একাত্তরের
রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য ঘটনাপ্রবাহের ভিড়ে অন্যতম হলো তত্কালীন যোগাযোগ খাতের দুর্দশার চিত্রগুলো। যুদ্ধকালীন ভূখণ্ডে কখনো পাকিস্তানি বাহিনী নিজেদের নিকৃষ্ট স্বার্থ হাসিলে ধ্বংস করেছিল রাস্তাঘাট, কখনোবা সেই পাকিস্তানি বাহিনীকেই প্রতিহত করতে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাধ্য হয়েছিলেন গুঁড়িয়ে দিতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ও কালভার্ট। নয় মাসের সেই যুদ্ধশেষে যতদিনে আমরা পেলাম সোনার বাংলা, ততদিনে সড়ক, নৌসহ সব যোগাযোগ খাত রুগ্ণপ্রায়। তাই দেশ স্বাধীনের পরই যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরু করেন দেশ পুনর্গঠনের কাজ, এর মাঝে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক পুনর্বাসন ও উন্নয়ন। বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের যোগাযোগ খাত দ্রুতগতিতে পুনর্বাসিত হতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে এর পরের চার দশকে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাত কোনোভাবেই সেই উন্নয়নের ধারা আর বজায় রাখতে পারেনি। আজ প্রিয় বাংলাদেশ যখন পা রাখছে ৫০ বছরে তখন ফিরে তাকিয়ে সর্বশেষ দশকটি দেখলে উন্নয়নের একটি ভিন্নধর্মী চিত্র দেখা যায়। একটি স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানে দেশের অন্যান্য খাতের মতো যোগাযোগ খাত পেয়েছে উন্নয়নের ধনাত্মক মাত্রা।
দেশের
সামাজিক, অর্থনৈতিক,
শিক্ষা ও
বাণিজ্যিক খাতের
সার্বিক বিকাশে
গত ১০
বছরে যোগাযোগ
খাতে গ্রহণ
করা হয়েছে
বেশকিছু মেগা
প্রজেক্ট। উল্লেখযোগ্য:
পদ্মা বহুমুখী সেতু
বাংলাদেশের
মতো উন্নয়নশীল
দেশের জন্য
পদ্মা সেতু
ইতিহাসের একটি
সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ
প্রকল্প। বাংলাদেশে
চলমান এ
প্রজেক্ট পুরকৌশল
বিদ্যার উত্কর্ষের
একটি মাইলফলক।
পদ্মার মতো
এত প্রমত্ত
ও খরস্রোতা
নদীতে সংযোগ
সেতু নির্মাণের
উদাহরণ বিশ্বে
বিরল। সেতুটির
১৫০ মিটার
দৈর্ঘ্যের ৪১টি
স্পান এরই
মধ্যে বসানো
সম্পন্ন হয়েছে।
৬ দশমিক
১৫ কিলোমিটার
দৈর্ঘ্য, ১৮
দশমিক ১০
মিটার প্রস্থ
এবং চার
লেনবিশিষ্ট এ
সেতুই হতে
যাচ্ছে বাংলাদেশের
সবচেয়ে বড়
সেতু। এতে
ব্যয় হচ্ছে
৩০ হাজার
৭৯৩ কোটি
৩৯ লাখ
টাকা। এরই
মধ্যেই সেতুটির
৯৫ শতাংশ
কাজ সম্পন্ন
হয়েছে। পদ্মা
সেতু বেশ
কয়েকটি ক্ষেত্রে
বিশাল ভূমিকা
রাখতে যাচ্ছে।
প্রথমত, সেটি
মানুষ ও
পণ্যের যাতায়াতের
সময় অনেক
গুণ কমাবে,
ব্রিজটি দক্ষিণাঞ্চল
ও ঢাকার
মধ্যে দূরত্বকে
১০০-১৫০
কিলোমিটার কমিয়ে
দেবে, যাতায়াতের
সময় কমপক্ষে
৩-৪
ঘণ্টা সাশ্রয়
করবে। দ্বিতীয়ত,
এ সেতুকে
ঘিরে অনেক
অবকাঠামোগত উন্নয়ন
হবে। পণ্য
