প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার ডে’। সারা পৃথিবীতে ২ কোটি ২০ লাখের মতো ক্যান্সারের নতুন রোগীর ডায়াগনোসিস হয়, এক কোটির বেশি রোগী মারা যায়। পৃথিবীর একেক দেশে ক্যান্সার ইনসিডেন্স একেক রকম। তবে লাং ক্যান্সার, হেডনেক ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, সার্ভিক ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার এসব আমাদের দেশে বেশি হয়। আমাদের দেশে লো ইকোনমিক সামাজিক অবস্থা বা ইনফেকশনের কারণে অনেক ক্যান্সার দেখা যায়। জরায়ু মুখের ক্যান্সার তাদের মধ্যে অন্যতম। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস দিয়ে এ ক্যান্সার হয়। জরায়ু ক্যান্সারের জন্য ৯৫ শতাংশ সময়ে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস দায়ী। তবে সুসংবাদ যে জরায়ু ক্যান্সার ১০০ শতাংশ প্রিভেন্টেবল। মানে এটাকে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ করা যায়। এ ভ্যাকসিন আমাদের দেশে চালু আছে। এটা ৯-১৩ বছর বয়সের মধ্যে কিশোরীদের দেয়া হয়। আবার ১৫-২৫ বছরের মেয়েদেরও দেয়া হয়। এটা ৪৫ বছর পর্যন্ত দেয়া যায়। এতেও বেশকিছু কাজ হয়। যেমন হেপাটাইটিসি বি ভাইরাস দিয়ে লিভার ক্যান্সার হয়ে থাকে। সে ভ্যাকসিনও আমাদের দেশে আছে।
আমাদের দেশে এখন নারীদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার বেড়ে গেছে। এছাড়া আছে লাং ক্যান্সার, হেডনেক ক্যান্সার। হেডনেক ক্যান্সারের প্রধান কারণ টোব্যাকো। টোব্যাকো স্মোকিং, টোব্যাকো চুয়িং যেমন পান, জর্দা, চা পাতা। এগুলো মুখের মধ্যে রেখে দেয়ার জন্য নারীরাই কিন্তু মুখের ক্যান্সার নিয়ে বেশি আসে, পুরুষরাও আসে। অন্যান্য কারণ যেমন ইনফেকশন, রেডিয়েশন, খাবারের মধ্যে কেমিক্যাল এসব কারণও রয়েছে। সেজন্য ক্যান্সার রিডাকশন করতে হলে আমাদের পরিবেশের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যেন আমরা পরিবেশ দূষণ না করি, বায়ুদূষণ না করি, খাবার দূষণ না করি ও এসব ভ্যাকসিন নিয়ে এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করি, তাহলে আমরা ক্যান্সার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ বা প্রিভেনশন করতে পারি। প্রিভেনশনের মধ্যে আমি আরো বলব ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের যেমন হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, এটা নিলে দেখা যায় ব্রেস্ট ক্যান্সার বেড়ে যায়। বেশির ভাগ নারী মেনোপজ হলে দেখা যায় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট করে। তবে এটা অবশ্য আগের চেয়ে কমে গেছে। এটার জন্য ব্রেস্ট ক্যান্সারের হার অনেক বেড়ে গিয়েছিল একটা সময়। শারীরিক ব্যায়াম, ধূমপান না করা, অ্যালকোহল না নেয়া ইত্যাদি। এগুলো ভালো থাকার জন্য ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করায় দরকার। ফ্রুটস, ভেজিটেবল এগুলো খেতে হবে, তাহলে সার্ভিক ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার আমরা কমাতে পারি। ক্যান্সারের ট্রিটমেন্ট এখন আমাদের দেশে হয়। বাংলাদেশে সব ধরনের ক্যান্সারের সার্জারিই হয়। বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম সেরা ওটি সার্ভিস আমাদের এখানে। আমাদের এখানে ডে কেয়ারে প্রতিদিন অনেক মানুষকে সার্ভিস দেয়া হয়। আমাদের উন্নত ও লেটেস্ট মেশিন। এখানে সবরকম টেকনোলজি আছে। থ্রিডি সিআরটিএম, আইএমআরটি, ভিম্যাট, এইচবিআরটিসহ সব ধরনের ট্রিটমেন্ট আমাদের এখানে সম্ভব।
ক্যান্সার ডিটেকশনের জন্য স্ক্রিনিং একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যেমন ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং করে অনেক আর্লি স্টেজে ধরা পড়ে, তাহলে আমরা ১০০ ভাগ সুস্থ হতে পারি। স্ক্রিনিং, ভায়া টেস্ট, ব্যাপ টেস্টে জরায়ু ক্যান্সার তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, যার কারণে আগেই ডায়াগনোসিস হলে বা প্রি-ইনভেসিভ ক্যান্সার হলে রোগী একদিনে ডায়াগনোসিস করে চলে যেতে পারে। ক্যান্সার হলো ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রিটমেন্ট। সেজন্য আমরা চেষ্টা করব প্রিভেনশনের দিকে জোর দিতে। স্ক্রিনিং, প্রিভেনশনের ওপর যদি প্রাইভেট বা সরকারি সেক্টর বেশি জোর দেয়, তাহলে প্রিভেনশন ও স্ক্রিনিংটা সব জায়গায় চালু হবে, তাহলে আমরা তাড়াতাড়ি ডায়াগনোসিস করতে পারব। যার কারণে ক্যান্সারের এ বিশাল ব্যয় ও জনগণের কষ্ট কমাতে পারব।





