গিয়ার-ক্লাচের ঝামেলা নেই। নিয়ন্ত্রণও সহজ। স্টাইলেও আছে আভিজাত্য। এসব কারণে তরুণ-তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্কুটার। স্বাধীনচেতা নারীরও প্রথম পছন্দ এ দ্বিচক্রযান। নানা বয়সী ক্রেতার কথা মাথায় রেখে কোম্পানিগুলোও বাজারে ছাড়ছে নিত্য-নতুন স্কুটার।

মোটরসাইকেল নিয়ে আলোচনা হলে প্রথমেই চলে আসে জাপানি ব্র্যান্ড হোন্ডার নাম। বাংলাদেশে মোটরবাইকের পাশাপাশি হোন্ডার আকর্ষণীয় স্কুটারও রয়েছে। হোন্ডা ডিও। এটি বাংলাদেশে হোন্ডার প্রথম স্কুটার। বাজারে ছাড়া হয়েছে দুটি রঙে। একটি ‘স্পোর্টস রেড’ অন্যটি ‘ক্যান্ডি জাজি ব্লু’। নারী-পুরুষ উভয়ের কথা মাথায় রেখেই হোন্ডা এ স্কুটারটি বাজারজাত করছে। স্কুটারটির বিশেষত্ব হলো সিটের নিচে সুপরিসর জায়গা। ১৮ লিটার ধারণ ক্ষমতার এ স্টোরেজে অনায়াসেই ব্যবহারকারীর হেলমেট, ব্যাগসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র রাখা সম্ভব। রয়েছে সেলফোন চার্জ করার সুবিধাও। ১০০ সিসির স্কুটারটির দাম ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

আরেক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইয়ামাহা বাংলাদেশে তিনটি মডেলের স্কুটার বাজারজাত করছে। এগুলোর মধ্যে স্টাইলে সবচেয়ে এগিয়ে ‘ইয়ামাহা ফ্যাসিনো’। ১১৩ সিসির স্কুটারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এয়ারকুলার ইঞ্জিন। সিটের নিচে রয়েছে ২১ লিটারের বিশাল স্টোরেজ। হ্যান্ডেলের নিচেও ছোট স্টোরেজ আছে, যেখানে রাখা যাবে পানির বোতলসহ ছোটখাটো জিনিস। সাতটি আলাদা রঙে বাজারজাত করা হচ্ছে ‘ইয়ামাহা ফ্যাসিনো’। দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ফ্যামিলি স্কুটার হিসেবে পরিচিত ‘ইয়ামাহা আলফা’। চওড়া ও লম্বা সিটের এ স্কুটারটির ইঞ্জিন ১১৩ সিসির। পাদানিও সুপরিসর। জ্বালানিসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ‘ইয়ামাহা আলফা’য় ব্যবহার করা হয়েছে টিউবলেস টায়ার। রয়েছে অ্যাডভান্সড ডিস্ক ব্রেক। দেশের বাজারে তিনটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে স্কুটারটি। দাম ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

স্কুটার নারীদের বাহন, এসন ধারণা পাল্টে দিয়েছে ‘ইয়ামাহা রে-জেডআর’। ‘নেক্সট জেনারেশনের রিয়েল বয়েজ স্কুটারের’ ধারণা নিয়ে রে-জেডআর বাজারজাত করছে ইয়ামাহা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১১৩ সিসির ৪ স্ট্রোক ইঞ্জিন। দ্বিস্তরবিশিষ্ট সিট স্বস্তি দেবে চালক-আরোহী দুজনকেই। স্কুটারটির দাম পড়বে ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

‘বাজেট স্কুটার’ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে রানারের কাইট প্লাস। ১১০ সিসির স্কুটারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ডিসিডিআই ইঞ্জিন। কিকের পাশাপাশি রয়েছে ইলেকট্রিক স্টার্টের সুবিধা। স্কুটারটির সামনের চাকায় ব্যবহার করা হয়েছে ২২০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক। পেছনের চাকায় রয়েছে ১১০ মিলিমিটারের ড্রাম ব্রেক। ওজনেও হালকা, মাত্র ১০০ কেজি। তিনটি রঙে দেশের বাজারের রানারের ‘কাইট প্লাস’ বিক্রি হচ্ছে ৮৩ হাজার টাকায়।

এর বাইরে সুজুকি, টিভিএস, হিরো, মাহিন্দ্র, এপ্রিলিয়া, লিফান, ভেসপাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের স্কুটার রয়েছে বাজারে। ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে ১ লাখ থেকে শুরু করে আড়াই-তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দাম পড়বে এসব স্কুটারের।