পরিবহন সহজ
হওয়ায় ওই
অঞ্চলে বিনিয়োগ
বাড়বে এবং
সামাজিক, অর্থনৈতিক
ও শিল্পোন্নয়নে
উল্লেখযোগ্য অবদান
রাখবে। প্রকল্পটির
ফলে প্রত্যক্ষভাবে
প্রায় ৪৪
হাজার বর্গকিলোমিটার
বা বাংলাদেশের
মোট এলাকার
২৯ শতাংশ
অঞ্চলজুড়ে তিন
কোটিরও অধিক
জনগণ প্রত্যক্ষভাবে
উপকৃত হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা,
স্বাস্থ্য ও
অন্যান্য সেবার
উন্নয়নে এটা
ইতিবাচক ভূমিকা
রাখবে। সেতুটিতে
ভবিষ্যতে গ্যাস,
বৈদ্যুতিক লাইন
ও ফাইবার
অপটিক কেবল
সম্প্রসারণের ব্যবস্থা
রয়েছে। সেতুটি
নির্মিত হলে
দেশের জিডিপি
প্রায় ১
দশমিক ২
শতাংশ পর্যন্ত
বাড়বে এবং
প্রতি বছর
প্রায় সাড়ে
সাত লাখ
মানুষের কর্মসংস্থানের
সুযোগ সৃষ্টি
করবে।
এমআরটি
ঢাকা
মেট্রোপলিটন এরিয়ার
যানবাহন ব্যবস্থা
বর্তমানে প্রায়
পুরোটাই সড়ককেন্দ্রিক।
প্রাইভেট কার,
বাস, সিএনজি
অটোরিকশার সাথে
একই রাস্তায়
চলছে ধীরগতির
রিকশা। ফলে
শহরের অধিকাংশ
গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়
তৈরি হচ্ছে
তীব্র ট্র্যাফিক
জ্যাম। এ
পরিস্থিতি মাথায়
রেখে রিভাইজড
স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট
প্ল্যানের আওতায়
ঢাকা শহরের
ছয়টি রুটের
জন্য গৃহীত
হয়েছে মেট্রোরেল
প্রকল্প। এমআরটি
লাইন ছয়
এ প্রকল্পগুলোর
মাঝে প্রথম
নির্মাণাধীন প্রকল্প।
উত্তরা থেকে
মতিঝিলে বাংলাদেশ
ব্যাংক পর্যন্ত
মেট্রোরেলের এ
রুটের দূরত্ব
২০ দশমিক
১ কিলোমিটার।
এ পথ
পাড়ি দিতে
সময় লাগবে
মাত্র ৩৫
মিনিট। ১৬টি
স্থানে স্টেশন
থাকবে। এর
পুরোটাই হবে
উড়াল সড়কে,
মাটির ১৩
মিটার ওপর
দিয়ে। শব্দ
নিয়ন্ত্রণের জন্য
লাইনের পাশে
থাকছে শব্দনিরোধক
দেয়াল। প্রকল্পটি
বছরে ২
দশমিক ৪
বিলিয়ন ডলার
সাশ্রয় করবে,
যা জিডিপির
১ দশমিক
৫ এবং
বাংলাদেশের মোট
কর আয়ের
১৭ শতাংশের
সমতুল্য। মেট্রোরেল
প্রতি ঘণ্টায়
৮০ হাজার
যাত্রী পরিবহন
করতে পারবে।
ফলে মেট্রোরেল
স্থাপিত হলে
রাস্তায় যাত্রী
ও পরিবহন
উভয়ের ওপরই
চাপ কমবে।
কর্ণফুলী টানেল
নদীমাতৃক
দেশ বাংলাদেশের
অন্যতম প্রধান
নদী কর্ণফুলী।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে
দুই ভাগে
ভাগ করেছে
এ নদী।
তাই দেশের
বাণিজ্যিক এ
রাজধানী তথা
পুরো দেশের
অর্থনীতিই এ
নদীর সাথে
ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত।
তিনটি সেতু
নির্মাণের পরও
যানবাহন চলাচলের
প্রাচুর্যতা এবং
মরফোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের
কারণে পুনরায়
সেতু নির্মাণের
স্থলে কর্ণফুলীর
তলদেশে সুড়ঙ্গপথ
নির্মাণ করা
একপ্রকার অত্যাবশ্যকীয়
হয়ে পড়েছিল।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
আরো সমৃদ্ধ
করা এবং
দেশের অর্থনীতিকে
আরো ত্বরান্বিত
করার লক্ষ্যে
বাংলাদেশের প্রথম
