দুই দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে তৈরি হাসপাতালটির শীর্ষ পদে আছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফারিন জাহান সিগমা
হৃদরোগের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা দেশেই সহজলভ্য। আগে দেশের বাইরে গিয়ে এ সেবা নেয়ার প্রবণতা ছিল। উন্নত সেবা যেহেতু এখন দেশেই সহজলভ্য, পরিস্থিতি কি বদলেছে এবং রোগীদের বিদেশ গমনের প্রবণতা কি কমেছে?
বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশ কেন পুরো বিশ্বেই রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যেমন পার্শ্ববর্তী দেশে যায়, ভারতের মানুষও কিন্তু সিঙ্গাপুরে যায়, সিঙ্গাপুরের মানুষ ইউরোপ-আমেরিকায় যায়। সুতরাং এটি কখনো বন্ধ করা যাবে না। এখন প্রশ্ন যেটা কমেছে কিনা। অবশ্যই কমেছে এবং এ দেশে চিকিৎসা নেয়ার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হৃদরোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন গর্ব করে। আমি যখন ভারতে যাই, সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতিও আমি দেখি। ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখন বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসা নেয়। বাংলাদেশে এখন উন্নত বিশ্বের প্রায় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, বিশেষ করে হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে। উন্নত বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক চিকিৎসা, যেমন হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাইমারি ভিসিআই, অর্থাৎ এখনই পেশেন্টকে ক্যাথল্যাবে নিয়ে যাবে এবং এখনই পেশেন্টকে হার্টে রিং পরাবে। যার ফলে মানুষটি বেঁচে যাবে। তবে শর্ত যেটা, অবশ্যই তাকে গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে আসা লাগবে। যেটি হয়ে থাকে—মানুষ সময় নষ্ট করে, গ্যাসের ব্যথা বলে, সময় নষ্ট করে কালক্ষেপণ করে। এমন রোগীও আমরা পেয়েছি পথিমধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, রাস্তায় মারা গেছে বা ঘুমের মধ্যে মারা গেছে। সুতরাং যারা এই গোল্ডেন টাইমগুলোকে ফলো করতে পারছে তারাই ভালো থাকবে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন বুকে ব্যথা হলে অবহেলা না করতে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি হৃদরোগের চিকিৎসাসমৃদ্ধ হাসপাতালে আসবেন। যারা এটা করছে তারা সুফল পাচ্ছে। আমি সবাইকে বণিক বার্তার মাধ্যমে জানাতে চাই যে বাংলাদেশে এখন হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয় না বললেই চলে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৫০টিরও বেশি কার্ডিয়াক সেন্টার রয়েছে, বিশেষ করে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ একটি ওয়ান স্টপ কার্ডিয়াক হাসপাতাল, যেখানে সব ধরনের সার্জারি করা হয়। এনজিওগ্রাম থেকে শুরু করে প্রাইমারি ভিসিআই এনজিওপ্লাস্টি, পেসমেকার প্রতিস্থাপন, কার্ডিয়াক সার্জারি, ভালভ সার্জারি, রিডো কার্ডিয়াক সার্জারি অর্থাৎ একবার কার্ডিয়াক সার্জারি অপারেশন হয়েছিল সেটি ফেইল করেছে, এজন্য পুনরায় সার্জারি করা। আরেকটি আমরা বলে থাকি হাই রিস্ক বাইপাস সার্জারি। যেসব পেশেন্টকে অনেক সময় অপারেশন করা যায় না। অর্থাৎ হার্টের ইরেকশন ফেকশন বা ক্যাপাসিটি অনেক কম থাকে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশেন্টকেও ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক সেন্টারে আমরা সম্পূর্ণ চিকিৎসা দিচ্ছি।
হৃদরোগে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিদেশ আর দেশের চিকিৎসার মধ্যে তুলনা করবেন কীভাবে?
