এবারের বাজেটে স্থানীয় পর্যায়ে ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ৫ শতাংশ করারোপের সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ প্রস্তাব পাস হলে বাড়বে পণ্যটির দাম। অন্যদিকে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে দেশে সংযোজন করে বিক্রি করেন যারা, তাদেরও এবারের বাজেটে স্থানীয় উৎপাদক হিসেবে বিবেচনায় নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। এসব বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক ও রেফ্রিজারেটরের প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান মল্লিক

এবারের বাজেটে ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি বাতিল করে ৫ শতাংশ কর ধার্যের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কীভাবে দেখছেন বিষয়টি?

আসলে সম্পূূর্ণ শিল্পবান্ধব বাজেট বলতে যে বিষয়টা, এবারের বাজেটে তা আমরা পাইনি। কারণ সরকারকে ভ্যাট যেটা দিতে হবে, সেটা আমরা দিতে চেয়েছিলাম। আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু এটা আমরা চেয়েছিলাম যে পর্যায়ক্রমে বাড়ে। শুরুতেই ৫ শতাংশ না দিয়ে অল্প কিছু, ধরুন দুই বছর ৩ শতাংশ, এরপর ৫ শতাংশ, এভাবে ধীরে ধীরে বাড়ুক। যেহেতু এটা প্রস্তাবিত তাই সরকার পুনর্বিবেচনা করবে আশা করি।

এবারের বাজেটে নতুন করে ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটরের জন্য একটি কাস্টমস এস.আর.ও. হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

এস.আর.ও. হওয়ার ক্ষেত্রে আগে থেকে কথা বলা দরকার ছিল। এটা শুধু আমরাই না, এখন ১২টির বেশি উৎপাদক দেশে রয়েছে। এতে যারা নতুন করে সংযোজন করার জন্য আসবে তাদের জন্য অনেক লাভজনক হবে। এখন এত বছর ধরে আমরা এ শিল্পটাকে সরকারের নীতিগত সহযোগিতার কারণে এ পর্যায়ে এলাম, সেটার জন্য কিছুটা খারাপ লাগছে। 

কাঁচামাল থেকে শুরু করে একটা পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত কাজ করছে, তার চেয়ে বেশি লাভবান হবে যারা বাইরে থেকে পণ্য এনে সংযোজন করে। তারাও উৎপাদনকারীর মর্যাদা পেয়ে যাবে। আরেকটা অসুবিধা হয়ে যাচ্ছে, যেখানে কাঁচামাল নিয়ে এলে আমদানি ব্যয় যা হতো, সংযোজনের জন্য পণ্য নিয়ে এলে সেখানে আমদানি ব্যয়টাও বেড়ে যাচ্ছে। এখন ফ্রিজ সংযোজন করতে গেলে অনেক মানুষের প্রয়োজন নেই। তখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। আমরা মূলত মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছি। সেই নীতিগত জায়গা বাধাগ্রস্ত হবে।

বর্তমান বাজারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজের কথা বলা হচ্ছে। এটা আসলে কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী?

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য প্রধানত দুটো বিষয় দেখার প্রয়োজন। প্রথমত, কোন কুলেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, দ্বিতীয়ত, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যদি এটা ইনভার্টার টেকনোলজি এবং আর৬০০-এর হয়, তাহলে এটা অবশ্যই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। আমরা যতগুলো ফ্রিজ উৎপাদন করছি সব আর৬০০-এর। সেই সাথে ইনভার্টার টেকনোলজি আমাদের এখানে যুক্ত হওয়ায় ৬০-৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। আর আমরাই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডিপ ফ্রিজেও ইনভার্টার টেকনোলজি নিয়ে আসছি। ওয়ালটনের ২৫টিরও বেশি মডেলে ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহূত হয়। কোন ফ্রিজ কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী তা বোঝার জন্য বিএসটিআইয়ের একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ও টেস্টিং প্রসেস আছে, যার মাধ্যমে ফ্রিজে স্টার রেটিংয়ের জন্য স্টিকার লাগানো হয়। যে ফ্রিজ যত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী তার স্টার রেটিং তত বেশি। এ স্টিকার লাগানোর প্রসেস এখনো বাধ্যতামূলক না। যদি করা হয় তাহলে সাধারণ ক্রেতাও সহজেই তা বুঝতে পারবেন। কিন্তু বাজারে কিছু কিছু আছে শুধু আর৬০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলছে। কিন্তু সেটা আসলে অতটা কার্যকর না। এটার জন্য বিএসটিআইয়ের একটা গাইডলাইন আছে। এটার জন্য আমাদের প্রতিটি ফ্রিজে এ স্টিকার লাগিয়ে দিই। যদি এ স্টিকার বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে কোন ফ্রিজ কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী তার একটা নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে দেশে ফ্রিজের বাজারের আকার কত?

আমরা যখন ২০০৭ সালের দিকে শুরু করি, তখন এটা সর্বোচ্চ আড়াই-তিন লাখের বাজার ছিল। এখন ৪০ লাখের মতো ফ্রিজের বাজার বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশের বাজারে ওয়ালটনের হিস্যা ৭৫ শতাংশের মতো।

ঈদুল আজহায় আপনারা নতুন কী আনছেন বাজারে?

এবারের ঈদ উপলক্ষে আমরা ২৩টি নতুন ডিজাইনের ফ্রিজ নিয়ে আসছি। বেশ কিছু নতুন মডেল আসছে। বিভিন্ন ধরনের দরজার কালার ও ডিজাইন করা হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদা বুঝে আমাদের গবেষক দল সেভাবে ডিজাইন, কালার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।