বাংলাদেশ বর্তমানে ধান ও সবজি উৎপাদনে বিশ্বে যথাক্রমে চতুর্থ ও তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। নানা ধরনের সুস্বাদু ফল উৎপাদনেও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। স্বাদুপানির আহরিত ও চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে যথাক্রমে তৃতীয় ও পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। দেশ আজ মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, যা প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাছের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছে। কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে, যা মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি খাতে শ্রমিকের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪০ দশমিক ৬ ভাগ এবং তা কমে ২০৩০ সালে ২০ ভাগে দাঁড়াবে। সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি, ফল, দুধ ও ডিম উৎপাদন ও সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফসল উৎপাদনে যান্ত্রিকীকরণের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে ধান উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণের ফলে কম খরচ ও কম সময়ে যেমন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে, সেই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক ড্রায়ার, কালার সর্টার, উন্নত মিলিং যন্ত্রসহ আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ধানের অপচয় রোধ ও গুণগত মানসম্পন্ন চাল উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সরকারের আসন্ন কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে কৃষক পর্যায়ে ছোট ড্রায়ারের অন্তর্ভুক্তি এ ব্যবস্থাকে আরো বেগবান ও উন্নততর করবে। যথাযথ শুকানো ও বস্তাভর্তির ফলে পরিবহনের সময় ধানের অপচয় খুবই কম হচ্ছে।
যদিও মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ নানা ধরনের সবজি ও ফলের উৎপাদন হচ্ছে কিন্তু যথাযথ বাছাই, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার জন্য কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে ক্ষেত্র বিশেষে ২০-৪০ ভাগ সবজি বা ফল অপচয় বা নষ্ট হচ্ছে। এ অনভিপ্রেত সমস্যা কাম্য নয়, যা খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় হুমকিস্বরূপ। গবেষণায় দেখা গেছে টমেটো সংগ্রহ থেকে স্থানীয় বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত যথাযথ বাছাই প্রক্রিয়া না থাকায় স্তূপাকারে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে শতকরা ১৩ ভাগ টমেটো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় আড়তদারদের যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় শতকরা চার ভাগ টমেটো অপচয় হচ্ছে। তাছাড়া পাইকার/বেপারিরা স্থানীয় বাজার থেকে শহরের বাজারে পরিবহন করে নিয়ে এসে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে না বিক্রি করা পর্যন্ত প্রায় ১১ ভাগ টমেটো নষ্ট হচ্ছে। এর মূল কারণ স্তূপাকারে সংরক্ষণ ও পরিবহন, পরিবহনের সময় ঝাঁকুনি, যথাযথ প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকা। টমেটো পচনশীল হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে আট ভাগ নষ্ট হচ্ছে। তার মানে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে টমেটো ৩০-৩৬ ভাগ অপচয় বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কলা মাঠ থেকে স্থানীয় বাজারে কাঁচা অবস্থায় নেয়ার সময় নষ্ট হচ্ছে প্রায় তিন ভাগ। আড়তদার পর্যায়ে সঠিক সময়ে বাজারজাত, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় পাঁচ ভাগ। পাইকার/বেপারিরা যথাযথ পাকানোর ব্যবস্থা, কলার থেতলে অথবা ভেঙে যাওয়া, সঠিক প্যাকেজিং করে যথাযথ পরিবহন না করার জন্য নষ্ট হচ্ছে প্রায় ১৬ ভাগ। অর্থাৎ মোট ২৪ ভাগ কলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টমেটো ও কলা দুটো ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, যথাযথ বাছাই, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, উঠানো ও নামানো, সর্বোপরি যথাযথ পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য সবজি ও ফলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়।
