বাংলাদেশে মিনিসোর যাত্রা

চীনের গুয়াংজুভিত্তিক লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড মিনিসো ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম স্টোর চালুর মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির স্থানীয় কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ইভিন্স গ্রুপ বাংলাদেশে মিনিসোর মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশে মিনিসো নিয়ে আসার উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মিনিসো বাংলাদেশ, ইভিন্স গ্রুপ ও বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী। ২০১৪ সালে চীন সফরে একটি মিনিসো স্টোর দেখে তিনি ব্র্যান্ডটির আধুনিক রিটেইল ধারণা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনায় আগ্রহী হন। পরবর্তী সময়ে মিনিসোর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে বনানী ১১ ও ধানমন্ডিতে প্রথম দিকের স্টোর চালু করা হয়।

শুরু থেকেই স্থানীয় মানবসম্পদ নিয়োগ, পরিচালন কাঠামো গড়ে তোলা, বিপণন এবং ব্যবসা উন্নয়নে কাজ করে ইভিন্স গ্রুপ। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মান বজায় রেখে বাংলাদেশের ক্রেতাদের পছন্দ ও চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয় বাজারে ব্র্যান্ড গড়ে তোলা

নতুন একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে মিনিসোর পরিচিতি তৈরি, গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং স্থানীয় বাজারের উপযোগী সক্ষমতা গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। পণ্য বিশ্লেষণ, বিপণন, ব্যবসা উন্নয়ন ও দক্ষ দল তৈরির মাধ্যমে ধাপে ধাপে একটি শক্তিশালী পরিচালন কাঠামো গড়ে উঠেছে।

শাহ রাঈদ চৌধুরীর মতে, প্রথম কয়েক বছর ব্র্যান্ডের ভিত্তি মজবুত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ উদ্যোক্তার, পরিচালনা মিনিসোর

বাংলাদেশে মিনিসোর ব্যবসায়িক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘ফোকো’—ফ্র্যাঞ্চাইজি ওন্ড, কোম্পানি অপারেটেড—মডেল। এই ব্যবস্থায় একটি স্টোরের বিনিয়োগ ও মালিকানা থাকে ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশীদারের, আর দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মিনিসো বাংলাদেশ।

কর্মী ব্যবস্থাপনা, পণ্য নির্বাচন ও প্রদর্শন, বিপণন এবং বিক্রয়সহ স্টোর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো মিনিসোর অভিজ্ঞ দল সম্পন্ন করে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড পরিচালনার নিজস্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় উদ্যোক্তারা একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ পান।

শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘এই মডেলে উদ্যোক্তা বিনিয়োগ ও মালিকানায় যুক্ত থাকেন, আর আমাদের অভিজ্ঞ দল স্টোর পরিচালনা করে। অংশীদারত্বের এই কাঠামোই ধারাবাহিকভাবে স্টোর সম্প্রসারণ ও মানসম্মত পরিচালনায় সহায়তা করছে।’

Untitled-1

চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্বে নতুন মাত্রা

মিনিসোর কার্যক্রম চীন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি ব্র্যান্ড, খুচরা ব্যবসা ও উদ্যোক্তা অংশীদারত্বের নতুন পরিসরে নিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভোক্তা বাজারে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বাড়ছে এবং আধুনিক রিটেইল অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

স্থানীয় বাজারে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সফল কার্যক্রম বাংলাদেশের ভোক্তা বাজারের সম্ভাবনা, ক্রয়ক্ষমতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরতেও সহায়ক। এতে দেশীয় কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রসারণের লক্ষ্য

বাংলাদেশে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে মিনিসোর। উত্তরায় বড় পরিসরের একটি স্টোরসহ নতুন কয়েকটি স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; চট্টগ্রামেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছর ৫০টি স্টোরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তী ধাপে ১০০টি স্টোরের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সম্প্রসারণে স্থানীয় উদ্যোক্তা, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক খুচরা বাজার—তিন ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পণ্য বাণিজ্যের বাইরে সম্ভাবনার সংযোগ

বাংলাদেশে মিনিসোর যাত্রা দেখাচ্ছে, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন পণ্য লেনদেনের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সরাসরি উপস্থিতি, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষ পরিচালনা এবং উদ্যোক্তা অংশীদারত্ব একসঙ্গে একটি নতুন ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করছে।

আগামী দিনে আরও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এ ধরনের অংশীদারত্বভিত্তিক মডেলে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে খুচরা বাজার আরও সমৃদ্ধ হবে। মিনিসোর বর্তমান কার্যক্রম সেই সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক, বাস্তব ও উজ্জ্বল উদাহরণ।