ও দক্ষিণ
এশিয়ার মধ্যে
অন্যতম অত্যাধুনিক
সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু
টানেল’ নির্মাণের
প্রকল্প গ্রহণ
করেছে বাংলাদেশ
সরকার। জনসংখ্যার
বিচারে সমগ্র
বিশ্বের বৃহত্তম
শহর চীনের
সাংহাইয়ের আদলে
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম
শহরকে ‘ওয়ান
সিটি, টু
টাউন’ মডেলে
গড়ে তুলতে
নগরীর পতেঙ্গা
ও দক্ষিণ
চট্টগ্রামের আনোয়ারার
মধ্যে সংযোগ
স্থাপনে কর্ণফুলী
নদীর তলদেশে
প্রায় ১০
হাজার কোটি
টাকা ব্যয়ে
এ টানেল
নির্মাণের উদ্যোগ
নেয় সরকার।
২০১৯ সালের
২৪ ফেব্রুয়ারি
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা বঙ্গবন্ধু
টানেলের নির্মাণকাজ
উদ্বোধন করেন।
এ টানেল
প্রকল্পের মধ্যে
৩ দশমিক
৪ কিলোমিটার
দৈর্ঘ্যের মূল
টানেল ছাড়াও
পতেঙ্গা ও
আনোয়ারা প্রান্তে
৫ দশমিক
৩৫ কিলোমিটার
সংযোগ সড়ক
এবং আনোয়ারা
প্রান্তে ৭২৭
মিটার একটি
ওভারব্রিজ নির্মাণ
করা হচ্ছে।
দুই
টিউবের বঙ্গবন্ধু
টানেল নির্মাণকাজ
শেষ হলে
চার লেন
দিয়ে ঘণ্টায়
৮০ কিলোমিটার
গতিতে গাড়ি
চলাচল করতে
পারবে। এ
টানেল কক্সবাজারের
সঙ্গে চট্টগ্রামের
দূরত্ব কমিয়ে
দেবে প্রায়
৪০ কিলোমিটার।
কক্সবাজার ও
দক্ষিণ চট্টগ্রামের
গাড়ি চট্টগ্রাম
শহরকে এড়িয়ে
সুড়ঙ্গপথ দিয়েই
রাজধানী ঢাকাসহ
সারা দেশে
চলাচল করতে
পারবে। কর্ণফুলী
নদীর পূর্ব
প্রান্তের প্রস্তাবিত
শিল্প এলাকার
উন্নয়ন ত্বরান্বিত
হবে এবং
পশ্চিম প্রান্তে
অবস্থিত চট্টগ্রাম
শহর, চট্টগ্রাম
বন্দর ও
বিমানবন্দরের সঙ্গে
উন্নত ও
সহজ যোগাযোগ
ব্যবস্থা স্থাপিত
হবে।
বাস র্যাপিড ট্রানজিট
বাস
র্যাপিড ট্রানজিট
বা বিআরটি
একটি উন্নত
মানের বাসভিত্তিক
গণপরিবহন ব্যবস্থা,
যার মাধ্যমে
যাত্রীরা কম
সময়ে, নিরাপদে
ও আরামদায়কভাবে
যাতায়াত করতে
পারবে। সারা
বিশ্বে বিআরটির
জনপ্রিয়তা ক্রমশ
বাড়ছে। বিশ্বের
অন্যান্য দেশের
মতো বাংলাদেশেও
শিগগিরই বাস
র্যাপিড ট্রানজিট
চালু হতে
যাচ্ছে। ঢাকা
মহানগরী ও
গাজীপুরের মধ্যে
যোগাযোগ ব্যবস্থা
দ্রুত ও
সহজ করা
এবং যানজট
নিরসনের লক্ষ্যে
বাংলাদেশের প্রথম
বাস র্যাপিড
ট্রানজিটের (বিআরটি-৩)
নির্মাণ বাংলাদেশের
যোগাযোগ ও
পরিবহন খাতে
একটি অনন্য
মাইলফলক। ঢাকার
শাহজালাল বিমানবন্দর
থেকে গাজীপুর
পর্যন্ত সাড়ে
২০ কিলোমিটার
যে বিআরটি-৩
হচ্ছে, তা
বাস্তবায়ন হলে
উভয় দিক
থেকে ঘণ্টায়
২৫ হাজার
যাত্রী পরিবহন
সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ
শুরু হয়েছে
২০১৬ সালের
জানুয়ারিতে, শেষ
হতে পারে
২০২২ সালের
জুনে। গত
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
বিআরটি-৩-এর
নির্মাণকাজ প্রায়
৫২ শতাংশ
সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প ব্যয়
প্রায় ৪
হাজার ২৬৮
কোটি ৩৮
