সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন এসেছে এসবই আসলে তার রুচি পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক। এ রূপান্তরের কারণেই মানুষ আজ গুহাবাসী থেকে কসমোপলিটন নাগরিক। বসবাস করে আধুনিক সব ইমারতে অথবা গৃহে, যা তার পাঁচটি মৌলিক চাহিদার একটি। বাসস্থানেই পরিবর্তনের ছোঁয়া সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। একটি আদর্শ বাসস্থানের কিছু মৌলিক দিক আছে। যেমন থাকার ঘর, রান্নাঘর এবং স্নানঘর। এগুলো ছাড়া বর্তমানে বাসা কল্পনাও করা যায় না। আর শহুরে জীবনে মানুষ বাসস্থানের যে বিষয়টায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এনেছে সেটা হলো রান্নাঘর বা কিচেন। মানুষের স্বতন্ত্র চাহিদা ও অর্থনৈতিক সংগতির সঙ্গে সঙ্গে এ কিচেন ট্র্যাডিশনাল থেকে আধুনিক এবং আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক বা হালের স্মার্ট রূপ পেয়েছে।
কর্মব্যস্ত নগর সভ্যতায় নারী ও পুরুষ উভয়ই এখন ঘরের ও বাইরের কাজে সমান পটু। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপন এখন অনেক দ্রুতগতির। এমন দ্রুততার জীবনে সে এখন সব কাজ খুব দ্রুত করতে চায়। তেমনি একটি হলো ঘরের রান্নার কাজ। তবে ঘরের রান্নাবান্নার ফাস্টনেস বা দ্রুততা নির্ভর করে রান্নাঘরের স্মার্টনেস বা আধুনিকতার ওপর। স্মার্ট কিচেনে রান্নার কাজ দ্রুত হয়, ঘর নোংরা কম হয়, পরিষ্কার করা সহজ হয়, নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য কাজ করা সহজ হয় এবং সর্বোপরি স্মার্ট কিচেন দেখতে অনেক সুন্দর ও পরিপাটি হয়, যা রন্ধনকারীর সাইকোলজিতে একটা পজিটিভ ভাইব তৈরি করে। স্মার্ট হলে রান্নাঘর রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং রান্নার জায়গার সর্বাধিক কার্যকারিতা অর্জন করাও সম্ভব হয়। একটি সাজানো রান্নাঘর দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা পেতে সাহায্য করে। এটি রান্নাঘরের উপযোগিতাকে বাড়িয়ে তোলে এবং রান্নাঘরকে একটি মজার জায়গা করে তোলে।
বলা যায়, স্মার্ট কিচেনের সূচনা হয় রান্নাঘরের দেয়ালে ও মেঝেতে টাইলসের ব্যবহারের মাধ্যমে। শুরুর দিকে অনেকে শুধু মেঝেতে টাইলস করাত। ধীরে ধীরে চুলার তাকসহ কিচেন সিংকের আশপাশে টাইলসের ছোঁয়া লাগে। রান্নাঘরের দেয়ালে মানুষ প্রথম দিকে অর্ধেক দেয়াল টাইলস করত। কিন্তু স্মার্ট কিচেনে এখন সম্পূর্ণ দেয়ালেই টাইলস ব্যবহৃত হয়। এর পেছনে কারণ ছিল, টাইলস ব্যবহার করলে রান্নাঘর পরিষ্কার করা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। দেয়ালে তেল চিটচিটে লেগে গেলে যেমন পরিষ্কার করা বেশ কঠিন, টাইলস ঠিক তেমন নয়। হালকা গরম পানি আর ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিলেই হয়ে যায়। তবে একজন হাফ দেয়াল টাইলস করবে না পুরো দেয়াল টাইলস করবে এটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব রুচির ওপর নির্ভর করবে।
রান্নাঘরের দেয়াল ও মেঝের জন্য দেশের সব টাইলস কোম্পানির আলাদা সিরিজ টাইলস আছে। এসব টাইলসের সাইজের ভিন্নতা থাকে। যেমন ৮ বাই ১২ ইঞ্চি টাইলস, ১০ বাই ১৬ ইঞ্চি, ১২ বাই ২৪ ইঞ্চি টাইলস। এ রকম আরো অনেক সাইজ আছে। সাইজভেদে দামের ভিন্নতা হয়ে থাকে। টাইলসের উপাদান অনুযায়ীও ভিন্নতা পাওয়া যায়। যেমন পিওর সিরামিক উপাদান দিয়ে উৎপাদিত টাইলসকে বলে ‘হোয়াইট বডি টাইলস’, আবার যেটা নরমাল লাল মাটি দিয়ে বানানো হয় সেটাকে বলে ‘রেড বডি টাইলস’।
দেশের লিডিং টাইলস কোম্পানিগুলো হলো আকিজ সিরামিক, আরএকে সিরামিক, মীর সিরামিক, এক্স সিরামিক, গ্রেট ওয়াল সিরামিক, চায়না-বাংলা সিরামিক (সিবিসি), ফ্রেশ সিরামিক ও শেলটেক সিরামিক। এসব কোম্পানি সারা দেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ডিলার নিয়োগ করে টাইলস বিক্রি করে। তাই সারা দেশের বিভিন্ন দোকানে টাইলস কিনতে পাওয়া যায়। এখন বাংলাদেশের টাইলসের যা চাহিদা আছে তার ৭০ ভাগ দেশীয় কোম্পানিগুলো পূরণ করে আর বাকি ৩০ ভাগ আসে চায়না থেকে।