বর্তমানে সবজি ও ফল স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন করা হচ্ছে খাঁচিতে মাথায় করে, রিকশাভ্যান, অটোরিকশা ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে। অন্যদিকে স্থানীয় বাজার থেকে ট্রাকে স্তূপাকারে শহরে পরিবহন করা হচ্ছে। কৃষকের মাঠ থেকে শহরের বাজার পর্যন্ত আনতে বিভিন্ন পর্যায়ে স্তূপাকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে আড়তগুলোয়, যার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নির্ভর করে বাইরের আবহাওয়ার ওপর। প্যাকেজিং ১৬ ভাগ হচ্ছে প্লাস্টিক ট্রেতে, বাকিটা সনাতন পদ্ধতিতে খাঁচায় অথবা স্তূপাকারে রেখে পরিবহন হচ্ছে। সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় সতেজ সবজি ও ফলের আশপাশের পরিবেশগত অবস্থা বিশেষ করে তাপমাত্রা, এগুলোর দ্রুত নষ্ট হওয়ার পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। উচ্চ তাপমাত্রা সবজি ও ফলের শ্বসন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করে, পানির হ্রাস ঘটায় ও দ্রুত নরম করে ফেলে এবং গুণগত মান হ্রাস করে, যা সবজি ও ফলের পচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। তাছাড়া উঠানো-নামানোর সময় ও পরিবহনের সময় কোনো কারণে থেতলে বা কেটে গেলে এ প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর হয়। যদি পরিবহন ব্যবস্থায় কৃষক থেকে শহর পর্যন্ত পৌঁছাতে লম্বা সময় লেগে যায় সেক্ষেত্রেও অপচয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের আম ইউরোপের মার্কেটে রফতানির জন্য সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন অংশীদারদের উদ্যোগে উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ আম বাগান থেকে সংগ্রহ করে ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক বাক্সে অবাধ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রেখে ট্রাকে পরিবহন করে আনা হয়। তারপর আমগুলো গ্রেডিং করে ও পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে ৩-৫ মিনিট গরম (৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পানিতে চুবানোর পর অতিদ্রুত ঠাণ্ডা (প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) করে সুদৃশ্য কাগজের বাক্সে প্যাকেট করা হয় ও সংরক্ষণ করা হয়। সেইসঙ্গে ফাইটোস্যানিটারি ও নিরাপদ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ইউরোপের বাজারে রফতানি করা হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সুখবর বটে।
দুধ সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা বেশ সফলতার সঙ্গে দুধ উৎপাদকদের নিয়ে সমবায় সমিতি করে এলাকাভিত্তিক দুধ সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিদিন দুবার দুধ সিলভার ক্যানগুলোয় সংগ্রহ করে বিভিন্ন পরিবহন (রিকশাভ্যান, অটোরিকশা ইত্যাদি) ব্যবস্থায় স্থানীয় শীতলীকরণ প্লান্টে নেয়া হয়। সেখান থেকে সাময়িকভাবে শীতলীকরণ করে তাপনিরোধক শীতল ট্যাংকারগুলোয় ঢাকায় নিয়ে নিজস্ব কারখানায় পাস্তুরিত দুধসহ বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাতীয় খাবার তৈরি করে বাজারজাত করা হয়, যা একটি যথোপযুক্ত পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার একটি উত্কৃষ্ট উদাহরণ। কিছু বেসরকারি কোম্পানিও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দুধ সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাত করছে। কিন্তু যেসব এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পৌঁছায়নি, সে এলাকাগুলোয় দুগ্ধ খামারিরা দুধ বালতি বা পাতিলে করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে এসে বিক্রি করছেন। এতে করে একদিকে যেমন দুধের অপচয় হচ্ছে, সেইসঙ্গে দুধের গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে, দুধ পাস্তুরিত না হওয়ায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশের সুযোগ থেকে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিম সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারি উদ্যোগে সুদৃশ্য যথাযথ প্যাকেজিং করে পরিবহন করায় ডিমের অপচয় বা নষ্ট খুবই কম হচ্ছে। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির পরিবহন ছোট খোলা পিকআপ ভ্যানে করা হচ্ছে, যা মানুষ, মুরগি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। অন্যদিকে মাছ শহরগুলোয় সরবরাহ করা হচ্ছে কর্কশিট দিয়ে তৈরি বাক্সে বরফ দিয়ে অথবা জীবন্ত মাছ বড় প্লাস্টিক ড্রামে পানি দিয়ে পিকআপ ভ্যান বা ট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছে।
