আমার সৌভাগ্য যে, চাকরি জীবনে ড. মসিউর রহমান এবং ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলামকে পেয়েছি। দুজনের সঙ্গেই সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। যদিও ড. মসিউর রহমানের নাম শুনেছিলাম আগে থেকেই। তবে প্রথম কাজ করার সুযোগ হয় তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান হিসেবে জয়েন করার পর। তখন আমি কর কমিশনার। আর সেটাই প্রথম সরাসরি একসঙ্গে কাজের সুযোগ। তার বিভিন্ন গুণ, বোঝাপড়া এবং সমস্যা সমাধানের দ্রুততার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। পরিচিত হই তার প্রায়োগিক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে। তার সহযোগিতায়ই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর বিভাগে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা দূর করতে সক্ষম হয়েছি। সব সময় এসব বিষয়ে সহযোগিতা করতেন তিনি। মানুষ হিসেবে উনি অত্যন্ত স্নেহশীল। অত্যন্ত উইটি, কথায় সব সময় হাস্যরস ও বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য থাকে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শেষ হতে পারত। কিন্তু উনি ওখান থেকে চলে যাওয়ার পরও আমার সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। উনি যখন ইআরডির সেক্রেটারি, তখনো আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ২০১০ সালের দিকে শেয়ার মার্কেট ক্রাশ করার সময়ে আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে একসঙ্গে কাজ করেছি। ড. মসিউর রহমান প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হন। সব সময় তার মধ্যে আমি একটা প্রাগম্যাটিক মনোভাব দেখেছি। কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সেটা নিয়ে। 

এর পরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সভা-সমিতিতে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। সব সময় উনার আন্তরিকতা ও উষ্ণতা আমায় মুগ্ধ করেছে। উনার অনেক জুনিয়র আমি। তা সত্ত্বেও তার যে উষ্ণতা ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণ দেখিয়েছেন, তাতে মুগ্ধ হয়েছি। এমন ব্যক্তির সাহচর্য আমি সব সময় মনে রাখব। সৌভাগ্য হিসেবে মনে করব। 


ড. মির্জ্জা আজিজকে অবশ্য অত আগে থেকে চিনতাম না। তিনি যখন সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে জয়েন করেন, তখন আমি বাণিজ্য সচিব। এ সূত্রেই উনার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। পরবর্তী সময়ে উনি চলে গেলে আমি উত্তরসূরি হিসেবে জয়েন করি। এ কারণে উনার কাজ-কর্ম ও অবদান দেখার সৌভাগ্য হয়। কিছুদিন পরই তিনি কেয়ারটেকার সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে জয়েন করেন। তখন আবার সরাসরি উনার অধীনে কাজ করি। তখন দেখেছি উনার প্রগাঢ় জ্ঞান, পেশাগত অর্জন এবং আমার প্রতি উনার স্নেহ। সবকিছু মিলিয়ে আমার জীবনে যে কয়জন বস পেয়েছি, তার মধ্যে ড. মসিউর রহমান ও ড. আজিজ অন্যতম। আমি যে সময়ই যে কাজ করেছি, তাতে কখনো ড. আজিজকে বাধা দিতে দেখিনি। উনি পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন কাজ করার জন্য। স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। যখন প্রয়োজন হয়েছে, নিজে গিয়ে আলোচনা করেছি তার সঙ্গে। আমাদের যোগাযোগ এখন পর্যন্ত রয়েছে। স্টক মার্কেটের যেকোনো আলোচনায় আমরা থাকতাম। এমনকি টকশোতেও একসঙ্গে আলোচনা করেছি। অনেক কিছু শিখেছি তার কাছ থেকে। প্রতিবার কথা বলার পর ম্যাক্রো-ইকোনমিকস নিয়ে নতুন ধারণা জন্মেছে। 

ড. মসিউর রহমান ও মির্জ্জা আজিজ দুজনেই অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত স্বভাব এবং স্নেহপরায়ণ। আমার জীবনে এমন দুজন বস পেয়েছি, সেটা সব সময় মনে রাখব। এ দুজনের কাছ থেকে যে অনুপ্রেরণা ও সুযোগ পেয়েছি, সেটা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি। সেগুলো আমাকে সাহায্য করেছে ক্যারিয়ারে। 

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান