সর্বপ্রথম ক্যান্সার রেজিস্টার তৈরি করা দরকার। যাতে কোন ক্যান্সারের কী পরিমাণ রোগী রয়েছে তা জানা যায়। এছাড়া সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন। কারণ ক্যান্সার ডায়াগনোসিসের জন্য কিছু মলিকুলার টেস্ট রয়েছে, যা খুবই ব্যয়বহুল। তাই বিভাগীয় শহরগুলোয় সরকারি ও বেসরকারিভাবে আমরা যেন এ সুযোগ তৈরি করতে পারি সে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এছাড়া চিকিৎসার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা খুব জরুরি। এদিক দিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় বাংলাদেশে দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের খুবই অভাব রয়েছে। যে কারণে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে।
আমি একজন হেমাটোলজিস্ট। প্রধানত ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা করে থাকি। ব্লাড ক্যান্সার বলতে আমরা বুঝি লিম্ফোমা, যেটি ৬৫ শতাংশ মানুষের হয়। তারপর লিউকেমিয়া, যেটি ২৫ শতাংশ মানুষের হয়ে থাকে। আরো আছে মাল্টিপোল মাইরোমা, যা ১০ শতাংশ মানুষের হয়ে থাকে। যে তিন ক্যান্সার নিয়ে কথা বললাম, ব্লাড ক্যান্সারের মধ্যে এই তিন ধরনের ক্যান্সার মূলত বেশি লক্ষ করা যায়। ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য যেসব পরীক্ষা প্রয়োজন হয়, দু-একটি বাদে তার সবই আমাদের দেশে হয়। বিশেষ করে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালেই ব্লাড ক্যান্সারের প্রায় সকল ধরনের টেস্ট করা হয়। এদিকে চিকিৎসার জন্য যেসব ওষুধ দরকার হয় তার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। এগুলো যথেষ্ট সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।
প্রতিনিয়ত আমাদের দেশ থেকে অনেক রোগী পাশের দেশে চিকিৎসা নিতে যান। এতে ভোগান্তি যেমন হয়, খরচও তেমন বৃদ্ধি পায়। কেউ কেউ বলেন, এটি চিকিৎসক বা সেবার ওপর আস্থা হারিয়ে যাওয়ার ফলে হয়। তাই কয়েকটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা খুবই জরুরি। চিকিৎসকরা রোগীদের যে পরীক্ষা দেন সেটি যেন অবশ্যই কাউন্সেলিং করি। রোগী যেন ভালোভাবে বুঝতে পারে তাকে কেন এ পরীক্ষা দেয়া হয়েছে, কোন ওষুধটি কোন কারণে তাকে দেয়া হচ্ছে। কেননা এসব রোগী বা তার স্বজনদের জানাটা উচিত। অন্যান্য জায়গার কথা জানি না, তবে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে রোগীদের কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ ভালো সময় নেয়া হয়, প্রতিটি বিষয় রোগী ও তার স্বজনদের ভালোমতো বুঝিয়ে দেয়া হয় যাতে তাদের বুঝতে কোনো সমস্যা না হয়। আরেকটি আশার কথা হলো ব্লাড ক্যান্সারের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেয়া হয় ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে। এছাড়া অচিরেই স্বল্প খরচে হাসপাতালে মিলবে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসাসেবা।





