দেশের আসবাবপত্রের বাজার যথেষ্ট আধুনিক ও নান্দনিক। এ বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পরিশীলিত রুচি ও স্বতন্ত্র নান্দনিকতার জন্য জনপ্রিয় হাতিল। শীর্ষস্থানীয় আসবাবপত্র ব্র্যান্ড হিসেবে এর সুনাম রয়েছে। অত্যাধুনিক ও ত্রুটিহীন পণ্যের জন্য পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়াকে একই ছাদের নিচে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানটি।
হাতিলের শিকড় প্রোথিত রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে। আল-হাজ হাবিবুর রহমান ১৯৬৩ সালে এইচএ টিম্বার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি চেরাই কাঠের ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে একটি স’মিল প্রতিষ্ঠা করেন। তার দেখানো পথ ধরে ১৯৮৯ সালে হাবিবুর রহমানের সন্তান সেলিম এইচ রহমান প্রতিষ্ঠা করেন হাতিল। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম আসবাবপত্র রফতানিকারক কোম্পানি।
প্রাথমিকভাবে হাতিল ডোরস নামে পুরান ঢাকায় একটি ছোট আকারের দরজা তৈরির দোকান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা করে। ১৯৯০ সালে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির দরজা তৈরির অর্ডার পেতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ১৯৯৩ সালে কুড়িলে একটি ৫০০০ বর্গফুট আকারের কারখানা ভাড়া নেয়া হয়।
শুরুর দিকে দেশী সেগুন কাঠ ব্যবহার করে সাত-আটজন শ্রমিক হাতের সাহায্যে হাতিলের আসবাবপত্র উৎপাদন করতেন। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি একটি দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করে। তখন থেকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে উৎপাদন শুরু হয়। তাতেও চাহিদা অনুযায়ী জোগান না মেটায় ২০০৪ সালে কোম্পানিটি সাভারের জিরানীতে নতুন কারখানা চালু করে। বর্তমানে ২২ একর জায়গার ওপর নির্মিত দুটি ইউনিটে হাতিল কমপ্লেক্স অবস্থিত। বাংলাদেশে সেগুন কাঠের অভাব দেখা দেয়ায় ২০০৯ সাল থেকে হাতিল জার্মানি থেকে আমদানি করা বিচ কাঠ ব্যবহার করে আসছে।
যেকোনো কারখানা নির্মাণে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন আর্থিক সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকনোলজি অ্যান্ড অটোমেশন অ্যাডাপ্টেশন, সরবরাহ চেইন, ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট, রেগুলেটরি অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ও পরিবেশগত কিছু বিষয়।
হাতিলের মেগা কারখানা নির্মাণে নিজস্ব অর্থই যথেষ্ট ছিল না। সেই সময় ব্যাংক ঋণও নিতে হয়েছিল। অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও কারখানায় কাঁচামাল প্রক্রিয়া করে তা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন ছিল। ফলে শুরুর দিকে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বিদেশ থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক আনা হয়েছিল।
উৎপাদন, কর্মদক্ষতা ও পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এ সময়ের সেরা যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হয়েছে আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও চায়না থেকে। ২০০৮-২০০৯ সালে এসব ভারী যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে নিয়ে আসা এবং সেগুলো স্থাপন করা যথেষ্ট শ্রম ও সময়সাপেক্ষ ছিল।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না পাওয়া বাংলাদেশে নিয়মিত সমস্যা। উৎপাদন চালু রাখার স্বার্থে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়েছে এ কারখানায়। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে গ্যাস জেনারেটর।
বর্তমানে তিন হাজারেরও বেশি কর্মচারী কাজ করছেন এ কারখানায়। সবার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বদা তাদের প্রাপ্য নিশ্চিত করছে কোম্পানিটি। প্রতিটি শ্রমিকের জন্য ন্যায্য বেতন-ভাতার পাশাপাশি কারখানায় সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশী কর্মচারীদের পাশাপাশি কারখানায় দুজন শ্রীলংকান প্রকৌশলী বর্তমানে পূর্ণকালীন কাজ করছেন। এছাড়া সিস্টেম আপগ্রেডেশন ও যন্ত্রপাতিসংক্রান্ত টেকনিক্যাল কিছু বিষয়ে বিদেশ থেকে মাঝে মাঝে প্রকোশলী নিয়ে আসতে হয়। পাশাপাশি হাতিলের নিজস্ব প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দেশের মেগা কারখানাগুলোয় পাঠানো হয় বাস্তব ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি কারখানার যন্ত্রপাতি আপগ্রেড করার জন্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি (প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করছে, যা এর উৎপাদনক্ষমতা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়িয়েছে।
কারখানার প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞকে কয়েকটি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে, যেমন প্রডাকশন বিভাগের মধ্যে রয়েছে: সলিড উড ও প্যানেল প্রসেস ইউনিট, আপহোলস্টেরি ইউনিট, ফিনিশিং (লেকার) ইউনিট, বেন্ট উড ইউনিট, মেটাল ইউনিট, ফোম ইউনিট, ডোর অ্যান্ড প্লাইউড ইউনিট, ট্রেনিং সেন্টার, সেন্ট্রাল গোডাউন, সাধারণ প্রশাসন বিভাগ, হিসাব বিভাগ, প্ল্যানিং ইউনিট, প্রকিউরমেন্ট ইউনিট ইত্যাদি। প্রতিটি ইউনিট একটি আরেকটির সঙ্গে আন্তঃসংযুক্ত এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হয়।
হাতিল প্রডাকশন বিভাগের কাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান, একটি মাসিক ও একটি সাপ্তাহিক পরিকল্পনা ব্যবহার করে। যন্ত্র বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকারী দল উৎপাদনরত পণ্যের গুদামজাত পরিমাণ নিশ্চিত করে উৎপাদন ও বিতরণের সময়সীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি বৈঠক করে। কারণ একবার কোনো কাঁচামাল যন্ত্রে প্রবেশ করালে পণ্য তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ করা যায় না। কারখানাটি এ পদ্ধতিতে ন্যূনতম সময়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করছে। পদ্ধতিটি স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া কোনোরূপ পরিকল্পনা ছাড়া যেকোনো সময় বন্ধ করা যায় না। অত্যাধুনিক এ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিট যুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সলিড উড ও প্যানেল প্রসেসিং ইউনিট। অত্যাধুনিক বিভাগটি অভিজ্ঞ ক্রু এবং উন্নত যন্ত্রপাতির সহায়তায় উচ্চ মানের বিভিন্ন তাক, প্যানেলিং ইত্যাদি উৎপাদন করে। এছাড়া গাছ থেকে পাওয়া শক্ত ও নিরেট কাঠ নিয়ে কাজ করা হয় এখানে। এ বিভাগে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলো প্রায় ৩০ বছর ধরে হাতিলের নকশা করা ফার্নিচারের একটি শৈল্পিক মাপকাঠির উদাহরণ বলা চলে। বিশ্ববিখ্যাত হাই-এন্ড সফটওয়্যার ড্রাইভ ব্যবহার করার কারণে এখানে আসবাব তৈরি করতে অতীতের চেয়ে কম সময় প্রয়োজন হয়।
আরেকটি ফোম ইউনিট। তাঁতের আসবাবপত্রে ব্যবহৃত ফোমও এ কারখানায় উৎপাদন হয়। কারখানার সমন্বিত উৎপাদন সিস্টেম হ্যান্ডলুম আসবাবপত্রের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন ধরনের ফোম আইটেম তৈরি করে। এ ইউনিটে উচ্চতর কাঁচামাল ব্যবহারের পাশাপাশি সবচেয়ে আপ-টু-ডেট কৌশল অনুসরণ করা হয়। সার্ফবোর্ডগুলো মূলত বালিশের জন্য কাটা ফোমের বর্জ্য ও ফাইবার বর্জ্য দিয়ে তৈরি করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি হচ্ছে ডোর অ্যান্ড প্লাইউড ইউনিট। কাঠের অবশিষ্টাংশ ও পাতলা কাঠ থেকে উচ্চতর মানের দরজা, বোর্ড ও প্লাইউড তৈরিতে মসৃণ কর্মক্ষমতাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে এ বিভাগ। বিখ্যাত ফ্লাশ অ্যান্ড স্টার্ন দরজা এ ইউনিটেই তৈরি করা হয়।
এছাড়া মেটাল ইউনিটের কথা বলা যেতে পারে। বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ধাতব আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। উচ্চ মানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এ ইউনিটে দেশীয় ধাতব আসবাবপত্রের চাহিদার একটি বড় অংশ উৎপাদিত হচ্ছে। এ বিভাগে দৈনন্দিন আসবাবে ব্যবহার উপযোগী অ্যাকসেসরিজ এবং স্মার্ট ফিক্সচার তৈরি করা হয়, যা হস্তশিল্প পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশগত নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় এ কারখানার পুরো কম্পাউন্ডকে অগ্নি শনাক্তকরণ ডিভাইস এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে। ফার্নিচার নির্মাণে ব্যবহার করা হয় এফএসসি সার্টিফায়েড কাঠ। এছাড়া কারখানার ধুলা যাতে বাইরে গিয়ে পরিবেশ দূষণ না করে এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যহানি না ঘটায়, সেজন্য অত্যাধুনিক ডাস্ট কালেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। এ ডাস্ট কালেক্টর মেশিনে কারখানায় উৎপন্ন কাঠের ধুলা সংগ্রহ করা হয়, যাকে উচ্চচাপ প্রয়োগ করে ব্লক আকারে পরিণত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মেশিনে উৎপন্ন কাঠের গুঁড়ো ও ছোট টুকরাকে পার্টিকেল বোর্ড আকারে রিসাইকেল করা হয়। এছাড়া ফ্যাব্রিক ও ফোমের অবশিষ্টাংশ দিয়ে রিবাউন্ড ম্যাট্রেস তৈরি করা হয়, যা কাঁচামাল ও পণ্য পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করে। কারখানাটির ছাদে স্থাপনকৃত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদিত হয়, যা কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিপণন ও রফতানির জন্য কারখানায় আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে পণ্য উৎপাদন করে হাতিল। নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের দল সর্বদা উদ্ভাবনী পণ্য তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে। এর পাশাপাশি প্রজেক্ট সলিউশন টিম হোটেল, হাসপাতাল, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও সরকারি প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সজ্জার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে।
২০১৩ সালে হাতিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রথম বিদেশী শোরুম উদ্বোধন করে এবং কুয়েত, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রে মূল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক হিসেবে পণ্য রফতানি শুরু করে। পরে ২০১৪ সালে কানাডার টরন্টোতে দ্বিতীয় বিদেশী শোরুম খোলা হয়। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নেপাল ও ভুটানে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। আর ২০১৭ সালে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের অধীনে ভারতের চণ্ডীগড়ে শোরুম চালু করার মাধ্যমে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১১-২০১২ অর্থবছরে দেশের ফার্নিচার রফতানি ছিল ২৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার, যা কয়েক গুণ বেড়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১১০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এ রফতানি খাতেও ভূমিকা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। দরজা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে হোম ফার্নিচার, অফিস, হসপিটাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফার্নিচারসহ সব ধরনের ফার্নিচার তৈরি করে থাকে। দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৭৮টি আউটলেট রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মিসর, রাশিয়া, নেপাল, ভুটান ও ভারতের মতো বাজারে হাতিল একটি জনপ্রিয় নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৭টি ও ভুটানে দুটি আউটলেট রয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে হাতিল ফার্নিচার গ্রিন অপারেশন (সবুজ উৎপাদন পদ্ধতি) ক্যাটাগরিতে ‘এইচএসবিসি-ডেইলি স্টার ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড, ২০১৩’ পুরস্কার লাভ করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্র্যান্ডেড ও নন-ব্র্যান্ডেড মিলে ফার্নিচার শিল্পের বর্তমান আকার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল ফার্নিচার মার্কেটের ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হাতিল সরবরাহ করে। বেশির ভাগ মার্কেট এখনো আন-অর্গানাইজড বা নন-ব্র্যান্ডেড শোরুমগুলোর দখলে। অতীতে অনেকে বিদেশ থেকে ফার্নিচার আমদানি করতেন, যা অনেকাংশে কমে গেছে। কারণ এখন দেশেই আন্তর্জাতিক মানের ফার্নিচার তৈরি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পণ্যগুলো আভিজাত্য ও উচ্চ মানের আসবাব হিসেবে দেশের ও বিদেশের বাজারে প্রায় ৩৪ বছর ধরে স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কেট শেয়ার এবং ফার্নিচারের চাহিদা বাড়লে প্রয়োজনে কারখানা বিদেশে সম্প্রসারণের জন্য তৈরি হাতিল কর্তৃপক্ষ।





