আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ২০২৪, যার প্রতিপাদ্য—Close the Care Gap অর্থাৎ দূর হোক ক্যন্সার সেবার ব্যবধান, যাতে বিশ্বব্যাপী সব ক্যান্সার রোগীই প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত চিকিৎসা পেতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। যেখানে প্রায় ১৫ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে এবং প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ নতুনভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে। ক্যান্সারের কারণ, লক্ষণ, স্ক্রিনিং ও প্রতিরোধের উপায় সম্বন্ধে জ্ঞান ক্যান্সার সচেতনতার অংশ। ক্যান্সারের প্রতিকার অর্থাৎ চিকিৎসা সম্বন্ধে জ্ঞানও ক্যান্সার সচেতনতার অংশ। তবে তা নিয়ে প্রচার ও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও ক্যান্সার চিকিৎসার অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষভাবে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের কথা উল্লেখ করা যায়—যেখানে অত্যাধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে জটিল ক্যান্সার সার্জারি, অতি উন্নত রেডিওথেরাপি যথা VMAT, IMRT, SBRT, SRS, Total Boby Irradiation,কেমোথেরাপি যথা Immunotherapy Targeted therapy Palliative Cancer Care আছে। চিকিৎসা সহায়ক পরীক্ষাগুলোও যেমন Whole body PET scan, Immunohis tochemis try Molecular s tudy বিদ্যমান।
ধারণাপ্রসূত চিকিৎসার বদলে International guideline: Protocol অনুসরণ করা হচ্ছে। আরো একটি স্বস্তির জায়গা হলো বাংলাদেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি করছে। ফলে আমাদের দেশের রোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে কেমোথেরাপি নিতে পারছেন। মানসম্মত বিধায়, এমনকি সেগুলো বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। আমাদের দেশ সর্বক্ষেত্রে যেরূপ এগিয়ে গেছে, তদ্রুপ ক্যান্সার চিকিৎসায়ও অনেকদূর অগ্রসরমাণ। তবে এটা চলমান প্রক্রিয়া—থেমে থাকলে চলবে না। অজ্ঞতার কারণে অনেক ক্যান্সার রোগী অপচিকিৎসার শিকার হন, আবার সামর্থ্যবান অনেকে বিদেশে চলে যান। তাই আমাদের দেশে বিদ্যমান উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার প্রাপ্যতার ব্যাপারে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সঠিক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও ক্যান্সার হাসপাতাল চিনে নেয়া জরুরি। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আসুন আমরা সবাই ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্রিয় হই, ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়াই ও ক্যান্সার চিকিৎসায় বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করি।