আসলে এটি একটি ইন্টারন্যাশনাল চিকিৎসা প্রটোকল মেনে চলে। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট অ্যাসোসিয়েশন যে গাইডলাইনটা করে দিয়ে গেছে আমরা বাংলাদেশেও কিন্তু কার্ডিয়াক চিকিৎসায় সেই ব্যবস্থাটা অনুসরণ করি। অথবা লন্ডনের কোনো হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওর হলে যে চিকিৎসাটা দেয়া হয় সেই চিকিৎসাটা এখানে ফলো করা হয়। এমন নয় যে বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা আলাদা, এগুলো হলো ইন্টারন্যাশনাল প্রটোকল অব কার্ডিয়াক ট্রিটমেন্ট ম্যানেজমেন্টের নিয়ম। সেই দিক বিবেচনায় চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো অলমোস্ট সেইম। যন্ত্রপাতির দিক দিয়েও অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। আমরা এখন এলসি করলেই যন্ত্রপাতি আনতে পারছি। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে যে ক্যাথল্যাব রয়েছে, আমাদেরও সেইম ক্যাথল্যাব, যেটি দিয়ে এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি করা হয়। অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে যন্ত্রপাতি আরো আধুনিক করা যায়। এখন মানুষের একটি মানসিক শান্তি রয়েছে যে আমি বাইরের দেশে চিকিৎসা করলে তা ভালো হবে। তবে আমি বণিক বার্তার মাধ্যমে সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে বাংলাদেশে এখন হাতের মুঠোয় উন্নততর চিকিৎসা রয়েছে, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। এ চিকিৎসাগুলো কিন্তু বিদেশে অনেক এক্সপেনসিভ। বাংলাদেশে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকায় একটি বাইপাস করানো সম্ভব। ভারতের যেকোনো মধ্যম মানের হাসপাতালে সেটি করাতে ৫-৭ লাখ রুপি লাগে। যেটি বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১০ লাখ টাকা। সিঙ্গাপুরের যে মাউন্ট এভারেস্ট হাসপাতাল, সেখানে বাইপাস সার্জারি করাতে বাংলাদেশী টাকায় ৪০ লাখ টাকা লাগে। অথচ যে সার্জারি তারা করে থাকে বিটিনাস সার্জারি। সেই সার্জারি কিন্তু আমরা ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে করছি। জনগণকে আবার আশস্ত করতে চাই যে এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা উচিত। কার্ডিয়াক চিকিৎসা বা হৃদরোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশ গর্ব করে। সব ধরনের উন্নত মানের চিকিৎসাই বাংলাদেশে বিদ্যমান।
হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় উন্নত সেবা প্রাপ্তির সুযোগ কতটা আছে?
বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি কার্ডিয়াক সেন্টার রয়েছে। আজ থেকে ১৫ বছর আগে বাংলাদেশে দু-একটি সরকারি কার্ডিয়াক সেন্টার ছাড়া কোনো সেন্টারই ছিল না। এ সংখ্যা কিন্তু ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরো কিছু হাসপাতাল হচ্ছে, আরো কিছু কার্ডিয়াক সেন্টার হচ্ছে। এর পরও কিন্তু তার যে সামষ্টিক সংখ্যা, তা আমাদের দেশের জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। আমাদের আরো অনেক বেশি সাপোর্ট দরকার। সেক্ষেত্রে সরকারের একার পক্ষে এত লোড নেয়া সম্ভব নয়। বেসরকারি বা আধা শাসিত হাসপাতালগুলো কিন্তু উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এগিয়ে আসছে। অনেক বিদেশী হাসপাতাল বাংলাদেশে আসছে। এটিকে আমরা সাধুবাদ জানাই, এতে সামগ্রিকভাবে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন হচ্ছে। যখন একটি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করা হবে, তখন তার সার্ভিসের মান উন্নয়ন হবে। আরো অনেক বেশি কার্ডিয়াক সেন্টার খুলতে হবে, আরো অনেক বেশি কার্ডিয়াক সেন্টারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাহলে এ দেশের মানুষকে শতভাগ হৃদরোগ চিকিৎসা আমরা সফলভাবে দিতে পারব।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দেশের হৃদরোগ চিকিৎসা খাতে কেমন ভূমিকা রাখতে পারছে?
