ড. মসিউর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ইআরডি সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯২ ও ১৯৯৮ সালে দুই দফায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মূল্য সংযোজন কর প্রবর্তন ও সম্প্রসারণের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান বিভাগ (পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক) ও রেলপথ বিভাগের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিন বছর শেষ হওয়ার কিছু আগে ২০০১ সালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদ থেকে অবসরে যান। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও অন্যান্য বহুজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করেছেন। ইফাদের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ইভ্যালুয়েশন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ড. মসিউর রহমান সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তিনি ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি মন্ত্রীর মর্যাদায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগ দলীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে পুনরায় একই পদে নিয়োগ পান। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়ছেন উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত, তখন একটির পর একটি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উঠে এসেছে। এ কাজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঠিক পরামর্শ ও পরিকল্পনা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ড. মসিউর রহমান ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য তার কর্মজীবনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। এ সম্পর্কে গত ১৫ আগস্ট ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একটি কথোপকথনের উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর (পরে রাষ্ট্রপতি) একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিল তার এ কথোপকথন। জাতির পিতা মেধাবী সিএসপি অফিসার ড. মসিউর রহমানকে তার পিএস হিসেবে নিতে চান জানিয়ে বলেন, ‘তোমার দ্বিমত আছে?’ এ প্রসঙ্গে ড. মসিউর রহমান ওই নিবন্ধে লিখেছেন, ‘তাঁর এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। বাংলাদেশে এমন কেউ ছিল না, যে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে ধন্য মনে করত না। আমি কোনো রকম থতমতভাবে বললাম: ‘আপনার সঙ্গে কাজ করা আমার সৌভাগ্য, আমার ওপর আপনার আস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আপনার সঙ্গে থাকব।’ বঙ্গবন্ধুর উত্তর স্নেহসিক্ত ছিল: ‘না জেনেশুনে কি আমি তোমাকে পছন্দ করেছি?’ ড. মসিউর রহমান ওই নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থেকে নানা বিষয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ওই নিবন্ধের শেষে ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি; আবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আদর্শ ও উদ্দেশ্য অর্জন প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য অতি বিরল। আমার সেই সৌভাগ্য হয়েছে।’ 

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী গ্রামের এ কৃতী সন্তান দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অভূতপূর্ব উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মোংলা সমুদ্রবন্দর ড্রেজিং ও উন্নয়ন, পদ্মা সেতুর বিনির্মাণ, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, তেরোখাদার দীর্ঘদিন অভিশপ্ত ভুতিয়ার বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন, ইখড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নর্থ খুলনা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, চিত্রা ও আঠারোবেকী নদী খনন, খুলনা ওয়াসার ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে ভূমিকা রেখেছেন।

আমার এ দীর্ঘ কর্মময় জীবনে ড. মসিউর রহমানকে দেখেছি এক সৎ, নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। রাষ্ট্রের এত বড় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও তার মাঝে আত্মম্ভরিতার লেশমাত্র দেখিনি। 

ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ: অধ্যাপক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক উপাচার্য, নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনা