ড. এফ এইচ আনসারী। দায়িত্ব পালন করছেন এসিআই এগ্রি বিজনেস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এছাড়া তিনি এসিআই এগ্রোলিংক লিমিটেড, এসিআই মোটরস লিমিটেড ও প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্বে রয়েছেন। কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের কৃষি খাতের বিভিন্ন দিক ও নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে
কৃষিতে কী ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা করছেন?
দেশের কৃষি খাতের প্রধান উদ্দেশ্য খাদ্য সরবরাহ করা। এটা বড় কর্মসংস্থানেরও উৎস। এখন দেখছি নতুন অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে কৃষি খাত থেকে। এখন এ তিনটি এরিয়ায় কাজ করছে কৃষি। এসব খাতে গৃহীত পদক্ষেপে দীর্ঘ সময়ে প্রভাব ফেলে। তবে তাৎক্ষণিভাবে কিছু কাজ করতে হবে। আমাদের কৃষি মূলত ব্যক্তি খাত নির্ভর। বীজ থেকে শুরু করে ডেইরি, প্রক্রিয়াকরণসহ সব খাতেই। তাই এসব জায়গায় গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি খাতকে যুক্ত করতে হবে। তাহলে বিদেশী প্রযুক্তি দ্রুত দেশে আসবে। মেধাস্বত্বের বিষয়টিও তখন সামনে আসবে, যা এসব খাতের দক্ষতা বাড়াতে কাজে লাগবে।
এখন তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় কী?
কৃষির সব উপখাত থেকে সেরা ১০০ কোম্পানি বাছাই করে সরকার একটি ফান্ড গঠন করতে পারে। আগামী ১০ বছরের জন্য ২ শতাংশ সুদে তারা ঋণ নিতে পারবে। পরে আবার তা সরকারকে ফেরত দিয়ে দেবে। তখন এসব খাত থেকে ভালো মানের ফসলের প্রজাতি বের হয়ে আসবে। আর উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ। তাই কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণের ভর্তুকি আরো বাড়াতে হবে। প্রাণিসম্পদ খাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়। আর সার, বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে।
উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য করণীয় কী
সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। আলু ও পেঁয়াজের উন্নত বীজ অবাদ করা যায়। সারা বছর এখন পেঁয়াজ আবাদ করার মতো বীজ আছে। এসব চাষাবাদে আনলে পেঁয়াজের বার্ষিক ১০ লাখ টনের গ্যাপ আর থাকবে না। গরুর ক্ষেত্রেও উন্নত জাতের অনুমোদন দিলে ৫০০ টাকা কিজিতে গরুর মাংস পাওয়া যাবে। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। সিঙ্গাপুরে কিন্তু কিছু উৎপাদন হয় না। কিন্তু পণ্যের সংকটও হয় না। কারণ তাদের সরবরাহ চেইন ঠিক করা আছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যেন তারা পরিচিত হতে পারে। আর ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যম ঠিক রাখতে হবে। উৎপাদন ও চাহিদা এবং জোগানের তথ্য যেন তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়। কোথায় কী উপকরণ লাগবে সেটা যেন জানা যায় সহজেই। পোস্ট হর্ভেস্টিং নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ সংরক্ষণের অভাবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সবজি নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক তড়িঘড়ি করে পণ্য বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। তাই উৎপাদন কেন্দ্রের পাশে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে এসব স্টোরেজ বেসরকারি উদ্যোক্তার হাতে ছেড়ে দিতে হবে।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাত কীভাবে এগিয়ে যাবে?
খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতে দেশীয় কাঁচামাল বা চিনি, তেল, ডাল ও দুধ ব্যবহার করলে দেশীয় খাত সম্প্রসারণ হবে। কৃষক ও খামারিরা লাভবান হবেন। তখন আমদানি করে এসব আনতে হবে না। ভারতে দেখেছি বিভিন্ন রাজ্যে স্ট্রিটফুড খুব জনপ্রিয়। আমাদের দেশেও এটা দেখা যায়। তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এসব ছোট উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া যায়। এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আবার অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবারের ভোগও কমে আনবে। আর প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানিও বাড়ানো যাবে। এক্ষেত্রে আমাদের বিদেশী মিশনগুলো কাজ করতে পারে। দেশের ব্যান্ড ইমেজ তৈর করতে হবে। নতুন ফাউন্ডেশন তৈরি করে কর্মসংস্থান করতে হবে।
ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসংস্থান হবে?
আমাদের দেশে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাচ্ছে না। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’ গঠন করা যায়। যার মাধ্যমে তরুণদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে। পরে তারা নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব ঋণ পরিশোধ করে দেবে। তারা মাছ, ডিম, দুধ ও বাগান করবে।





