বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আলোচনায় তিন বছর ধরে যে প্রতিপাদ্য বিষয়টি সেটি হলো ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ। এটা হলো ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা বা চিকিৎসাসেবার পর যে পুনর্বাসন সেটি নিয়ে। এ পরিষেবার কারণে যত বাধাবিপত্তি, সেগুলোকে যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে একজন মানুষকে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়াটাই হলো এ থিম বা এর মর্মবাণী।

এখন আমরা যদি বলি আমাদের দেশে গ্যাপটা আসলে কোথায়। এখানে দুটি বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়। একটা হলো বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে বা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে বিরাট একটা পার্থক্য রয়ে গেছে। আমাদের দেশে যে চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা, যে লিমিটেশন—সেটি একটি সমস্যা। সচেতনতার অভাবও রয়েছে, আর্লি ডায়াগনোসিসের জন্য যেভাবে এগিয়ে আসা দরকার, রোগটি যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে। একটা সচেতনতার বিষয়, সে ব্যাপারে যে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ডায়াগনোসিস বা স্ক্রিনিংয়ের কথা বলি, সেখানে আমাদের অনেক দুর্বলতা আছে। আমাদের দেশে চিকিৎসা অর্থাৎ রোগ ধরা পড়ার পর তাদের জন্য যে চিকিৎসা সেটিইবা কতটুকু। সব মিলিয়ে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে গ্যাপ অনেক বেশি।

সচেতনতা হলো ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপের মূল বা প্রথম অংশ, আমাদের ডেমো স্ক্রিনিং প্রোগ্রামটা চালু করা জরুরি। সেটি পেয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। নির্দিষ্ট বয়সে পুরুষ-নারীকে কিছু টেস্ট করে দেখতে হবে যে ক্যান্সার বা অন্য যেকোনো রোগ তার শরীরে বাসা বাঁধছে কিনা। আর দুই হচ্ছে, আপনি যদি সচেতন হন তাহলেই আপনার পক্ষে এই যে ক্যান্সার প্রিভেন্ট বা প্রতিরোধ করার জন্য যে ব্যবস্থা, সেগুলো কিন্তু আপনি নিতে পারবেন। ক্যান্সারের জন্য যেগুলো দায়ী, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন ধূমপান করলে অনেক অসুখই হতে পারে, শুধু ক্যান্সার না। সামান্য এ সচেতনতামূলক বক্তব্যেই ক্যান্সার না হওয়া থেকে আমরা অনেক মানুষকে রক্ষা করতে পারি।

কতগুলো ভ্যাকসিন রয়েছে। যেমন জরায়ু ক্যান্সারের একটা ভ্যাকসিন আছে, যা আমরা আমাদের দেশের মেয়েদের দিতে পারি। টিকা দেয়া আমাদের দেশে কেবলই শুরু হয়েছে, এখনো অনেক কাজ বাকি, এ কাজগুলো আমাদের করতে হবে। ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের জন্যও ভ্যাকসিন আছে। এগুলো সবাই জানে না। তাহলে এ জায়গাগুলোই কাজ করতে হবে। তাই স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের আগেই সচেতনতা—এটি নিয়ে আমাদের শুরু করতে হবে। এটি স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে আমাকে আনতে হবে। দ্বিতীয় অংশ হলো যদি আমরা স্ক্রিনিং করি তাহলে যেকোনো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়বে। আমাদের দেশে ক্যান্সার ধরাই পড়ে তৃতীয়, চতুর্থ স্টেজে। এটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় স্ক্রিনিং। তাহলে আমরা প্রথম স্টেজে ধরতে পারব। ক্যান্সার সার্জারির জন্য আমাদের দেশের ডাক্তাররা ভালোভাবে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন ও চিকিৎসা দিতে পারছেন। আমাদের রেডিওথেরাপির মেশিন রয়েছে তা দিয়ে আমরা সিঙ্গাপুর বা যেকোনো আন্তর্জাতিক কিংবা সমমানের চিকিৎসা দিতে পারি। তাছাড়া আরো কিছু প্রাইভেট সেন্টারও উন্নত হয়েছে। তবে আমাদের ম্যানপাওয়ার এখনো কম, ওটার দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া নতুন নতুন জিনিসপত্র আনা দরকার। যেমন পার্টিক্যাল বিন থেরাপি বা প্রোটন থেরাপি। গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কিছু মৌলিক নীতি আছে। আমাদের অনেক স্টোর উন্নত করতে হবে, যা আমাদের দেশের জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। আমাদের আরো অনেক ক্যান্সার সেন্টার তৈরি করতে হবে। যাতে সব জায়গার মানুষ সহজেই সেবা পেতে পারে। সেটুকু অর্জন করার জন্য অনেক কাজ করতে হবে।