লাখ টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন
হলে তা
সামগ্রিকভাবে দেশের
যোগাযোগ, অর্থনীতি,
শিক্ষা, আর্থসামাজিক
উন্নয়নে ইতিবাচক
প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া শহরের
পূর্বাংশে বিআরটি-৭
নির্মাণের প্রস্তাব
করা হয়েছে।
এটি নারায়ণগঞ্জ
থেকে ইস্টার্ন
বাইপাস হয়ে
আশুলিয়া পর্যন্ত
যাবে। এর
দৈর্ঘ্য হবে
৩৬ কিলোমিটার।
বিআরটি-৭-এর
সম্ভাব্যতা সমীক্ষার
কাজ চলছে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
বাংলাদেশের
প্রথম এলিভেটেড
এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প
হচ্ছে ঢাকা
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর থেকে
কুড়িল, বনানী,
মহাখালী, তেজগাঁও,
মগবাজার, কমলাপুর,
সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী
হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের কুতুবখালী
এলাকায় গিয়ে
শেষ হবে
এ প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা ২০১১
সালে ঢাকা
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের
ভিত্তি স্থাপন
করেন। এলিভেটেড
এক্সপ্রেসওয়ের মূল
অংশের দৈর্ঘ্য
১৯ দশমিক
৭৩ কিলোমিটার
যাতে র্যাম্প
৩১টি, মোট
দৈর্ঘ্য (র্যাম্পসহ)
৪৬ দশমিক
৭৩ কিলোমিটার।
ব্যয় হবে
প্রায় ১২২
বিলিয়ন টাকা।
এক্সপ্রেসওয়েটি চালু
হলে ঢাকা
শহরের উত্তর
ও দক্ষিণাংশের
সংযোগ সহজ
হবে, ট্র্যাফিক
ধারণক্ষমতা বাড়বে,
যাত্রার সময়
কমবে। এর
ওপর দিয়ে
প্রতিদিন প্রায়
৮০ হাজার
যানবাহন চলাচল
করতে পারবে।
এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ
খুলে দেয়া
হবে ২০২১
সালের ডিসেম্বরে।
পুরো প্রকল্পের
কাজ শেষ
হবে ২০২৩
সালের জুনে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন
হলে জিডিপিতে
ইতিবাচক প্রভাব
ফেলবে। সার্বিকভাবে
প্রকল্পটি যোগাযোগ
ব্যবস্থা সহজীকরণ,
দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য
প্রভাব ফেলবে।
রেল প্রকল্প
বর্তমান
সময়ে রেলের
অভূতপূর্ব উন্নয়ন
সাধনের লক্ষ্যে
বেশকিছু রেলের
মেগা প্রকল্প
গ্রহণ করা
হয়েছে, যা
সমগ্র বাংলাদেশের
যোগাযোগ ব্যবস্থায়
বৈপ্লবিক পরিবর্তন
আনবে। সামাজিক,
অর্থনৈতিক ও
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের
লক্ষ্যে রেলের
এ প্রকল্পগুলো
নেয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
রেল সংযোগ
একটি বহুল
প্রত্যাশিত রেল
প্রকল্প, যা
দোহাজারী ও
কক্সবাজারকে রেলপথে
সংযুক্ত করবে।
এ মেগা
প্রকল্প দুটি
পর্যায়ে বাস্তবায়ন
হবে। এরই
মধ্যে প্রথম
পর্যায়ের কাজ
শুরু হয়ে
গেছে। প্রায়
১৭ হাজার
কোটি টাকা
ব্যয়ে বাস্তবায়িত
রেল সংযোগটির
কাজ ২০২৩
সালের মধ্যে
সম্পন্ন হবে।
কক্সবাজার বাংলাদেশের
