এএলআরডি, এইচডিআরসি ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে গত ৩০ অক্টোবর, ২০২১ ‘বাংলাদেশ ভূমি শাসন ব্যবস্থা প্রতিবেদন-২০২০’ শীর্ষক একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকদের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে এ ক্রোড়পত্র
খুশী কবির
চেয়ারপারসন, এএলআরডি
সমন্বয়ক, নিজেরা করি
বাংলাদেশে যারাই বসবাস করেন, তাদের সবারই কোনো না কোনোভাবে ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক থাকে। সেটা নিজের সূত্রে হোক কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে হোক। সবাই জানে যে ভূমি রেজিস্ট্রি, ভূমি বিক্রি, ভূমি ধরে রাখতে, ভূমিকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, ভূমিতে ফসল ফলানো হবে কিনা, কোন খাতে কোথায় ব্যবহার করা হবে প্রভৃতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নীতি বাস্তবায়নের অনেক সমস্যা আছে। ঠিক একইভাবে আর্থিক ও পারিবারিকভাবে ভূমি নিয়ে আছে আইনি দুর্বলতা। আইনের বাস্তবায়নে আরো দুর্বলতা আছে। ভূমি নিয়ে আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ক্ষেতমজুর, ভূমিহীন নারী, পুরুষ বা আদিবাসী যেই হোক না কেন, ভূমির ওপর সবার অধিকার আছে। আমার ভূমি আমি কীভাবে ব্যবহার করব, এটা আমি রাখতে পারব কিনা, কতটুকু রাখতে পারব ইত্যাদি বিষয় আইনে রয়েছে। তবে অনেক কিছুই আইনে নেই। যত বিধান আছে, তার অনেক কিছুই আবার অস্পষ্ট।
ভূমি নিয়ে কোনো মামলা হলে, কোনো জায়গায় কোনো সমস্যা হলে এটা বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে সন্তান, তার সন্তান, সন্তানের সন্তান—মামলা চলতেই থাকে। ভূমি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যাও হয়। সবচেয়ে বেশি জটিলতাও থাকে। অনেক ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয় ভূমির কারণে। যেমন ধর্ষণ, হত্যা, মারধর—অধিকাংশই ভূমিকেন্দ্রিক। মূল বিষয় হলো, আমাদের ভূমি শাসন ব্যবস্থা নানা ধরনের জটিলতায় নিমজ্জিত। ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। আশা করি, উপস্থাপিত প্রতিবেদন থেকে ভূমি ব্যবস্থাপনা সংস্কারে একটি দিকনির্দেশনা আমরা পাব।
রওশন জাহান মনি
উপনির্বাহী পরিচালক
এএলআরডি
বাংলাদেশে এই প্রথম ভূমি শাসন ব্যবস্থার ওপর কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আমি ২০১০ সালের একটু কথা বলতে চাই। ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড কোয়ালিশনের (আইএলসি) একটি বিস্তৃত গবেষণা পদ্ধতি, ইনডেক্স এবং বৈশ্বিক সূচক প্রভৃতির আলোকে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ণয় করে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন থেকে ১১ বছর আগে আইএলসি এ রকম বিভিন্ন বিষয়ে ইনডেক্স তৈরি করে। আমরাও কাজ শুরু করি। ম্যাপে বিভিন্ন দেশের অবস্থা ও পরিসংখ্যান দেয়া আছে। যেগুলো মানুষ ব্যবহার করে, জানে; এটি দেশে দেশে ভিন্ন। তার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক রকম অ্যাকশন তৈরি হয়। আয়োজনটি যখন হলো, তাদের প্রয়োজন ছিল একটি ছোট্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি। যেখানে তারা এটা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করবেন। কীভাবে এটি হতে পারে। ব্যাংককে প্রথম মিটিং হয়। স্যার (আবুল বারকাত) অনেক ব্যস্ততা সত্ত্বেও সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানেই শুরু কীভাবে এটি হাতে পারে। অনেক আলোচনা হয়েছে। আমার দু-একটি কথা মনে আছে। শুরুতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কী করে ডাটা তৈরি করা যায় এবং কাজটিতে জনগণকে কী করে সম্পৃক্ত করা যায়, বিশেষ করে প্রত্যক্ষ ডাটার ক্ষেত্রে, সে পদ্ধতি সম্পর্কে স্যার আমাদের গাইড করেছেন। সেটি নিয়ে শুরু। পরবর্তী সময়ে রোমে যখন বৈশ্বিক বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আলোচনাটি হলো তখন বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্যার সেখানেও সময় দিয়েছেন। সেখানে তিনি পুরো পদ্ধতি উপস্থাপন করেছিলেন। কীভাবে এই ল্যান্ড মেট্রিক্স বা ইনডেক্সগুলো তৈরি হতে পারে। ডাটাগুলো নিয়ে দেশে কীভাবে কাজ করা যেতে পারে, তার পথও তিনি বাতলে দিয়েছেন। অনেক ঘাটতি থাকবে, সেটা কী করে পূরণ হতে পারে। কী করে এটি প্রমাণীকরণ করা যায় এবং এটাকে আমলে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি হতে পারে। যেটা সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক হবে। সেখান থেকে ১১ বছর পরে আইএলসি বিভিন্ন ধাপে কাজ করেছে। আমরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এইচডিআরসি সম্পৃক্ত ছিল। আজ ১১ বছর পর বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে পুরোটাই এইচডিআরসির নেতৃত্বে আমরা করেছি। এত বছর পর আমরা সফল এ অর্থে, বৈশ্বিক ডাটার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ভূমি শাসন ব্যবস্থাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন এই প্রথম এ দেশের ইতিহাসে প্রকাশ হচ্ছে।
ড. আবুল বারকাত
সভাপতি
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি
প্রধান উপদেষ্টা, এইচডিআরসি
এখন থেকে
১২
বছর
আগে
আমরা
ল্যান্ড
রিফর্ম
ইনডেক্স
বা
ভূমি
সংস্কার
সূচক
বিনির্মাণ
করি।
এর
১০
বছর
পর
দুই
বছর
ধরে
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
ইনডেক্সের
কাজ
করি।
নির্মোহ
সত্য
ইতিহাসটা
এ
রকম
যে,
এ
দুটোতেই
যদিও
জাতিসংঘের
ইন্টারন্যাশনাল
ল্যান্ড
কোয়ালিশনস
বা
আইএলসি
এবং
বাইরের
অনেকেই
জড়িত,
তার
পরও
এটা
মেড
ইন
বাংলাদেশ।
এখন
আমি
যে
প্রতিবেদন
‘বাংলাদেশ
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
রিপোর্ট-২০২০’
পেশ
করব
তা
প্রতি
দুই
বছর
পর
পর
অগ্রগতি
দেখা
হবে।
প্রতিবেদনে
ভূমির
শাসন
ব্যবস্থা
বোঝার
চেষ্টা
করা
হয়েছে।
এর
জন্য
গ্লোবাল
ল্যান্ডেক্স
বলে
একটা
মেথডলজি
তৈরি
করা
হয়েছে।
বেশ
জটিল।
বহু
তথ্য
দরকার।
সুবিধাটা
হলো,
যেমন
হিউম্যান
ডেভেলপমেন্ট
রিপোর্টে
হিউম্যান
ডেভেলপমেন্ট
ইনডেক্সে
স্কোর
যখন
বলা
হয়
তখন
একটা
দেশের
সঙ্গে
আরেকটা
দেশের
তুলনা
করা
যায়।
এক্ষেত্রেও
তা-ই
হবে।
আমার
যে
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
ইনডেক্স
তৈরি
করেছি
তা
দিয়ে
একটা
দেশের
সঙ্গে
আরেকটা
দেশের
তুলনা
করা
যাবে।
এরই
মধ্যে
এ
বিষয়ে
আংশিক
কাজ
প্রায়
১০টা
দেশে
শেষ
হলো।
ভারত,
নেপাল,
মালয়েশিয়া,
মেক্সিকো,
কলম্বিয়াসহ
বেশকিছু
দেশ
কাজ
করছে;
এক্ষেত্রে
বাংলাদেশ
অগ্রণী।
ভূমি শাসন
ব্যবস্থা বলতে
কী বুঝি
আমরা: ভূমিসংশ্লিষ্ট স্বার্থ
বা
ল্যান্ড
বেজড
ইন্টারেস্ট
কীভাবে
কাজ
করে,
কে
তা
নিয়ন্ত্রণ
বা
কন্ট্রোল
করে,
কীভাবে
তার
ব্যবস্থাপনা
বা
ম্যানেজমেন্ট
হয়
ইত্যাদি।
আর
ক্ষুদ্র
অর্থে
ভূমি
হচ্ছে
কৃষিজমি।
আর
বৃহৎ
অর্থে
ভূমি
হচ্ছে
কৃষি,
বন,
জলা
ইত্যাদি।
একটা
প্রেক্ষাপট
এ
প্রতিবেদনে
আছে।
প্রেক্ষাপট
এ
রকম—আমরা
যখন
সামগ্রিক
শাসন
ব্যবস্থার
কথা
বলি,
তখন
প্রায়ই
আমরা
‘গুড
গভর্ন্যান্স’
কথাটি
শুনি।
তার
মানে
‘হেড
দেয়ার
বিন
নো
ব্যাড
গভর্ন্যান্স’
বা
খারাপ
শাসন
না
থাকলে
ভালো
শাসনের
প্রশ্ন
ওঠে
না।
ভূমিতে
এ
সুশাসন
একেবারেই
ঘুণে
ধরা।
ভূমি
নিয়ে
যা
হচ্ছে
তাকে
উইক
গভর্ন্যান্স
বলতে
পারেন,
ল্যাক
অব
গুড
গভর্ন্যান্স
বলতে
পারেন,
অল
ফর্ম
অব
ব্যাড
গভর্ন্যান্সও
বলতে
পারেন।
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
ইনডেক্সে
আমরা
এটা
দেখতে
পাচ্ছি।
ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড
কোয়ালিশনের
(আইএলসি) গণকেন্দ্রিক
ভূমি
শাসন
ব্যবস্থার
১০টা
অঙ্গীকার
বা
কমিটমেন্ট
অন্তর্ভুক্ত।
তার
সঙ্গে
আছে
৩৩টা
নির্দেশক।
আর
সবমিলে
আছে
৩০০
প্রশ্ন।
বিষয়টা
বেশ
জটিল।
কিন্তু
রকেট
সায়েন্স
নয়।
এখানে
মেথডলজি
বা
পদ্ধতি
যা
আছে,
সেখানে
তিনটি
স্তরে
হিসাবপত্র
হয়।
একটা
স্তর
হচ্ছে
জাতীয়।
তলার
মতো
উপরের
দিকে
যায়।
সব
যোগ
করলে
জাতীয়।
বাংলাদেশের ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
স্কোর
কত?
আদর্শ
স্কোর
১০০।
আর
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
স্কোরের
পাস
মার্ক
৪০।
বাংলাদেশ
কিন্তু
ফেল।
সেকেন্ড
হচ্ছে
ন্যাশনাল
একটা
স্কোর।
এ
স্কোরটা
যেহেতু
১০টা
পিপলস
সেন্টারড
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্সে
অঙ্গীকার
বা
প্রতিশ্রুতির
যোগফল,
প্রতিটি
প্রতিশ্রুতির
অবস্থাটা
কী?
এটা
জানলে
সুবিধা
এই,
যদি
সত্যিকার
অর্থে
গুড
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
করতে
চান
তাহলে
এটা
কাজে
লাগবে।
এগুলো
তো
নির্দেশকভিত্তিক।
নির্দিষ্ট
নির্দেশকের
অবস্থা
কী?
