আগামী তিন অর্থবছরের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসেবা খাতে কর মওকুফের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এতে ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এ সুবিধা পাবে প্রযুক্তি সেবাদাতারা। অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার ও মুঠোফোনে কথা বলায় এবার খরচ বাড়ছে গ্রাহকদের। মোবাইলের সিম সরবরাহের বিপরীতে কার্ডের ওপর ২০০ টাকা এবং সিম ব্যবহারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গ্রাহকের খরচ বাড়বে। গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিম্নবর্ণিত আইটি সেবাসহ অন্যান্য কতিপয় খাতে ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত অর্জিত আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই বেজড সলিউশন ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ব্লকচেইন বেজড সলিউশন ডেভেলপমেন্ট, রোবোটিকস প্রসেস আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস, সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস, ডিজিটাল ডাটা অ্যানালিটিকস ও ডাটা সায়েন্স, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস ইত্যাদি।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, ‘মোবাইল ফোনের সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিপরীতে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।’
এছাড়া প্রতিটি সিম কার্ড বা ই-সিম সরবরাহের বিপরীতে বিদ্যমান মূসকের পরিমাণ ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।’
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোবাইল সেবার ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক টেলিকম শিল্প ও গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করবে। এর আগে এ শুল্কহার ছিল ১৫ শতাংশ। এ শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ গ্রাহকরা মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে আর্থিক চাপে পড়বে। মোবাইল ব্যবহার সংকুচিত হয়ে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ কমবে।
সংগঠনটি আরো জানায়, মোবাইল সিমের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বৃদ্ধি নতুন গ্রাহক প্রবৃদ্ধির হারকেও মন্থর করবে, যেখানে দেশে এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ সংযোগের বাইরে অবস্থান করছে। এ কর বৃদ্ধি দেশের সার্বিক ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ও জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব রাখবে, যা সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশনের স্ববিরোধী। সরকারের কাছে আরোপিত শুল্ক ও বাজেট সুপারিশমালা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট দেশের ৪০ শতাংশ নাগরিককে টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে রাখবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নতুন করে ৫ শতাংশ কর বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে গ্রাহকের কাছ থেকে কর আদায় করা হবে ৩৯ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে গ্রাহক কম পরিমাণ সেবা ভোগ করবে, যেখানে অপারেটররা মূল্যবৃদ্ধি না করলেও দিন শেষে খরচ বাড়বে।’
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সফটওয়্যারসেবা খাতের বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি. আহমেদ বলেন, ‘এ কর অব্যাহতি শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে তা নয়, বরং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রফতানিমুখী উৎপাদন শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে, যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং জ্ঞানভিত্তিক ক্যাশলেস অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের একটি নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশা করি।’





