রাইস কুকার একটি স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা সাধারণত অল্প সময়ে ঝামেলাহীনভাবে ভাত রান্নার জন্য জনপ্রিয়। ১৯৫৫ সালে জাপানের তোশিবা কোম্পানি বাজারে ইলেকট্রিক রাইস কুকার নিয়ে আসে। বর্তমানে বাজারে কয়েক রকমের রাইস কুকার রয়েছে। যেমন—
স্ট্যান্ডার্ড রাইস কুকার
মাল্টিফাংশন রাইস কুকার
ইন্ডাকশন Heat রাইস কুকার ইত্যাদি।
তবে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং বাজারে পাওয়া যায় স্ট্যান্ডার্ড রাইস কুকার। রাইস কুকারে সাধারণত চারটি অংশ থাকে:
মূল অংশ
ইনার কুকিং প্যান
ইলেকট্রিক হিটিং প্যান
থার্মোস্ট্যাট
মূল অংশ: এটি রাইস কুকারের বাইরের ঢাকনাসহ অংশ, এতেই অন্য অংশগুলো থাকে।
ইনার কুকিং প্যান: এতে ভাত রান্না হয়।
ইলেকট্রিক হিটিং প্যান: এতে ইনার কুকিং প্যান বসানো থাকে। এর মাধ্যমেই তাপের সৃষ্টি হয়।
থার্মোস্ট্যাট: এটি তাপমাত্রা মাপা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে।
রাইস কুকারে রান্নার কিছু টিপস—
রাইস কুকারে রান্নার আগে চাল মেপে, ধুয়ে ৩০ মিনিট পর পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।
চালের ভিন্নতার কারণে ১ কাপ (২৪০ মিলি) চাল রান্নার পর দেড় কাপ (৩৬০ মিলি) থেকে ৩ কাপ (৭২০ মিলি) পর্যন্ত হতে পারে। তাই রাইস কুকারের মাপ বুঝে রান্নার জন্য চালের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে, যাতে রান্নার পর ভাত উপচে না পড়ে।
সাধারণত ভাতের চাল, যেমন মিনিকেট, নাজিরশাইল ইত্যাদি চাল রান্নার ক্ষেত্রে এক কাপ চালে আড়াই কাপ পানি লাগে। আর পোলাওয়ের চাল, বাসমতী চাল রান্নার ক্ষেত্রে এক কাপ চালে দুই কাপ পানি প্রয়োজন।
মাংস, সবজি বা মাছ রান্না করার জন্য প্রতিটির আকার সমান হতে হবে।
গরুর মাংস রান্নার সময় পেঁপে বা সুপারি দিলে সহজেই সিদ্ধ হয়। কিন্তু যদি এগুলো হাতের কাছে না থাকে সেক্ষেত্রে মাংসের সঙ্গে একটি স্টিলের চামচ দিয়ে দিলে মাংস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে যায়।
রাইস কুকারে ডিম সিদ্ধ করা যাবে কিন্তু দুধ জ্বাল দেয়া যাবে না। অর্থাৎ যে খাবারগুলো তাপ দিলে উপচে পড়ে সেগুলো রান্না করা যাবে না।
বাজারে নানা ধরনের ব্র্যান্ড আছে রাইস কুকারের। দেশীয় বাজারে এগিয়ে রয়েছে ভিশন, যমুনা, কনকা, মিনিস্টার ও ওয়াল্টন। এগুলো একদিকে যেমন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, অন্যদিকে টেকসই। ব্যবহারে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কেনার আগে সতর্কতাও জরুরি।