একটার
সঙ্গে
আরেকটার
অবস্থা
তুলনা
করতে
চান।
অন্য
দেশের
সঙ্গে
তুলনা
করতে
চান।
বৈশ্বিক
ঘটনার
সঙ্গে
তুলনা
করতে
চান।
করতে
পারবেন
এবং
সেখান
থেকে
এগোনো
সম্ভব
হবে।
প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু: মোট
৩০৭
পৃষ্ঠা,
মূল
টেক্সট
১৩৭
পৃষ্ঠা,
রেফারেন্স
২৭৪টি,
অ্যানেক্স-ড্যাশবোর্ড
মেথডলজি
১৩৭
পৃষ্ঠা,
অধ্যায়
আছে
১৩টি।
এখানে ১০টা
অঙ্গীকার
আছে।
একটা
হলো
ভূমিতে
দখলিস্বত্বের
অধিকার
নিশ্চিতকরণ।
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্সে
যদি
আপনি
ভালো
করতে
চান,
তাহলে
ভূমিতে
যত
ধরনের
স্বত্ব
আছে,
সব
অধিকার
নিশ্চিত
করতে
হবে।
এ
রকম
১০টা
অধিকার
আছে—ভূমির
ওপর
ব্যক্তিগত
অধিকার
(প্রাইভেট রাইটস
অন
ল্যান্ড),
গোষ্ঠীর
অধিকার,
নারীর
অধিকার,
আদিবাসী
মানুষের
অধিকার,
ভূমিহীন
ক্ষুদ্র
কৃষকের
অধিকার,
স্থানীয়ভাবে
ব্যবস্থাপনায়
প্রতিবেশ
ব্যবস্থা,
অন্তর্ভুক্তিমূলক
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ,
স্বচ্ছতার
সঙ্গে
তথ্যে
প্রবেশাধিকার,
ভূমিদস্যুতার
বিরুদ্ধে
অ্যাকশন
ও
অঙ্গীকার
এবং
ভূমি
অধিকার
নিয়ে
যারা
কাজ
করেন
তাদের
নিরাপত্তা।
চেইন
দিয়ে
যিনি
জমি
মাপেন,
তারও
কিন্তু
নিরাপত্তা
নেই।
আর
যারা
ভূমি
অধিকার
নিয়ে
আন্দোলন
করেন,
তারা
তো
ভূমিদস্যুদের
ঠেলায়
প্রশ্নই
উত্থাপন
করতে
পারেন
না।
এসব
কাঠামো
নিয়েই
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্স
ইনডেক্স।
১০টার
প্রতিটিকে
যদি
১০
নম্বর
দেয়া
হয়,
দশ
দশে
একশ।
সেখানে
বৈশ্বিক
গড়
কত,
আর
আমাদের
নম্বর
কত।
এগুলোর ওপর
নির্ভর
করে
বৈশ্বিক
ভূমি
শাসন
ব্যবস্থার
গড়
বের
করা
হয়।
ল্যান্ড
গভর্ন্যান্সের
বৈশ্বিক
গড়
হচ্ছে
১০০-তে
৫১।
বাংলাদেশের
স্কোর
নম্বর
৩৫।
৪০
যদি
পাস
ধরা
হয়,
তবে
বাংলাদেশ
ফেল।
ক্ষুদ্রায়তন
চাষাবাদ
ব্যবস্থা
শক্তিশালীকরণে
বাংলাদেশের
আনুষ্ঠানিক
স্কোর
মোটামুটি
ভালো,
কিন্তু
ভালোভাবে
বিচার
করলে
এ
নম্বর
কমে
আসবে।
তাহলে
বাংলাদেশের
মোট
গড়
স্কোর
আরো
কমে
যাবে।
এটি
দিয়ে
বোঝা
যায়,
বাংলাদেশের
ভূমি
শাসন
ব্যবস্থা
খুবই
দুর্বল।
বাংলাদেশের দুর্বল
ভূমি
শাসন
ব্যবস্থার
অন্যতম
একটি
কারণ
ব্যক্তিগত
ভূমিস্বত্ব
অরক্ষিত।
ব্যক্তিগত
ভূমি
মালিকানা
লাভের
সাংবিধানিক
অধিকার
সব
বাংলাদেশী
নাগরিকের
থাকলেও
উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক
প্রাপ্তবয়স্ক
নাগরিকের
ভূমিতে
ব্যক্তিগত
স্বত্ব
বা
মালিকানা
বা
প্রবেশাধিকার
নেই।
ধনী
বা
ক্ষমতাবান
ছাড়া
খুব
স্বল্প
সংখ্যক
নাগরিকেরই
ভূমিস্বত্ব
বা
মালিকানার
সুরক্ষা
রয়েছে।
নারী,
আদিবাসীসহ
দরিদ্র
জনগোষ্ঠীর
ভূমিস্বত্ব
অরক্ষিত,
অধিকার
লঙ্ঘিত।
আরেকটি কারণ
হচ্ছে,
কমিউনিটির
ভূমি
অধিকার
সংকুচিত।
কমিউনিটি
ভূমির
স্বীকৃতি,
সংরক্ষণ
এবং
নিবন্ধনের
নির্দিষ্ট
কোনো
আইন
নেই।
ব্যক্তিগত
ঐতিহ্যিক
এবং
আদিবাসী
ভূমি
মালিকানা
সমরূপ
সুরক্ষা
সুবিধা
ভোগ
করে
না।
আরেকটি কারণ
হলো,
নারীর
ভূমি
অধিকার
সীমিত।
সম্পত্তির
উত্তরাধিকারে
নারীর
সমান
অধিকার
নেই।
উত্তরাধিকার
আইনে
তার
যতটুকু
প্রাপ্য,
নারী
তা
থেকেও
বঞ্চিত।
বাংলাদেশের
গ্রামাঞ্চলে
মোট
জমির
মধ্যে
মাত্র
৪
শতাংশ
জমির
কার্যকর
মালিক
নারী।
ভূমির
মালিকানা
বা
নিয়ন্ত্রণে
নারীর
জন্য
কোনো
আর্থিক
সম্পদ
বরাদ্দ
থাকে
না।
বৈবাহিক
সম্পর্কাধীন
অবস্থায়
বা
নিয়ন্ত্রণের
অধিকার
লিঙ্গসমতা
কদাচিৎ
স্বীকৃত।
ভূমি
প্রশাসনে
অংশগ্রহণে
নারীর
জন্য
কোটা
নেই।
আদিবাসী মানুষের
ভূমি
অধিকার
নেই।
আদিবাসী
মানুষের
ভূমি
অধিকার
স্বীকৃত
নয়,
যতটুকু
আছে
তাও
সহজে
হরণযোগ্য।
সমতলের
দুই-তৃতীয়াংশ
আদিবাসী
মানুষ
কার্যত
ভূমিহীন।
পার্বত্য
আদিবাসী
মানুষের
ভূমি
অধিকার
বলে
তেমন
কিছু
নেই।
বনভূমি,
কৃষি,
জমি-জলা
ভূমির
নির্বিচার
অধিগ্রহণ
নিত্যনৈমিত্তিক
ব্যাপার।
পাহাড়-সমতল
নির্বিশেষে
জমি-জলা-জঙ্গল
আদিবাসী
মানুষের
জন্মগত
অধিকার,
ঐতিহ্যগত
অধিকার,
সামাজিক
অধিকার,
গোষ্ঠীগত
অধিকার
ও
ন্যায়
অধিকার
হরণ
করা
হয়েছে।
বাংলাদেশ
আদিবাসীদের
ভূমি
অধিকারসহ
মানবাধিকার
সংরক্ষণের
গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক
দলিল
‘আইএলও
কনভেনশন
নং
১৬৯’
অনুস্বাক্ষর
করেনি।
ভূমিহীন খুদে
পারিবারিক
কৃষক!