ইউনিভার্সেল মেডিকেল হাসপাতাল একটি ওয়ানস্টপ মেডিকেল হাসপাতাল, যেটি ৫০০ শয্যা অনুমোদিত, বর্তমানে ৩০০ শয্যা চালু রয়েছে। সেখানে ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আলাদা ইউনিট রয়েছে, তেমনিভাবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন আমাদের অনেক সমৃদ্ধ। জিরো থেকে এডাল্ট আইসিইউ রয়েছে আমাদের। কভিডসহ ১০০ শয্যার আইসিইউ রয়েছে, আমাদের ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্রমা ম্যানেজমেন্ট বা অ্যাক্সিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট রয়েছে। আমাদের প্রসূতি বিভাগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। যেখানে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বা হাইরিস্ক প্রেগন্যান্সিকে ডিল করে থাকি। ২৪ ঘণ্টা আমাদের গাইনি স্পেশালিস্ট রয়েছেন। আমাদের পেডিয়াটিকস ও নিউরোলজিস্ট যে আইসিইউ রয়েছে সেটি সারা দেশের বিখ্যাত ও রেফারেন্স সেন্টার হিসেবে পরিচিত। এখানে তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার ২৪ ঘণ্টা থাকেন। আমাদের কার্ডিয়াক সেন্টারেও কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কার্ডিয়াক সার্জন থাকেন। ওটিতে ২৪ ঘণ্টা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট থাকেন যার কারণে মধ্যরাতে বা ভোররাতে অথবা যেকোনো সময় কোনো রোগী এলে আমরা ইমার্জেন্সি চিকিৎসাসেবা দিতে পারি। আমাদের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট ৩৬৫ দিন/২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। আমাদের হাসপাতাল কোনো উৎসবেও বন্ধ থাকে না। ৩৬৫ দিনই সব সার্ভিস সবার জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া বিশেষ দিনে আমরা কখনই আমাদের সার্ভিসের চার্জ বাড়াই না। এছাড়া এখানে ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে। আমরা প্রতি মাসে একজন দরিদ্র ও একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা দিই। এ চিকিৎসায় রোগী শুধু ওষুধের দামটি দেবে, বাকি চিকিৎসা আমরা বিনামূল্যে করব। এটি আমাদের সিএসআর হিসেবে অঙ্গীকার মানুষের প্রতি।
হৃদরোগীদের জন্য আপনাদের সেবার ধরন সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতাল ওয়ানস্টপ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে কেউ বুকে ব্যথা নিয়ে এলে তার হার্ট অ্যাটাক, ডায়াগনসিস থেকে শুরু করে সেটার চিকিৎসা, পরবর্তী সময়ে যদি এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হার্টে রিং পরাতে হয় বা এনজিওগ্রাম করতে হয় বা এনজিওপ্লাস্টি করতে হয় যদি কোনো হার্টের রিদমে সমস্যা হয় বা যাকে হার্ট ব্লক বলি আমরা। ইমার্জেন্সি/টেম্পোরারি পেসমেকার থেকে শুরু করে প্রাইমারি পেসমেকার করা, হার্টে রিং পরানো, যদি এনজিওগ্রাম বা ডায়াগনসিস হয় তাহলে রিস্ক থাকে, টিভিডি হয়ে থাকে, যাকে ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ বলে, যার চিকিৎসা বাইপাস সার্জারি বা ভালভ সার্জারি, সবকিছুই সম্ভব। উন্নত দেশের একটি কার্ডিয়াক সেন্টারে যা যা সম্ভব, তা ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক সেন্টারে সব সম্ভব। সেটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই সম্ভব।
আপনাদের বর্তমান চিকিৎসাসেবা আরো উন্নত ও যুগোপযোগী করার জন্য সামনে কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?
