নিজের বা প্রিয়জনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে নিয়মিত সঞ্চয়। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সফল উদ্যোক্তা ওয়ারেন বাফেটের মতে, ‘খরচের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় না করে বরং সঞ্চয়ের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা খরচ করুন।’ এদিকে প্রতি মাসে ব্যাংকে যাওয়া, ফরম পূরণ, লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা, কর্মব্যস্ততা, সময়স্বল্পতা, আলসেমিসহ নানা কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে নিয়মিত সঞ্চয়। তবে সঞ্চয়ের মতো দরকারি আর্থিক সেবা গ্রাহকদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর কল্যাণে। এখন মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে গ্রাহকরা কোনো রকম কাগজ-পত্রের ঝামেলা ছাড়াই বিকাশ অ্যাপে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সেভিংস খুলতে পারছেন মাত্র কয়েক মিনিটে।
বিকাশ অ্যাপে চার ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেভিংস:
বর্তমানে বিকাশ অ্যাপে মিলছে দুই ধরনের সেভিংস সেবা – সাধারণ সেভিংস ও ইসলামিক সেভিংস। ‘সাধারণ সেভিংস’ অপশনে আছে চার প্রতিষ্ঠানের স্কিম আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এর পাশাপাশি আছে সিটি ব্যাংক পিএলসির শরিয়াহভিত্তিক ‘সিটি ইসলামিক’ সেভিংস। ২০২১ সালে বিকাশ অ্যাপে চালু হওয়া ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় সেবা ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত নিয়েছেন ১৬ লাখের বেশি গ্রাহক, যাদের ৩০ শতাংশই নারী। ছোট অংকের এসব মাসিক সঞ্চয়ে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা যেমন কিছুটা হলেও নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি অনেক গ্রাহক বিশেষ করে তরুণদের মাঝে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে। নাগরিকদের নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ঘটনা।
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে পাঁচ মাস ধরে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সঞ্চয় করছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাবিব আহসান। অনার্স শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করতে চান অ্যাকাউন্টিংয়ের এই ছাত্র। তিনি বলেন, ‘একটু স্বাচ্ছন্দ্যে চলার জন্য শুধু বাড়ি থেকে পাঠানো টাকার ওপর নির্ভর না করে কয়েকটা টিউশনিও করি। হাত-খরচের পর কিছু অর্থ রয়েও যায়, এ কারণে বেশ কয়েক মাস যাবৎ বিকাশ-অ্যাপের মাধ্যমে প্রতি মাসে টাকা জমাচ্ছি। অনার্স শেষ হতে আরো আড়াই-তিন বছর লেগে যেতে পারে; তিন বছর মেয়াদি সেভিংসটিরও মেয়াদপূর্তি হবে এই সময়ের মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করার পরিকল্পনা আছে, আশা করি এই সেভিংস-এর টাকা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’
সেভিংস-এর পরিমাণ এবং মেয়াদ:
বিকাশ অ্যাপে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে গ্রাহকরা খুলতে পারছেন মাসিক ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা কিস্তিতে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় স্কিম। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) ও আবগারী শুল্ক প্রযোজ্য হয় সেভিংস-এর ওপর।
বিকাশ অ্যাপে সেভিংস-এর পদ্ধতি:
সেভিংস স্কিম খুলতে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ আইকনে ট্যাপ করে ‘নিয়ম ও শর্তাবলি’-তে সম্মতি দিয়ে ‘নতুন সেভিংস স্কিম খুলুন’-এ ট্যাপ করে পছন্দ অনুযায়ী “সাধারণ সেভিংস” অথবা “ইসলামিক সেভিংস” বেছে নিতে হবে। সেভিংস-এর উদ্দেশ্য নির্বাচন করে এর সময়কাল—দুই, তিন বা চার বছর এবং জমার ধরন (মাসিক) নির্বাচন করে প্রতি মাসে যে পরিমাণ টাকা জমাতে ইচ্ছুক—৫০০, ১,০০০, ২,০০০ অথবা ৩,০০০—নির্বাচন করতে হবে। পরের ধাপে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের তালিকা থেকে পছন্দের স্কিম নির্বাচন করতে হবে। এরপর, জমার তথ্য ভালোভাবে দেখে নমিনি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে; তারপর সেভিংস-এর সার-সংক্ষেপ দেখে নিয়ে এবং নিয়ম ও শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে, বুঝে সম্মতি দিতে হবে। সবশেষে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে স্ক্রিনের নিচের অংশ ট্যাপ করে ধরে রাখতে হবে। সেভিংস-এর আবেদনটি সম্পন্ন হলে, বিকাশ ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহক তার মোবাইলে নিশ্চিতকরণ মেসেজ পেয়ে যাবেন। বিকাশে সেভিংস খোলার পদ্ধতি আরো ভালোভাবে দেখে নেয়া যাবে এই ওয়েব ঠিকানায়—www.bkash.com/products-services/general-savings এবং www.bkash.com/products-services/islamic-savings।
সেভিংসের টাকা জমা ও উত্তোলন পদ্ধতি:
প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সঞ্চয়ের কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। তাই, নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রয়োজনীয় টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে; তবে ভুলে গেলেও দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ এসএমএস-এর মাধ্যমে কিস্তি জমার তারিখ আগেই স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় গ্রাহককে। মোট জমার পরিমাণ, সঞ্চয়ের মেয়াদ এবং মুনাফার পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেখে নেয়া যায় বিকাশ অ্যাপ থেকে। আবার মেয়াদপূর্তিতে মুনাফাসহ আসল টাকা চলে আসবে বিকাশ অ্যাকাউন্টে। শুধু তাই নয়, গ্রাহক সম্পূর্ণ অর্থ ক্যাশ আউট করতে পারবেন কোনো খরচ ছাড়াই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সঞ্চয় স্কিমগুলোর মুনাফা ও অন্যান্য বিধিবিধান প্রতিপালিত হয় এবং ই-কেওয়াইসি-এর মাধ্যমে নিবন্ধিত বিকাশ গ্রাহকরাই সঞ্চয় সেবা নিতে পারছেন। আবার ই-টিন ও ট্যাক্স রিটার্ন-এর তথ্য সেভিংস স্কিমে প্রদান করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ওই স্কিমে অর্জিত মুনাফার উৎসে কর হ্রাসকৃত হারে কর্তন করা হবে। এক্ষেত্রে সেভিংস স্কিমের মেয়াদপূর্তির আগেই বিকাশ অ্যাপের সেভিংস অপশনে গিয়ে যেকোনো সময় ই-টিন ও ট্যাক্স রিটার্ন-এর তথ্য প্রদান করতে পারবেন গ্রাহক।