ছোট
আকারের
কৃষি
ব্যবস্থার
অঙ্গীকারে
বাংলাদেশ
সর্বোচ্চ
স্কোর
অর্জন
করলেও
খুদে
কৃষকের
অবস্থা
ভালো
নয়,
কখনই
ছিল
না।
ভূমিনীতি,
ভূমিদস্যুতা,
ভূমিহীনতা,
বাজার
ব্যবস্থা—এসবের
মিথস্ক্রিয়ায়
একসময়
হয়তো
খুদে
কৃষক
বলে
কিছুই
থাকবে
না।
এর
মূল
কারণ,
খুদে
কৃষকের
ভূমিহীনতা,
ভূমিতে
প্রবেশাধিকারহীনতা।
খুদে
কৃষকের
প্রায়
সবাই
পারিবারিক
কৃষির
সঙ্গে
জড়িত।
কিন্তু
পারিবারিক
কৃষির
যেমন
সুনির্দিষ্ট
কোনো
সংজ্ঞা
নেই,
তেমনি
নেই
পারিবারিক
কৃষিবান্ধব
কোনো
নীতিমালা।
সরকারি
কৃষি
কার্যালয়গুলোয়
পারিবারিক
কৃষির
নির্দিষ্ট
রেজিস্টার
নেই।
ভূমিহীনতা
থেকে
শুরু
করে
অন্যান্য
কৃষির
উপকরণপ্রাপ্তিতে
সমস্যা
খুদে
পারিবারিক
কৃষকের
উৎপাদন
সংকট
তৈরি
করে।
অনানুষ্ঠানিক,
আইনি
কাঠামোর
বাইরে
বিদ্যমান,
বর্ধমান
চুক্তিবদ্ধ
চাষ
খুদে
পারিবারিক
কৃষকের
জন্য
নতুন
মাথাব্যথার
কারণ
হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
উৎপাদিত
পণ্যের
সংরক্ষণ
সমস্যা,
উৎপাদনের
ন্যায্যমূল্য
না
পাওয়া
প্রভৃতি
সমস্যায়
খুদে
পারিবারিক
কৃষকরা
অতিমাত্রায়
ক্ষতিগ্রস্ত
হন।
‘সব
খাব’র
বাজার
ব্যবস্থা
পুরো
কৃষি
ব্যবস্থাকেই
এমন
একটা
জায়গায়
নিয়ে
ফেলেছে,
যেখানে
খুদে
পারিবারিক
কৃষকের
দাঁড়ানোর
জায়গা
নেই।
বিপন্ন প্রতিবেশ!
স্থানীয়
পর্যায়ে
কোনো
‘টেকসই’
ভূমি
ব্যবহার
পরিকল্পনা
নেই।
ভূমি
ব্যবহার
নিয়ে
কোনো
পরিকল্পনা
হলে
সেখানে
স্থানীয়
ভূমি
ব্যবহারকারী
ও
মালিকদের
অধিকার
বিবেচনায়
নেয়া
হয়
না।
এ
দুইয়ের
নিট
ফল
হচ্ছে
বিপন্ন,
বিপর্যস্ত
পরিবেশ।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ
প্রক্রিয়া
অন্তর্ভুক্তিমূলক
নয়।
জাতীয়
নীতিমালা,
কর্মপরিকল্পনা,
আইন
প্রভৃতি
প্রণয়নে
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
প্রক্রিয়ায়
গণ-অংশগ্রহণ
অনেকটাই
‘প্রদর্শনমূলক’।
লোকদেখানো
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
প্রক্রিয়ায়ও
নারী-পুরুষের
সমান
অংশগ্রহণ
থাকে
না।
জনমত
ও
দায়িত্ব
ভাগাভাগির
ভিত্তিতে
গ্রামীণ
ভূমি
ব্যবহার
পরিকল্পনা
ও
পরিবর্তনের
চর্চা
এখনো
গড়ে
ওঠেনি।
ভূমি
শাসন
ব্যবস্থার
ইস্যুগুলো
আলোচনা-পর্যালোচনার
জন্য
রাষ্ট্র
কোনো
বহুপক্ষীয়
প্লাটফর্ম
গঠন
করেনি।
স্বচ্ছ তথ্য
সহজপ্রাপ্য
নয়!
ভূমিসংক্রান্ত
সরকারি
বিভিন্ন
বিধি-নিষেধ
ও
চার্জের
রেকর্ড
ঠিকমতো
থাকলেও
সেবাগ্রহীতারা
উচ্চমূল্য
(ঘুষ!) ছাড়া
সেগুলো
জানতে
পারেন
না।
ব্যক্তিমালিকানাধীন
জমির
বেশির
ভাগই
ক্যাডাস্ট্রাল
মানচিত্রে
সহজে
চিহ্নিত
করা
যায়
না।
ভূমিসংক্রান্ত
বা
অন্যান্য
দুর্নীতির
ক্ষেত্রে
‘জিরো
টলারেন্স’
জাতীয়
পর্যায়ের
আইন
বা
নীতিমালায়
সুস্পষ্টভাবে
উল্লিখিত
নেই।
ভূমি গ্রাসের
অভয়ারণ্য!
