‘পানির অপর নাম জীবন’ কথাটির সঙ্গে জীবনের প্রথম ভাগেই মানুষ পরিচিত হয়। কিন্তু কথাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। পানি যদি বিশুদ্ধ না হয় তখন এ পানিরই অন্য নাম হয়ে ওঠে ‘মরণ‘। পানির বিকল্প কোনো কিছুই নেই। তবে সেটা যদি হয় বিশুদ্ধ, তবেই। পানি যদি বিশুদ্ধ না হয়, তাহলে তা মানুষের জীবনের অনেক ক্ষতির কারণ হয়। পানির মাধ্যমে যে রোগ ছড়ায়, তাকেই সাধারণত পানিবাহিত রোগ বলে। যেমন ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস ইত্যাদি। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে এখন আর পানিবাহিত রোগের কারণে মহামারী দেখা দেয় না। নানাভাবে পানিবাহিত রোগ ছড়ায়। দূষিত পানি পান করে অনেকেই ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হন।

বিভিন্নভাবে নদ-নদী, খাল-বিল ও ভূগর্ভস্থ পানিতে মলের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এ পয়োবর্জ্য এবং বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনার দূষিত পানি যদি টিউবওয়েলের পানি ও বিভিন্ন কাঁচা শাকসবজিতে মেশে সেসবও দূষিত করতে পারে। বিশুদ্ধ পানিতে ভালোভাবে হাত-মুখ না ধুয়ে খাবার খেলে পানিবাহিত রোগের জীবাণু পেটে গিয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এছাড়া হাটবাজারে, শহরের রাস্তায়, ফুটপাতে অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার রান্নায় বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয় না। কেউ কেউ ফুটপাতে ফলমূল কেটে দূষিত পানি দিয়ে ধুয়ে বিক্রি করেন। কেউ আবার দূষিত পানি দিয়ে শরবত তৈরি করেন। এসব উৎস থেকে লোকজন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হন।

টিউবওয়েলের পানি ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে সরবরাহ করা ট্যাপের পানি যদি বিশুদ্ধ না হয়, তাহলে এসব উৎসের পানি পান করার আগে ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করতে হবে। ১০ মিনিট ফোটানোর পর কিছুক্ষণ রেখে দিলে পানির বেশির ভাগ জীবাণু মরে যায়। এরপর দৃশ্যমান জীবাণুগুলো তলানিতে পড়ে যায়। তলানি ফেলে দিয়ে ওপরের পানি ব্যবহার করা যাবে।

তবে প্রতিকূল পরিবেশ ও অন্যান্য কিছু কারণে সব জায়গার পানি ফোটানো সম্ভব হয় না। পানি ফোটানোর মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করা সম্ভব হলেও সবসময় পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত থাকা যায় না। সেক্ষেত্রে পিউরিফায়ারের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করা যেতে পারে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে, সেক্ষেত্রে পিউরিফায়ারে পানি বিশুদ্ধ করাই উত্তম। তাছাড়া পিউরিফায়ারে পানি বিশুদ্ধ করাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার পিউরিফায়ার পাওয়া যায়। এর মাঝে আছে ম্যানুয়াল পিউরিফায়ার ও স্মার্ট পিউরিফায়ার। ম্যানুয়াল ও স্মার্ট পিউরিফায়ারের বেসিক পার্থক্য হলো একটিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় অন্যটিতে বিদ্যুৎ লাগে না। ম্যানুয়ালে বিদ্যুৎ লাগে না, কিন্তু স্মার্ট পিউরিফায়ারে বিদ্যুৎ লাগে, তবে বিদ্যুৎ খরচ তেমন বেশি পড়ে না। আরো একটি পার্থক্য হলো ম্যানুয়াল পিউরিফায়ারে পানি ঢেলে ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু স্মার্ট পিউরিফায়ার বাড়ির পানির লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। আলাদা করে পানি ঢালার প্রয়োজন পড়ে না। ম্যানুয়াল পিউরিফায়ার ও স্মার্ট পিউরিফায়ারে ফিল্টারের সংখ্যায়ও রয়েছে বেশকিছু পার্থক্য।

ওয়াটার পিউরিফায়ারের প্রচলন ও ব্যবহারে বড় পরিবর্তন এনেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্র্যান্ড পিওর-ইট। ম্যানুয়াল পিউরিফায়ার উৎপাদনের মাধ্যমে এ ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তাদের ম্যানুয়াল ও স্মার্ট দুটি পণ্যই আছে। তবে ম্যানুয়াল পিউরিফায়ার হিসেবে ইউনিলিভারের ‘পিওর-ইট ক্ল্যাসিক‘ শুরু থেকেই মার্কেট লিডার।

ইউনিলিভার ছাড়াও বাংলাদেশে ভালোমানের ওয়াটার পিউরিফায়ার তৈরি করছে ওয়ালটন ও আরএফএল কোম্পানি। এ কোম্পানিগুলো সবাই স্মার্ট ও ম্যানুয়াল ওয়াটার পিউরিফায়ার উৎপাদন করে। বর্তমান সময়ে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাসা, বাড়ি ও অফিস-আদালতে সমানতালে ম্যানুয়াল ও স্মার্ট ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কমেছে পানিবাহিত রোগ এবং অন্যদিকে পানি ফুটাতে যে গ্যাস ব্যবহার হতো তা সাশ্রয় হচ্ছে।