অন্যতম পর্যটন
এলাকা। সংকীর্ণ
সড়ক যোগাযোগ
ব্যতীত চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের
যোগাযোগের অন্য
কোনো মাধ্যম
নেই। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের
রেল সংযোগ
বাংলাদেশের পর্যটন
খাতে নতুন
মাইলফলক তৈরি
করবে। অর্থনৈতিক
খাতে উন্নয়নের
পাশাপাশি কক্সবাজারের
মানুষের জীবনযাত্রার
মান বাড়বে।
শিক্ষা ও
চিকিৎসা ক্ষেত্রেও
বৈপ্লবিক পরিবর্তন
বয়ে আনবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেল:
ঢাকা-চট্টগ্রাম
এক্সপ্রেস রেল
বাংলাদেশের প্রথম
উচ্চগতির রেল
সেবা। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটির রেলপথের
দৈর্ঘ্য প্রায়
২৩০ কিলোমিটার।
উচ্চগতির ট্রেন
বৈদ্যুতিক ট্রাকশনের
সাহায্যে পরিচালনা
করা হবে,
যা ট্রেনের
ঘণ্টায় ৩০০
কিলোমিটারে চলার
গতিকে বজায়
রাখবে। প্রকল্পটিতে
ব্যয় হবে
প্রায় ৯৭
হাজার কোটি
টাকা। ঢাকা
থেকে চট্টগ্রাম
বিরতিহীনভাবে যেতে
মাত্র ৫৫
মিনিট সময়
লাগবে এবং
মোট ছয়টি
স্টেশনে (ঢাকা,
নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা,
ফেনী, পাহাড়তলী
ও চট্টগ্রাম)
বিরতিসহ প্রায়
৭৩ মিনিট
সময় লাগবে।
অল্প সময়ে
যাতায়াতের সুবিধার্থে
প্রশাসনিক, শিক্ষা
ও ঢাকাকেন্দ্রিক
জীবনযাপনের বিকেন্দ্রীকরণ
সম্ভব হবে,
যা উন্নত
বিশ্বে দেখতে
পাওয়া যায়।
তাছাড়া সড়ক
দুর্ঘটনা কমানো
সম্ভব হবে।
উন্নয়নের
এ ধারায়
আরো যুক্ত
হচ্ছে বাংলাদেশ
সেতু কর্তৃপক্ষের
নেয়া ঢাকা
সাবওয়ে প্রকল্প
ও মুক্তারপুর
ব্রিজ প্রকল্পের
মতো গুরুত্বপূর্ণ
পদক্ষেপ।
তবে
এসব প্রকল্পের
সর্বোচ্চ সুবিধা
পাওয়া সম্ভব
শুধু সঠিক
সমন্বয়ের মাধ্যমে।
ঢাকার অভ্যন্তরীণ
যোগাযোগ ব্যবস্থার
প্রকল্পগুলো যেন
আন্তঃজেলা যোগাযোগেও
সমন্বিত ভূমিকা
রাখতে পারে
সেদিকে নজর
দিতে হবে।
অন্যদিকে রাজধানীর
বিকেন্দ্রীকরণ না
হলে ঢাকায়
মানুষের অভিবাসন
ঠেকানো সম্ভব
না। এ
বাড়তি জনসংখ্যার
চাহিদা মেটাতে
নির্মাণ করতে
হবে নতুন
নতুন ফ্লাইওভার,
যা কোনোভাবেই
একটি টেকসই
সমাধান নয়।
মনে রাখতে
হবে, উন্নয়ন
শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক
হলে তার
সঠিক মূল্যায়ন
দেশের নাগরিক
কখনই পাবে
না। তাই
এখনই উপযুক্ত
সময় ঢাকার
পাশাপাশি চট্টগ্রাম,
সিলেট, রাজশাহীসহ
সব গুরুত্বপূর্ণ
শহরের যোগাযোগ
ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি
পরিকল্পনা গ্রহণের।
স্বাধীনতার ৫০
বছর পর
দেশের যোগাযোগ
খাত আজ
উন্নয়নের শিখরে।
তবে আমাদের
থেমে থাকার
সুযোগ নেই।
আজ থেকে
আরো ৫০
বছর পর
উন্নত বাংলাদেশের
যোগাযোগ খাত
যেন বিশ্বের
কাছে রোল
মডেল হতে
পারে সে
লক্ষ্যে এগিয়ে
যেতে হবে।
ড. মো. হাদিউজ্জামান: অধ্যাপক,
বুয়েট ও
পরিচালক, এআরআই
পরিচালক, ডিএমটিসিএল