রেন্ট
সিকার
অধ্যুষিত
এ
সমাজে
ভূমি
গ্রাস
নিয়মিত,
স্বাভাবিক
ঘটনা।
জমি-জলা-জঙ্গল
থেকে
ছলে-বলে
কৌশলে
উচ্ছেদ
করে
যাদের
ভূমি
গ্রাস
করা
হচ্ছে,
তাদের
সঙ্গে
ন্যূনতম
অর্থবহ
এবং
অংশগ্রহণমূলক
আলোচনার
সুযোগ
আইনে
সীমিত,
বাস্তবে
অনুপস্থিত।
সামরিক-বেসামরিক
স্থাপনা,
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
প্রভৃতির
জন্য
সরকারি
সংস্থা
ও
বেসরকারি
করপোরেট
প্রতিষ্ঠান
অধিগ্রহণের
নামে
যে
বিশাল
ভূমি
গ্রাস
করছে,
তার
কোনো
স্বচ্ছতা
ও
জবাবদিহির
চর্চা
নেই।
সুপারিশমালা: ভূমি শাসন
ব্যবস্থার
উন্নয়নে
৫৪টি
নীতি
ও
কার্যক্রমসংক্রান্ত
সুপারিশ
দেয়া
হয়েছে।
এখানে
১৪টি
সুপারিশের
ওপর
জোর
দেয়া
হয়েছে।
প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীর
অধিকার,
ক্ষুদ্র
কৃষক
ও
প্রতিবেশ
ব্যবস্থা,
অন্তর্ভুক্তিমূলক
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
ও
তথ্যাধিকার-সংক্রান্ত
সুপারিশমালা
এবং
ভূমিগ্রাস
ও
ভূমি
অধিকার
কর্মীর
নিরাপত্তাসংক্রান্ত
সুপারিশমালা।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারে পাঁচটি সুপারিশ: সামাজিক শ্রেণী-জাতিগত
পরিচিতি-লিঙ্গ
নির্বিশেষে
প্রতিটি
নাগরিকের
ভূমি
অধিকার
রক্ষায়
রাষ্ট্রকে
সুস্পষ্ট
এবং
কার্যকর
পদক্ষেপ
নিতে
হবে।
কমিউনিটি
ভূমি
যেন
ব্যক্তিমালিকানাধীন
ভূমির
মতোই
সমান
সুরক্ষা
পায়,
সেজন্য
আইনি
কাঠামো
তৈরি
করতে
হবে।
উত্তরাধিকার
প্রশ্নে
জমি-সম্পত্তিতে
নারী-পুরুষের
সমান
অধিকার
প্রতিষ্ঠার
লক্ষ্যে
একক
আইন
প্রণয়ন
করতে
হবে।
আদিবাসী
মানুষের
প্রথা
ও
ঐতিহ্যগত
ভূমি
অধিকারের
আইনগত
স্বীকৃতি
দিতে
হবে।
আদিবাসী
মানুষের
জমি-জলা-বনভূমির
অধিকার
নিশ্চিতকরণে
স্থানীয়
সরকার,
স্থানীয়
শাসন
ও
ঐতিহ্যগত
শাসন
কাঠামোর
সর্বোচ্চ
সমন্বিত
পদক্ষেপ
নিশ্চিত
করতে
হবে।
খুদে কৃষি
ও প্রতিবেশ-সংক্রান্ত সুপারিশমালা: সব
খাসজমি
ও
জলা
(চিহ্নিত-অচিহ্নিত)
অনতিবিলম্বে
দেশের
দরিদ্র-ভূমিহীন-প্রান্তিক
খুদে
পারিবারিক
কৃষিখানার
মাঝে
বণ্টন
জরুরি।
পাশাপাশি
গণমুখী
সমবায়ভিত্তিক
খামার
ব্যবস্থা
গঠনে
প্রণোদনা
দিতে
হবে।
উপকরণ,
ক্রেডিট,
বাজারজাত
এবং
অন্যান্য
উৎপাদনশীল
উদ্দেশ্য
বাস্তবায়নে
খুদে
পারিবারিক
কৃষকদের
সমবায়
গঠন
করা
উচিত।
টেকসই
ভূমি
ব্যবহার
পরিকল্পনা
এবং
সেখানে
স্থানীয়
ভূমি
ব্যবহারকারীদের
অধিকারের
সুরক্ষা
দিতে
হবে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও
তথ্যাধিকার-সংক্রান্ত সুপারিশমালা: সব জাতীয়
আইন
ও
নীতিমালায়
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
প্রক্রিয়ায়
নারী-পুরুষের
সমান
অংশগ্রহণের
আহ্বান
জানাতে
হবে।
রাষ্ট্রের
ভূমি
ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত
একটি
বহুপক্ষীয়
প্লাটফর্ম
জরুরি
ভিত্তিতে
তৈরি
করা
উচিত।
তথ্য
অধিকার
আইন,
২০০৯
বাস্তবায়নে
কার্যকর
পদক্ষেপ
নিতে
হবে।
ভূমিগ্রাস ও
ভূমি অধিকার কর্মীর নিরাপত্তাসংক্রান্ত সুপারিশমালা
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ভূমিগ্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। রাষ্ট্রের ভূমিগ্রাসের নীতি থেকে সরে আসতে হবে। বণ্টনকৃত ও বণ্টনযোগ্য সব খাসজমি অবৈধ দখলদার থেকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা। এজন্য একটি কঠোর ও কার্যকর ‘খাসজমি উদ্ধার ও বণ্টন আইন’ প্রণয়ন জরুরি। ভূমি অধিকার কর্মীদের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপত্তায় আইনি কাঠামো তৈরি এবং সুরক্ষা সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
ড. শফিক-উজ-জামান
অধ্যাপক
অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এটা একটা অত্যন্ত ‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন’ বিষয়। আমরা জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন কথাটি খুব বেশি বলি। আসলে কতটা বুঝে বলি, প্রশ্ন আসতেই পারে। আমরা বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। অবশ্য বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু কীভাবে এগিয়েছে। এটার ভিত্তি কতটা মজবুত, সেটা বলতে গেলে অনেক প্রশ্ন আসবে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি নির্ভর করে কৃষির ওপর। কৃষিকে বাদ দিয়ে কোনো কৌশলই এখানে কার্যকর হবে না। কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার অর্থ অন্যগুলোকে অবহেলা নয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও গার্মেন্ট শিল্পকে অবহেলা করছি না।
বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাতে হলে শিল্পায়ন প্রয়োজন। শিল্পায়ন ব্যতীত কোনো দেশই দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশ সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এ দেশের প্রধান ভিত্তি হলো কৃষি। যদিও এখানে বেশি গুরুত্ব পাবে শিল্প। আমরা যদি কৃষিকে শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করি, তাহলে অধিক সুফল মিলবে। কৃষকদের আয়বর্ধনের জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হবে না। বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পরোক্ষভাবে ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কাজেই এ কৃষিকে বাদ দিয়ে আমরা অর্থনীতির স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদির দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারব না। সেজন্য আমরা বলছি কৃষির কথা। যত উন্নয়নের কথা বলি, পৃথিবীতে পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলন প্লাস্টিকের বিরুদ্ধেও। বাংলাদেশে মাথাপিছু দিনে চারটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার হয়। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৬৮ কোটি প্লাস্টিক ব্যাগ প্রতিদিন ব্যবহার হয়। অথচ প্লাস্টিকের বিপরীতে আমাদের বিরাট একটা সম্ভাবনা ছিল জুট। জুট কটন ব্যবহার করে আমরা ব্যাগ তৈরি করেছিলাম ‘জুটন’। কিন্তু সেটা বাজারজাত করা যায়নি।
আমাদের এ দেশের শিল্পায়ন হতে হবে কৃষিনির্ভর। পাশাপাশি অন্য শিল্প থাকবে। কৃষিকে যদি আমরা গুরুত্ব দিই, কৃষকের আয় বাড়বে। কৃষকের আয় বাড়া মানেই শিল্পায়নের ভিত্তি সম্প্রসারণ করা। এখানে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পায়নের জন্য সর্বপ্রথম যে জিনিসটা প্রয়োজন, তা হলো ভূমি সংস্কার। শিল্পায়নের ভিত্তি হবে কৃষি।
প্লাস্টিক বুড়িগঙ্গা ধ্বংস করে দিচ্ছে। যদি আমরা জুট ব্যবহার করতাম তাহলে এ সমস্যা এতো গভীর হতো না। প্লাস্টিক আমাদের মাটির উর্বরা শক্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। জুট আমাদের বিরাট একটা সম্ভাবনার দিক। গার্মেন্ট থেকে আজকে রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসছে। সেখানে ৫০ শতাংশও যদি কৃষিভিত্তিক শিল্প থেকে আনতে পারি, তাহলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।
আবু সাঈদ খান
উপদেষ্টা সম্পাদক
দৈনিক সমকাল
বাংলাদেশ দ্রুত ধনী হওয়ার দেশ। এ কথা যেমন সত্য, ঠিক একইভাবে সত্য বাংলাদেশ দ্রুত জমি কুক্ষিগত করার দেশ। কিছু লোকের হাতে জমি কুক্ষিগত হয়ে যাচ্ছে। কেউ কারখানার জন্য, কেউ শিল্পের জন্য ভূমি দখল করছে। যেখানে এক একর জমি দরকার, সেখানে ১০ একর জমি কেনা হচ্ছে। এর ওপর কোনো আইন নেই এবং কোনো ব্যবহার নীতি নেই। এজন্য কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ হচ্ছে। এমনকি গ্রামেও অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে। আমি খোঁজখবর নিয়েছিলাম, ভুটানে একটি ভালো ভূমি ব্যবহার নীতি রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত কার্যকরভাবে তারা ভূমি ব্যবহার করার নীতি বাস্তবায়ন করতে পারছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমি সমস্যা অনেক পুরনো। অনেক জটিল ব্যাপার। এখানে বারবার সরকারের পক্ষ থেকে, ওখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কথা বলা হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে কিন্তু অগ্রগতি খুবই সামান্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামেই শুধু নয়, সমতলের আদিবাসীরাও ভূমি থেকে বঞ্চিত। আর সব নারীই তো ভূমি থেকে বঞ্চিত। পৈতৃক সম্পত্তিতে মুসলিম নারীরা পুরুষের অর্ধেক পাচ্ছে, হিন্দু নারীরা তো পাচ্ছেই না এবং আইনগতভাবে যা পাচ্ছে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নারীরা পুরুষের সঙ্গে সমতালে কাজ করার পরও তার অর্জিত সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না। হিন্দু নারীদের অবস্থা আরো শোচনীয়। এসব বিষয় বিবেচনা করা দরকার। এখানে আইন পরিবর্তনের দরকার। অর্থাৎ ভূমির শাসন ব্যবস্থায় সুশাসন আনতে হলে আমাদের প্রচলিত পারিবারিক আইন, উত্তরাধিকার আইনেও পরিবর্তন আনতে হবে। সেই কাজগুলো কিন্তু মোটেও দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছে না। ভোটাধিকার যদি সংবিধানে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, নারীদেরও যদি সমঅধিকারের কথা বলতে পারি, ভূমি আইনের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নে বাধা কোথায়?
সঞ্জীব দ্রং
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম
বাংলাদেশের সামগ্রিক শাসন ব্যবস্থা দুর্বল। ভূমি শাসন ব্যবস্থা আরো দুর্বল। এ কথার মাঝেই বাংলাদেশের ভূমি শাসন ব্যবস্থার পুরো চিত্র উঠে আসে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা আদিবাসী মানুষ, আমাদের কথাগুলো যে বলি, একটা গান আছে না—অন্ধের দেশে আমরা চশমা বিক্রি করি। অনেকটা এ রকম। অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলছি। আমাদের কোনো নিরাপত্তাও নেই। ৩০ বছর ধরে আমি নিজেই কথা বলছি। আমরা কি ৫০ বছর ধরে কথা বলব, নাকি আজীবন-মৃত্যু পর্যন্ত কথা বলে যাবো? কখনো কখনো মনে হয়, আমরা এমন দেশে কথা বলছি, যেন অন্ধের একটা দেশ। যেখানে আমরা গান ধরছি। লাভ তো হবে না। অন্ধই যদি হয় শাসন ব্যবস্থা, চশমা পরে কী হবে?
