অনেকেই কিচেনে অনেক সময় ব্যয় করে। অবশ্য প্রায়ই সময় না কাটিয়ে কোনো উপায় থাকে না, তা উপভোগ করার মতোই হোক বা যন্ত্রণাদায়ক। ফলে কিচেনের কাজকর্ম যেন দ্রুত ও সহজ হয়, তার জন্য কিছু কৌশল রপ্ত করার বিকল্প নেই। সারা দিনের ব্যস্ততার পর অধিকাংশ মানুষ পরিবার ও সন্তানের পেছনে সময় দিতে বেশি আগ্রহী। সেক্ষেত্রে রান্নাঘরের ব্যস্ততা সংক্ষেপ ও সহজ করার জন্য কিছু বিষয় জানা জরুরি।
আগে থেকে পরিকল্পনা রাখা
রান্নার ব্যাপারে আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখলে পণ্ডশ্রম করা থেকে মুক্তি মেলে। রান্নার আগে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা প্রায়ই ক্লান্তিকর। যদিও একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে যায়, তখন দেখা যায় জরুরি কোনো মসলা বা উপাদান নেই। তখন নতুন করে যেতে হয় দোকানে সেটি কিনে আনার জন্য।
এমন ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আগে থেকেই পরিবারের খাবার তৈরির পরিকল্পনা করে রাখা যেতে পারে। যেদিন ব্যস্ততা বেশি, সেদিন কোনো সহজ রেসিপি হতে পারে। ছুটির দিন বুঝে সারা সপ্তাহের প্রয়োজনীয় মসলপাতি কিনে ফেলা যেতে পারে।
বাজার করার পরই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন
অনেকেই বাজার করার পর ফ্রিজে ফেলে রাখেন। সেভাবেই পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। ফলে রান্নার সময় ফ্রিজের ভিড় বাড়তি চাপ তৈরি করে কাজে। তা অযথা সময়ক্ষেপণেরও কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে বাজার করার পর এখানে-ওখানে ফেলে রাখার চেয়ে ছোট পরিসরে একটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। উদাহরণস্বরূপ, আগে থেকেই সবজি কেটে রাখুন ফ্রিজের কোথাও। তারপর সময় হলে সরাসরি নিয়ে কিচেনে চলে যান। মাংসও ফ্রিজে ম্যারিনেটেড কিংবা সেদ্ধ করে রাখা যেতে পারে। যদি এমন কোনো উপাদান থাকে, যাকে কয়েকটা রেসিপিতেই দরকার। তাহলে সেগুলো আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে পারেন।
রান্নাঘরকে গুছিয়ে রাখুন
একটা গোছানো রান্নাঘর রাধুনির প্রচুর সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে। রান্নার সময় এটা-ওটা খোঁজাখুঁজি করতেই যদি দীর্ঘ সময় লাগে, তবে তা হতাশাজনক। তার চেয়ে সবকিছু নির্ধারিত স্থানে রাখা হলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সামনে চলে আসে। সেক্ষেত্রেও কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে। শিশুদের খাদ্যগুলোকে একটু নিচের দিকে রাখা যেতে পারে। এতে করে তারা কারো সাহায্যের দ্বারস্থ না হয়েই নিজে নিজে বের করে নিতে পারবে। বিশেষ করে স্ন্যাকস, ব্রেকফাস্ট, দুধ ও অন্যান্য খাবার নিচে রাখা দরকার।
প্রয়োজন বুঝুন
রান্নাঘরের সব ধরনের আইটেম সমানভাবে কাজে লাগে না। কোনো একটা উপাদানের গুরুত্ব অন্য কোনোটির চেয়ে বেশি হতে পারে। কিচেনে প্রয়োজন অনুসারে রান্নার অনুষঙ্গগুলো আপনার কাছাকাছি রাখুন। লবণ, মরিচ, মসলা প্রায় প্রতি বেলায়ই লাগে। ফলে এগুলোও খুব কাছে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের কোনো ড্রয়ার বা শেলফের ভেতর গুঁজে রাখার দরকার নেই। একইভাবে ব্লেন্ডার ও চপিং ম্যাশিন প্রায় সময়ই দরকার হতে পারে। ফলে তাদের রান্না ঘরের কোনো এক কোণায় ফেলে না রেখে হাতের নাগালে রাখতে হয়। এতে করে একদিকে কাজের চাপ কমে, অন্যদিকে সহজ করে রান্নার প্রক্রিয়া।
চোখকান খোলা রাখুন
দুনিয়া দ্রুত বদলাচ্ছে, কাজ সহজ হচ্ছে মানুষের। রান্নাঘরও সে আশীর্বাদ থেকে বাদ পড়েনি। রান্নাকে সহজ ও উপভোগ্য করার জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি যোগ হচ্ছে রান্নাঘরে। ওভেন, রাইস কুকার, কিচেন হুড, জুসার, ব্লেন্ডারের মতো স্মার্ট যন্ত্রপাতিগুলো রান্নাকে করেছে আগের থেকে সহজ। তাতে করে সময় বাঁচছে ব্যস্ত জীবনে। আধুনিক ইলেকট্রিক ফ্রাইপ্যান ব্যবহার করলে রান্না অনেক দিক থেকেই সহজ ও দ্রুত হয়। এ ফ্রাইপ্যানের ব্যবহার একদিকে যেমন নিরাপদ, অন্যদিকে তেমন সাশ্রয়ী। একইভাবে জরুরি আধুনিকায়নের। এটা কেবল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার স্বার্থে নয়, জীবনকে সহজ করার জন্যই।
রান্নাঘর পোকামুক্ত রাখুন
বাসায় পোকামাকড়ের উপদ্রব নতুন কোনো খবর নয়। তেলাপোকা, পিঁপড়া কিংবা উইপোকার অত্যাচারে পাগলপ্রায় অনেকে। তবে ঘরোয়া উপায়ে চাইলেই রান্নাঘরকে পোকামুক্ত করা যায়। নিমপাতা শুকিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা কিংবা পুঁটলি করে বেঁধে রেখে দিলে পোকার উপদ্রব একবারেই থাকবে না। এছাড়া কালিজিরা একইভাবে কাজ করে। দু-একটা লবঙ্গ রেখে দিলে পিঁপড়ের উপদ্রব একদম কমে যাবে। উইপোকা থেকে রেহাই পেতে যেখানে উইপোকা দেখা যায় সেখানে কর্পূরের গুঁড়ার সঙ্গে লিকুইড প্যারাফিন মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে দেয়া যেতে পারে। রান্নাঘরে ভিনেগার সবসময়ই থাকে, তাই এই উপকরণ তৈরি করতে খুব বেশি কষ্ট হবে না। এক অংশ ভিনেগার আর দুই অংশ পরিমাণ পানি মিশিয়ে নিলেই যে মিশ্রণটি তৈরি হবে সেটি ঘরের আনাচকানাচে ছিটিয়ে রাখুন। দেখবেন পোকার বংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
একটা পরিবারের প্রাত্যহিক খাবার প্রস্তুত হয় রান্নাঘর থেকে। ফলে সেখানে কাটানো সময় যদি ক্লান্তিকর ও বিরক্তিকর হয়, তাহলে তা হতাশাজনক। কিচেনকে পরিচ্ছন্ন রাখা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া কিচেনকে করতে পারে স্মার্ট। আর স্মার্ট কিচেনই জীবনকে করতে পারে সহজ ও পরিকল্পিত।