ডিম সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যথাযথ বেসরকারি উদ্যোগে দেশে যুগান্তরকারী পরিবর্তন এসেছে, দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশের কিছু কিছু পকেটে সুন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে, কিন্তু দেশ সবজি ও ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। যদি আদর্শ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের কথা চিন্তা করি, তাহলে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ নজর দেয়া দরকার: ১. কৃষক পর্যায়ে সবজি ও ফল সংগ্রহের পরবর্তী সঠিক বাছাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ও খারাপ সবজি ও ফলগুলো আলাদা করে ফেলা। তাছাড়া সবজি ও ফলের প্রকার অনুযায়ী গ্রেডিং যন্ত্র ব্যবহার করে ছোট, বড় ও বিভিন্ন আকৃতি অনুযায়ী আলাদা করার ব্যবস্থা করা, ২. বাছাইকৃত সবজি বা ফল প্রকার, আকার ও আকৃতি অনুযায়ী যথাযথ প্যাকেজিং যেমন প্লাস্টিক বা কাগজের বাক্স, মডিফায়েড অ্যাটমোসফ্যারিক প্যাকেজিং ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। বহির্বিশ্বে এগুলো ব্যবহার হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে প্যাকেজিংয়ের অভিযোজিত গবেষণা তেমন হয়নি বিধায় সবজি ও ফলের প্রকার, স্থান ও ব্যবহার অনুযায়ী প্যাকেজিংয়ের প্রকার ও ধরন নির্ধারণ করতে গবেষণা প্রয়োজন, ৩. সবজি ও ফলের সরবরাহ চেইনে আড়তদার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত যেখানে যেখানে স্বল্প সময়ে সংরক্ষণ করা হয় সেসব জায়গাগুলোয় যথাযথ সবজি ও ফলের প্রকার অনুযায়ী তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। সেইসঙ্গে সবজি ও ফল সতেজ রাখার জন্য আড়তগুলোয় সুষম বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে সবজি ও ফলের প্যাকেজিং ও রাখার ধরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে পালন করবে, ৪. প্রত্যেক ক্ষেত্রে পণ্য উঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে ফর্কলিফটসহ যথাযথ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, যাতে সবজি ও ফল উঠানো-নামানোর সময় থেতলে বা কেটে না যায়, ৫. পরিবহন ব্যবস্থায় বিশেষ করে দীর্ঘ পরিবহনে সবজি, ফল ও পণ্যের প্রকার অনুযায়ী যথোপযুক্ত ভ্যান বা শীতলীকরণ ট্রাকের ব্যবস্থা করে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা এবং সেই সঙ্গে যাতে ঝাঁকুনি কম লাগে এমন রাস্তার ব্যবস্থা করা। এসব পণ্য পরিবহনে ট্রাকের সাসপেনশন স্টিল স্প্রিং টাইপের পরিবর্তে এয়ার রাইড সাসপেনশন ধরনের ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া দেশের নৌপথ ও রেলপথগুলো সংবেদনশীল এসব পণ্য পরিবহনে বেশি ব্যবহার করা যেতে পারে, ৬. নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে যথোপযুক্ত ভ্যান বা শীতলীকরণ চেইন ব্যবস্থা (সংরক্ষণ ও পরিবহনে) উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়গুলোয় গবেষণার পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে এ বিষয়গুলোর ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে, ৭. সবজি, ফল, দুধ ও ডিমের অপচয় রোধে সরবরাহ ব্যবস্থায় উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ট্র্যাকিং ও ট্র্যাসিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে করে অপচয় রোধে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যায়, ৮. দুধ উৎপাদন বিশেষ করে সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় মিল্ক ভিটার মডেলকে সামনে রেখে সরকাার ও বেসরকারি উদ্যোগে সারা দেশে জোরদার করা যেতে পারে, ৯. কম খরচে এয়ারেটর যন্ত্র ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন ও পরিবহনকালীন প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে জীবন্ত মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব, ১০. অন্যদিকে মৌসুমে সবজি, ফল ও মাছ উন্নত শুকানো যন্ত্রের মাধ্যমে শুকিয়ে ও সংরক্ষণ করে সুষম খাদ্য হিসেবে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের পুষ্টি ও খাদ্য চাহিদা কম খরচে মেটানো যেতে পারে। এ ব্যবস্থায় অপচয় রোধসহ খাদ্যের গুণগত মান বজায় রেখে প্রক্রিয়াজাত শুকনো খাবার সুদৃশ্য বায়োরোধী প্যাকেটে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।
আমরা যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় মানসম্মত সবজি, ফল, দুধ ও ডিমের আধুনিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে অপচয় রোধ করে নিরাপদ ও সুষম খাদ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারি, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ড. চয়ন কুমার সাহা: অধ্যাপক, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়