বহুপক্ষীয় মঞ্চ আদিবাসী মানুষ। আমি মনে করি, এ মুহূর্তে যেটা দরকার—আদিবাসী মানুষ এখন যে যেভাবে আছে, দলিল-কাগজ থাকুক বা না থাকুক, একটা রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা। এ রকম যে আদিবাসীরা যে যেভাবে ভূমিতে আছে, তাদের কোনো রকম বিরক্ত করা যাবে না। ভূমি কমিশন হোক বা না হোক। তাদের ভূমিতে কোনো ন্যাশনাল পার্ক, পর্যটন প্রকল্প, ইকো ট্যুরিজম যা এখন চলছে সুফল প্রকল্প সামাজিক বনায়নের নামে—এ রকম কোনো প্রকল্প আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত করা যাবে না। এ রকম একটা নির্দেশনা খুবই জরুরি। আদিবাসীদের জীবনকে, আদিবাসীদের ভূমিকে, বনকে কোনো রকম প্রভাবান্বিত করে রাষ্ট্রীয় হোক বা বেসরকারি হোক, কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে এখন কেউ কথা বলছেন না, কিছু মানুষ ছাড়া। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন—এটা নিয়ে ২৩ বছর ধরে কেউ কথা বলছেন না। এটা কি এভাবে থাকবে নাকি কী করব? আমার নিজেরই একটি প্রশ্ন। এটা একটা শক্ত আন্দোলন। নাগরিক সমাজ বলি, নীতিনির্ধারক বলি, মিডিয়া বলি—এটা জোরদার করা দরকার। নীতিনির্ধারকদের কাছে যদি আমরা পৌঁছতে চাই, আমি মনে করি এ ধরনের অনেক বেশি আলোচনা দরকার।
সমতলের আদিবাসীরা ভূমিতে আরো বেশি বঞ্চিত। দুই-তৃতীয়াংশ আদিবাসী সমতলে বাস করে। তাদের বিষয়টা আমাদের আরেকটু সক্রিয়ভাবে দেখা উচিত। গাইবান্ধায় ২০১৬ সালে সাঁওতালদের যে মেরে ফেলা হলো, পাঁচ বছর হলো। বিচার এখনো হয়নি। সমতলের আদিবাসীদের জন্য সরকারের প্রতিশ্রুত যে ভূমি কমিশন, সেটি হওয়া খুবই জরুরি। প্রচলিত ভূমি অধিকার আইন দিয়ে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। সেজন্য আদিবাসীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটা ভূমি আইন করা দরকার।
হৈমন্তী সরকার
নির্বাহী পরিচালক
পামডো
সভ্য সমাজ বিনির্মাণে শুধু সভ্য মানুষরাই কি চিন্তা করে যাবে নাকি সামগ্রিকভাবে সব মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে? অথবা যারা আদতেই সভ্য সমাজ বিনির্মাণে পদক্ষেপ নিতে পারবে, রাজনীতিবিদ, আমলা যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারাও কি এ বিষয় বুঝবেন? আমরা অনেক কিছু আলোচনা করি, অবশ্যই আলোচনা করার দরকার আছে। নয়তো যাদের আমরা শোনাতে চাইছি, তাদের কান পর্যন্ত যাবে না এটি। অবশ্যই তাদের কানে পৌঁছাতে হবে এটি।
নির্দিষ্ট বিষয় আলোচনার কথাই বলি, আপনি ভূমি অফিসে যান, এখানে পুরুষদেরই যে ধরনের কথাবার্তা আচরণের মুখোমুখি হতে হয়, একপর্যায়ে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। কী হবে, এটা না হলে কী হবে! আমি যদি আমার জমি না পাই কী হবে? এত কি ১০ বছর ২০ বছর ধরে ঘোরা যায়? আমি ব্যক্তিগতভাবে এত আক্রমণাত্মক ভাষার মুখোমুখি হয়েছি, বলে প্রকাশ করা যাবে না। অবশ্যই মাঠ পর্যায়ে যে প্রশাসন কর্মরত, খুবই সম্মানের সঙ্গে বলছি, তাদের মনোভাব পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। এটা কীভাবে করা সম্ভব, আমি জানি না। মেয়েদের প্রতি এমন বিরূপ মনোভাব, আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি যখন আমার নামে করতে যাই, সে সময় আমাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম। এগুলো নিয়ে যখন কথা বলার প্রসঙ্গটা আসে, তখন আর কথা বলার মতো অবস্থাটা থাকে না।
বিভূতিভূষণ মাহাতো
সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ
আদিবাসীদের যে সমস্যা তা আমাদের সবারই জানা। জাতীয়ভাবে এ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু আসলে বিষয়গুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশে ভূমি শাসন ব্যবস্থায় যদি স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে চাই, তবে প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে হবে সবার আগে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের সময় ভূমিসংক্রান্ত বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। আদিবাসীদের যে আইন রয়েছে, সেটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয়া উচিত। সেক্ষেত্রে আদিবাসীদের ভূমি হস্তান্তর বা সংরক্ষণে প্রশাসন একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমান যে প্রেক্ষাপটে চলছে, সেখানে আদিবাসীদের সম্পর্কে তাদের কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই। ভূমি সম্পর্কে ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশাসনের যে কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের কাছেও এ ধারণাগুলো অস্পষ্ট বলেই মনে হয়েছে।
শামসুল হুদা
নির্বাহী পরিচালক
এএলআরডি
বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় হচ্ছে একটি নেগলেকটেড চাইল্ড অব দ্য গভর্নমেন্ট। সবচেয়ে কম গুরুত্বহীন মন্ত্রণালয়গুলোর একটি হচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়। অথচ এখানেই হচ্ছে মানুষের সব অধিকার ভাগ্য। ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ ভূমির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এটি কম গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে ভূমিমন্ত্রী হিসেব দায়িত্ব পান। সবচেয়ে কম বাজেট ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য হয়। ভূমি শাসন ব্যবস্থার যদি উন্নয়ন বা পরিবর্তন ঘটাতে হয়, তাহলে অবশ্যই ভূমি শাসন কাঠামোগুলো পরিবর্তন না করে করা যাবে না। আর সেখানে হাত দিতে গেলে দুটো বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। একটি হচ্ছে রিসোর্স (উপায়) লাগবে এবং বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যারা ভূমি বিষয়ে বোঝেন না, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাম শোনেননি এমন লোককে ভূমিমন্ত্রী বানালে চলবে না। ভূমি বিষয়ে বোঝেন এবং ভূমি ব্যবহারকারী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দরদ আছে, এমন মানুষকে ভূমিমন্ত্রী করতে হবে। এমন মানুষকে ভূমি প্রশাসনে বসাতে হবে।
