী, কৃষি নিয়ে যারা কাজ করছেন এবং যারা উদ্ভাবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে। আমাদের আবাদি জমি কিন্তু অনেক কমে গেছে। তার পরও আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। এখানে আমাদের অনেক কিছু করার সুযোগ আছে এবং করছিও। ১০০ বছরেও কৃষিতে আমাদের যেখানে যাওয়া খুব কঠিন ছিল, এখন আমরা সেখানে আছি। আজকে ফিনটেক কোম্পানিগুলোও চেষ্টা করছে কৃষিজীবীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে। ফলে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছি। বিনিয়োগ করতেও খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না।
কৃষকদের জন্য মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কী করছে?
লালমনিরহাটে আমরা ৪৭৯ জন ভুট্টাচাষীকে ছয় কোটি টাকা ঋণ দিয়েছি। এরই মধ্যে তারা চাষ শুরু করে দিয়েছে। এবার ভুট্টার উৎপাদনও ভালো হয়েছে। ক্লাস্টারওয়াইজ আরো কিছু ঋণ দিয়েছি। কয়েকদিন আগে হলুদ চাষীদেরও কিছু ঋণ দেয়া হয়েছে। আমরা ফিনটেক কোম্পনিগুলোর সঙ্গে পার্টনারশিপ করছি, সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। যেসব ক্লাস্টারে কৃষি ঋণ দেয়ার সুযোগ আছে সে সব জায়গায় আমাদের শাখাগুলোর সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। এসএমইর দায়িত্বে যারা আছে তারা এসএমইর দায়িত্বপ্রাপ্তদের দক্ষতা বাড়াতে পুরো বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছে।
কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এখনো এনজিও ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠাননির্ভর। এ কারণে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণের সুদহারও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সরাসরি কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছাতে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার?
এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭০ শতাংশ ঋণ এনজিওর মাধ্যমে এবং ৩০ শতাংশ সরাসরি দেয়ার নিয়ম করেছে। সামনে হয়তো ফিফটি ফিফটি করে ফেলবে। হয়তো উল্টোও হয়ে যেতে পারে। ৭০ শতাংশ সরাসরি, ৩০ শতাংশ এনজিওর মাধ্যমে বিতরণের নিয়ম করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যে মূল্য আমরা ঋণ দিতে চাচ্ছি, এনজিওর মাধ্যমে সে মূল্য দিতে পারছি না। আমি কম রেটে এনজিওকে দিচ্ছি, এনজিও অনেক হায়ার রেটে দিচ্ছে। এটা নিয়ে অনেক বিতর্কও আছে। সেসব বিতর্কে না গিয়ে আমরা আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করছি, যাতে সরাসরি কৃষিজীবীদের এ ঋণ প্রদান করা যায় এবং কৃষিজীবীরাও সেই লাভটা পায়।
শ্রুতলিখন: আরফিন শরিয়ত