আমাদের কনস্ট্রাকশন দ্রুতগতিতে চলছে এবং এটি সুপার স্পেশালিস্ট মেডিকেলে রূপান্তরিত হচ্ছে। মোট ১৯ তলা ভবন তৈরি করছে। এর মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব চিকিৎসা থাকবে। এর নাম হচ্ছে ইউনিভার্সেল অব মেডিসিটি। যেখানে এক ছাদের নিচে একটা মানুষের সব চিকিৎসা থাকবে। যে চিকিৎসা বিদেশে গিয়ে কোটি টাকায় করতে হয়, সেটি আমরা লাখ টাকায় করব। যেটা লাখ টাকায় করতে হয় সেটার খরচ অনেক কম লাগবে। আমরা লিভার প্রতিস্থাপনের অলরেডি কার্যক্রম শুরু করেছি, যেটির কনস্ট্রাকশন হয়ে গেলেই আমরা, ভারতের যে সবচেয়ে কমন লিভার প্রতিস্থাপন সেন্টার রয়েছে রেলা ইনস্টিটিউট তাদের সঙ্গে আমাদের এরই মধ্যে এমওইউ সাইন হয়ে আছে। আমরা কিডনি প্রতিস্থাপন, বোনম্যারো প্রতিস্থাপন, বোন অ্যান্ড জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, ভবিষ্যতে হার্ট ও লাং প্রতিস্থাপনেরও আমরা স্বপ্ন দেখছি। সেই অনুযায়ী আমাদের ট্রান্সপারেন্ট ওটি কমপ্লেক্স তৈরি করছি। তার সঙ্গে এটি একটি কোয়াটার্নি রিকোয়ার, আমরা উন্নত বিশ্বের একটি বিশ্বমানের সেন্টার করছি আমরা, বিদেশী আদলের একটি হাসপাতাল হচ্ছে। এটি ৫০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হচ্ছে। আগামী বছরের মাঝামাঝিতে আমরা স্পেস ছেড়ে দেব এবং মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেব।
দেশে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ অর্থনীতিকে কীভাবে উপকৃত করবে বলে মনে করেন?
অবশ্যই এটা অর্থনৈতিক উন্নতিতে সাহায্য করবে। ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসা নেয়। এসব মানুষ এত দিন ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিত। প্রতি বছর ৩-৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার মানুষ বিদেশের চিকিৎসার জন্য খরচ করছে, যা দিয়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর একটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব। সুতরাং অবশ্যই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। আমি বণিক বার্তার মাধ্যমে একটি কথা দেশবাসীকে জানাতে চাই যে বাংলাদেশের মতো এত স্বল্পমূল্যের ও সহজলভ্য চিকিৎসা আর কোথাও নেই। আপনি মধ্যরাতে বা ভোররাতে চাইলেই একজন স্পেশালিস্ট পাচ্ছেন। আপনার এ মুহূর্তে যে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে আপনি চাইলেই পাচ্ছেন। ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় আপনি সেটা পাবেন না। আপনাকে আগে কনসার্ন হতে হবে জিপির মাধ্যমে, জিপি কনফার্ম করলে তাকে ওই ডাক্তারের কাছে যেতে দেয়া হবে। অন্যথায় বিদেশে চিকিৎসক পাওয়া রীতিমতো ঈশ্বর আল্লাহ ভগবান পাওয়ার শামিল। বিশেষ করে ইংল্যান্ড-আমেরিকায়। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আপনারা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখুন। কারণ আপনারা যদি বিদেশ কখনো যান তাহলে বুঝতে পারবেন, এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা গণমুখী ও কতটা সহজলভ্য। মাত্র ২ লাখ টাকায় এ দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব, যা ভারতের যেকোনো হাসপাতালে করতে কমপক্ষে ১০ লাখ রুপির প্রয়োজন। অনেকে ভুল কথা বলে বা ভুল ব্যাখ্যা দেয় এ দেশের চিকিৎসাসেবা মানুষের নাগালের বাইরে। কারণ মানুষ পকেটের টাকা খরচ করে চিকিৎসাসেবা নেয়। বিদেশের মানুষের পকেটের টাকা খরচ করে চিকিৎসা করতে হয় না। কারণ তাদের স্বাস্থ্য বীমা আছে। আমাদের দেশেও স্বাস্থ্য বীমা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশেও স্বাস্থ্য বীমা বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। তাহলে ডাক্তার-রোগীর টানাপড়েন যে আমরা মাঝে মাঝে দেখতে পাই, সেগুলো দূর হয়ে যাবে। বছরে যদি কেউ ৫ হাজার টাকার প্রিমিয়াম করে, তাহলে সে ৫ লাখ টাকার কাভারেজ পাবে।