এখনো আমাদের প্রশাসন ব্যবস্থা কলোনিয়াল লিগ্যাসি বহন করে। তারা নিজেদের প্রভু ভাবে। সাধারণ মানুষ তাদের কাছে গেলে তাদের প্রজা, অধীনস্থ কর্মচারী ভাবে। মানুষকে সম্মান করতে হবে।
এই কলোনিয়াল আমলাতান্ত্রিক যে কাঠামো, এ কাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে। তার জন্য রিসোর্স দরকার, প্রশিক্ষণ দরকার। তাদের মানসিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তাদের বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতির ভেতর দিয়ে মানুষকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, শ্রদ্ধা করতে হয় সেটা শিখতে হবে। সত্যিকারের ভূমি ব্যবহারকারী মানুষরা কতটা পরিশ্রম করে এ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে, সেটি তাদের জানার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে ভূমির শাসন কাঠামোর যে মৌলিক পরিবর্তন, সে পরিবর্তন ঘটবে না। ভূমির শাসন কাঠামোর একটি আমূল পরিবর্তন আনতে হবে এবং অনন্ত পক্ষে চার-পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়কে বিবেচনা করতে হবে। সরকারের অগ্রাধিকারে নিতে হবে এবং সে ধরনের যোগ্য, দক্ষ, সৎ ব্যক্তিদের সেখানে নিয়োগ দিতে হবে। তাছাড়া ভূমি শাসন ব্যবস্থার স্কোর আরো নিচে নেমে যেতে পারে। ৩০-এর নিচেও নামতে পারে। কিন্তু এটার ওপর গোটা জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।
আর কৃষিবান্ধব শিল্পোন্নয়ন হতে হবে। কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়। ভূমির প্রতি সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কৃষিজমিকে নষ্ট করা যাবে না। ভূমির প্রতি যে অবিচার, তার অবসান ঘটাতে হবে, তার প্রতি সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং যে নিরাপত্তাহীনতা আছে, নারীর আছে, সংখ্যালঘুদের আছে, ভূমিহীনদের আছে, আদিবাসীদের আছে, দরিদ্র কৃষকদের আছে—এ নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটাতে হবে। এজন্য ভূমি শাসন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করতেই হবে। সে লক্ষ্যে আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যদি সরকার চায়। প্রশাসনের সঙ্গে, বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে, কীভাবে তারা বদলাতে চান, যদি তারা লক্ষ্য স্থির করেন যে বদলাবেন, আমরা তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমরা যারা ভূমি অধিকার রক্ষাকারী, মানবাধিকার রক্ষাকারী—আমরা তাদের সহযোগী হতে চাই।
কিন্তু তাদের এজেন্ডা পরিষ্কার করতে হবে। সত্যি সত্যি তারা জনগণের জন্য কিছু করতে চান, তারা এখানে উন্নয়ন দেখতে চান, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চান এবং মানুষকে তারা সম্মান করতে চান। তাহলে অবশ্যই আমরা তাদের সহযোগী এবং তাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।
কৃষ্ণপদ মুন্ডা
পরিচালক
সুন্দরবন আদিবাসী
মুন্ডা সংস্থা (সামস)
সারা দেশে আদিবাসীদের অবস্থা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থা একই রকম। শোষণ, নির্যাতন, বঞ্চনার শিকার হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত। তবে এলাকাভিত্তিক, অঞ্চলভিত্তিক বা ভৌগোলিকভিত্তিক অবস্থানভেদে একটু ভিন্ন চিত্র দেখি। এছাড়া কিছু নয়।
সরকার আমাদের প্রতি সদয় নয়, সহযোগী নয়। কিন্তু আমরা যদি সরকারকে বা স্থানীয় প্রশাসনকে কিছুটা মোটিভেটেড, সংবেদনশীল করতে পারি, তাহলে কিছু অর্জন করা সম্ভব। কিছুটা সফল হওয়া সম্ভব। এ সূত্রে আমি বলতে চাই, আমাদের শ্যামনগর উপজেলায় গেটখালী মুন্ডাপাড়ায় জমিকেন্দ্রিক একটা ঝামেলা ছিল। সেটা ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। তখন থেকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো খবর। ১৯৭৩ সালে চলা সেই সমস্যা ১০ অক্টোবর, ২০২১ সালে এসে আমরা সম্পন্ন করলাম।
এখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খুব ভালো ভূমিকা রেখেছিলেন। আমরা তাকে ১৯৫০-এর যে ৯৭ ধারা অনুযায়ী আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এ বোঝানোর ফলে কিন্তু দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা ১০ অক্টোবর সমাধান করলাম। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়, জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রশাসন ও মানুষকে এর পক্ষে নিয়ে আসতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে—এটি হচ্ছে আমাদের অবস্থান। তাহলে কেউ না কেউ আমাদের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন এবং সহযোগিতা করবেন। প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, আদিবাসীদের প্রতি যাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে, সেটা একটু অন্যভাবে ঘুরিয়ে তাদের কাছে ইতিবাচকভাবে নিয়ে আসতে হবে। আমরা যে হতাশার কথা বলি, উদ্বেগ ও ঝুঁকির কথা বলি, তার মাঝেও আমাদের আশা দেখতে হবে, দেখতে হবে স্বপ্ন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছি, আমাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রাখা দরকার। আমি এএলআরডিকে অনুরোধ করব, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য এবং মাঝে মাঝে প্রশাসনকে নিয়েও বসার জন্য। এ ধরনের কিছু কাজ চলমান রাখতে পারলে আশা করি, হাজারো হতাশার মাঝে বিন্দু বিন্দু সফলতার চিত্র আমরা দেখতে পারব।
শ্রুতলিখন: লাইছ ত্বোহা





