মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রাম আমার জন্মস্থান। শৈশব-কৈশোর কেটেছে এখানেই। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমি কাজ করছি দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি নতুন বছর ঘুরে এসেছে। নিজ জেলা মুন্সিগঞ্জের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্পায়ন ও নানা পরিকল্পনা হাতে নিলেও সংক্ষিপ্ত সময়ের কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম বড় সমস্যা হলো আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক দুরবস্থা। মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায়ই শ্রমিক বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রফতানিমুখী শিল্প উদ্যোক্তারা। সময়মতো পণ্য রফতানি করতে না পারায় তাদের কার্যাদেশ বাতিলের ঘটনাও ঘটছে।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমি পূর্ববর্তী সরকারের চুরি-দুর্নীতির যে ফিরিস্তি দিয়েছি, সেটি সর্বৈব সত্য। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাই অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে শিল্প মালিকরা স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা শুধু ব্যাংক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনের ঘুস-চাঁদাবাজির সংস্কৃতি ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি করেছে।
ব্যাংকে তারল্য সংকটের জন্য অতীত সরকারকে দায়ী করা গেলেও বর্তমানের চাঁদাবাজি ও ঘুসের দায় কে নেবে—সেটিই বড় প্রশ্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নিলেও প্রশাসনে তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। এখনো ব্যবসায়ীদের সরকারি সেবা পেতে ঘুস দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চেহারা বদলালেও চরিত্র বদলায়নি। এগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলো সমাধান করতেই হবে।
আমার বিশ্বাস, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে পরিকল্পিত শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। পরবর্তী সময়ে যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, মুন্সিগঞ্জসহ সারা দেশে ব্যাপক শিল্পায়ন গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।










