দেশের মোটরসাইকেলের বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড বাজাজ। ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় এ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারজাত করছে উত্তরা মোটরস। এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৪ লাখ ইউনিট বাজাজ মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি দেশের মোটরসাইকেল বাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন উত্তরা মোটরসের ব্র্যান্ড ও পিআর বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক উৎপল কে সাহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান রাহাত
দেশের মোটরসাইকেল বাজারের বর্তমান অবস্থা কী?
গত বছর দেশে সাড়ে তিন লাখ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে বাজাজের মোটরসাইকেল ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার। এ বছর মোটরসাইকেলের বিক্রি চার লাখ ইউনিটে দাঁড়াবে। প্রতি বছরই মোটরসাইকেলের বিক্রি ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।
মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়ার কারণ কী?
মূলত দুটি কারণে দেশে মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়ছে। একটি হচ্ছে, আগের তুলনায় মোটরসাইকেলের দাম কমেছে। এতে মানুষ আগের চেয়ে কম দামে মোটরসাইকেল কিনতে পারছে। আরেকটি হচ্ছে, যানজটের কারণে সময় বাঁচাতে মানুষ মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে।
রাইডশেয়ারিংয়ের কারণেও তো মোটরসাইকেলের বিক্রি বেড়েছে।
রাইডশেয়ারিংয়ের কারণে আমাদের বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। এর কারণ হলো, রাইডশেয়ারিংয়ের জন্য যারা মোটরসাইকেল কিনছে, তাদের বেশির ভাগই কিস্তিতে কিনে থাকে। অন্যদিকে আমাদের মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনার সুযোগ নেই।
বাজাজের শীর্ষস্থানীয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হয়ে ওঠার কারণ কী?
বাংলাদেশের বাজারে যারা ভারতীয় ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারজাত করছে, সেগুলোর কোয়ালিটিতে খুব বেশি পার্থক্য নেই। এক্ষেত্রে মূল যে বিষয়টি অন্যদের চেয়ে আমাদের এগিয়ে রেখেছে, তা হচ্ছে বিক্রয়োত্তর সেবা। মোটরসাইকেল কেনার পর আমরা দুই বছর পর্যন্ত ফ্রি সেবা দিচ্ছি। কেনার সময় আপনাকে একটি সার্ভিস বুক দেয়া হবে। এটি দেখিয়ে দেশের যেকোনো স্থানে আপনি আমাদের সার্ভিস সেন্টারে সেবা নিতে পারবেন। দেশব্যাপী উত্তরা মোটরসের ৩৫০টি অথরাইজড সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। তাছাড়া থ্রি এস পলিসির (সেলস, সার্ভিস, স্পেয়ার) আওতায় সারা দেশে আমাদের ৩৩৭ জন নিজস্ব ডিলার রয়েছে। এর বাইরেও দেশের যেকোনো স্থানে বাজাজের মোটরসাইকেলের পার্টস সহজলভ্য। দামও তুলনামূলক কম।
দেশে স্থানীয়ভাবে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যে কারখানা স্থাপন করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে কর অব্যাহতি পাওয়ার শর্তই ছিল দেশে কারখানা করতে হবে। সে কারণেই বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এখানে কারখানা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাজাজ, হিরো, হোন্ডা, টিভিএস ও রোডমাস্টার (লিফান)। আমরা গত বছর সাভারে বাজাজ মোটরসাইকেলের কারখানা করেছি। সেখানে বর্তমানে বেন্ডিং, কালার, প্লাস্টিকসহ ছোট ্পার্টস তৈরি করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে একসময় দেশেই পুরো মোটরসাইকেল তৈরি করা সম্ভব হবে।
বাজাজের বাইক সবচেয়ে বেশি কোথায় বিক্রি হয়?
সারা দেশেই বাজাজের বাইকের চাহিদা রয়েছে। ঢাকা বেশ বড় একটি বাজার। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে আমাদের বেশ বড় একটি বাজার রয়েছে।
বাজাজের কোন ব্র্যান্ডের বাইক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়?
ডিসকভার সিরিজের বাইকগুলো বাজাজের সর্বাধিক বিক্রীত বাইকের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। আমাদের বিক্রির ৬০ শতাংশই আসে ডিসকভার থেকে। এরপরই রয়েছে পালসার সিরিজের বাইক। বর্তমানে আমরা পালসার, অ্যাভেঞ্জার, ডিসকভার, প্লাটিনা ও সিটি সিরিজের বেশ কয়েক ধরনের বাইক বিক্রি করছি। বাজারে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৭৯ হাজার ৫০০ টাকায় বাজাজের বাইক কেনা যাবে।
দেশে মোটরসাইকেল বাজারের সম্ভাবনা কেমন?
প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেলের বাজার বাড়ছে। আগের তুলনায় দামও বেশ কমে এসেছে। তবে আমাদের এখানে রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। এটি কমানো গেলে বিক্রি আরো বাড়বে। ভবিষ্যতে মিয়ানমারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাংলাদেশ থেকে বাইক রফতানির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এটি করা গেলে দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও আমাদের অংশগ্রহণ বাড়বে।
ঈদ উপলক্ষে বাজাজের বাইকে কী অফার আছে?
ঈদুল আজহা সামনে রেখে ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় অফার রয়েছে। বাজাজের বাইক কিনলে লটারির মাধ্যমে প্রাইভেট কার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজন গ্রাহক বাজাজের বাইক কিনে সুজুকি-অলটু-৮০০ প্রাইভেট কার উপহার পেয়েছেন।






