স্মার্ট কিচেন বলতে আমরা বুঝি মডার্ন কিচেন সেটআপ। যেখানে থাকবে সব ধরনের আধুনিক সব ইউটিলিটি। এমনকি স্মার্ট কিচেনের ফসেট বা পানির কলও হবে আধুনিক। বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এমন কিছু পণ্য যেগুলো আপনার চাহিদা পূরণে সক্ষম। আধুনিক রান্নাঘরে ফসেটগুলোর কিছু গুণ থাকা দরকার। অবশ্যই সেগুলোর গুণগত মান ভালো হওয়া দরকার। 

রোসার ব্র্যান্ড লিড গোলাম রাব্বানী বলেন, স্মার্ট কিচেনে কখনো প্লাস্টিকের বা পিভিসিনির্ভর ফসেট ব্যবহার করতে বলা হয় না। আধুনিক রান্নাঘরে ব্যবহৃত ফসেটের লুক যেমন ভালো হবে, তেমন গুণগত মানও ভালো হতে হবে। রোসা স্যানিটারি ও বাথওয়্যার বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন ও ফিচার্ড ফসেট বাজারে নিয়ে এসেছে। যেখানে মিক্সচার ফ্যাসিলিটিও আছে। 

ফসেট থেকে আসা পানিটা যদি খুব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে তাহলে যিনি বাসনকোসন পরিষ্কার করবেন তারা ভিজে যাবেন। পানি ছিটে ডানে বামে পড়ে কিচেনটা কর্দমাক্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, ফসেটের ক্ষেত্রে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর মুভেবিলিটি। পানি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে যদি পুরো বেসিনটা ধুয়ে ফেলা যায় তাহলে ভালো হয়। স্মার্ট কিচেনের ফসেট কেনার সময় দেখা হয় এর শেপটা কেমন, পানিটা কোথায় পড়বে, ফসেটটা সিংকের সঙ্গে ম্যাচ হবে নাকি সিংকের বাইরে পড়ে যাবে? ফসেট কেনার ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় ভাবতে হয়, পানির ফ্লো কেমন হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নির্ভর করে ফসেটের কী কী ফিচার আছে সেটার ওপর। সেজন্য প্রথমেই দেখতে হবে ফসেটটা কেমন মানের, কী দিয়ে তৈরি? 

যে ফসেটটা শতভাগ ব্রাস বা পিতলের তৈরি হয় সেটা সবচেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও উপযোগী হয়। গোলাম রাব্বানী যুক্ত করেন, রোসা বাথওয়্যারের ফসেটগুলো ব্রাস দিয়ে তৈরি। ফসেট দেখতে কেমন তা নির্ভর করে ফসেটের কালার বা শাইনি ভাব কতদিন বজায় থাকে সেটার ওপর। প্রথমদিকে খুব চকচকে থাকল, তারপরে সেটার শাইন চলে গেল। তখন স্মার্ট কিচেনের সঙ্গে ফসেটটা আর স্যুট হবে না। সেজন্য দেখতে হবে ফসেটের বডিতে যে ইলেকট্রোপ্লেটিং কোটিং ব্যবহার হয়েছে সেটা কী গ্রেড, কয় লেয়ারের কোটিং করা হয়েছে এবং সেটার মান কেমন? রোসার বাথওয়্যারে ১২ বছরের শাইনিং গ্যারান্টি থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় সৌন্দর্য বজায় থাকে। তাছাড়া এ ফসেটে যেভাবে পানি পড়ে সেটা হবে খুব ফোমি ও সুদিং। আশপাশের কোনো জায়গা এতে নোংরা হবে না, ব্যবহারকারীও ভিজবে না। 

ঠাণ্ডা-গরম পানি মিক্সচারের বিষয়টিও আর আগের মতো নেই। চুলায় পানি গরম করে তারপর কোনো কিছু ধোয়া হবে এমন পরিস্থিতি আর নেই। এখন সবাই চাই যেন ফসেটেই ঠাণ্ডা গরমের মিক্সচারটা হয়। গোলাম রাব্বানী বলেন, যে প্রযুক্তিটা আমরা গোসলের পানির ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি সেটা এখন কিচেনেও আছে। আমরা হাঙ্গেরির ক্যারক্স কার্টিজ ব্যবহার করি। এটা দিয়ে আপনি প্রোপার ব্লেন্ড অব মিক্সিংটা পাবেন। হয়তো আপনি চাইছেন যে আপনি কোনো তৈলাক্ত জিনিস ওয়াশ করবেন তাহলে গরম পানি লাগবে। হয়তো আপনি গরম পানির কল ছাড়ছেন কিন্তু পানিটা ঠাণ্ডা আসছে, মানে সেই মিক্সিংয়ের বাল্বটা কাজ করছে না। সেটা আমরা ভালো মানেরটা নিশ্চিত করছি। 

লাইফস্টাইলের ক্ষেত্রে মানুষ সবসময় চায় বেটার কোনো কিছু ব্যবহার করতে। পুরনো দিনে আর আমরা কেউ ফেরত যেতে চাই না। একসময় কি ছিল, বালতিতে করে পানি নিয়ে এসে তারপর রান্নাঘরে বসে ধোয়া হতো। এরপর সেখানে ফসেট এল, ওয়াটার ট্যাপ টেকনোলজি এল, এখন মানুষ সবাই চায় ভালো মানের ফসেট, ভালো মানের সেটআপে। যেটা তার জীবনকে সহজ করবে। জীবনের যে সময়টা সে রান্নাঘরে কাটাবে সেটা যেন আরামদায়ক হয়। 

ফসেটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বা দীর্ঘ সময় শাইন বজায় রাখার জন্য কোনো কেমিক্যালজাতীয় পণ্য ব্যবহার না করার কথা বলেন গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, হয়তো ফসেটে ময়লা লাগল বা শাইন চলে গেল। তাহলে কেমিক্যালজাতীয় পণ্য ব্যবহার করে সেটাকে শাইনি করার চেষ্টা করবেন না। মেটাল ফসেটের বডিতে কেমিক্যাল ব্যবহার করলেই শাইন আরো চলে যাবে। সেজন্য সেটার ইন বিল্ড কোয়ালিটিতে বেশি ফোকাস করতে হবে। তারপর শুধু সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। রোসা ফসেটে অন্তত ১২ বছর এই শাইনটা আপনি পাবেন। এমনকি যদি যেটা আমাদের উপকূলীয় এলাকার অনেক লবণাক্ত পানি হয় তবুও এসব ফসেটের গুণগত মান বজায় থাকবে।

রাজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রির সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আসিফুল ইসলাম বলেন, স্মার্ট কিচেন স্মার্ট হয়েছে মূলত দ্রুত পরিবর্তনের মাধ্যমে। আগে সাধারণত নরমাল কল ব্যবহার করা হতো। ৩০-৪০ বছর সেটাই চলে এসেছে। এখন ব্যবহার করা হচ্ছে লিভার সিস্টেমের কল। এটা ব্যবহার করা সহজ। রাঁধুনির হাতে থাকা তেল-চর্বি সাধারণ কল দিয়ে পরিষ্কার করা বিরক্তিকর। লিভার সিস্টেমের কলে সেটা বেশ সহজ। আর আগে ঠাণ্ডা-গরম পানির মিক্সচার কম ব্যবহার করা হতো। এখন আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গ যারাই ফ্ল্যাট কেনেন তারা সিংক মিক্সচার পানির লাইন ব্যবহার করেন। দেশীয় পণ্যগুলোর রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি থাকে। সেটা টেকসইও।