আমাদের দৃষ্টিতে এ সম্পর্কের পরবর্তী সুযোগ রয়েছে বাণিজ্যের সঙ্গে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতাকে আরো বেশি যুক্ত করার মধ্যে।
চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। একই সময়ে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চীনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ পরিবর্তনের সঙ্গে আর্থিক প্রয়োজনও বদলাচ্ছে। একটি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে তার প্রয়োজন শুধু প্রকল্প অর্থায়ন নয়; আমদানি, কার্যকরী মূলধন, ট্রেড ফাইন্যান্স, ব্যাংক গ্যারান্টি, বৈদেশিক মুদ্রা, পেমেন্ট এবং ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের মতো একাধিক ব্যাংকিং সেবা। একইভাবে বাংলাদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান চীনের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াতে গেলে তারও প্রয়োজন হয় ট্রেড, পেমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরবরাহকারী অর্থায়নের সমন্বিত সুবিধা।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের চায়না করিডোর সক্ষমতা এ দুই দিকের ব্যবসায়িক প্রয়োজনকে একই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর সঙ্গে চীনসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাজারে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের উপস্থিতি আমাদের এমন একটি অবস্থান দিয়েছে, যেখানে স্থানীয় জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সংযোগ একসঙ্গে কাজে লাগানো যায়।
বিশ্বব্যাপী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ৩৫টি বাজারে রেনমিনবি (RMB) সক্ষমতা এবং ৩০ জনেরও বেশি চীন করিডোরের নিবেদিত ব্যাংকার রয়েছে, যারা শুধু চীনাভাষী নন, বরং চীনা নাগরিক। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রেড, পেমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রা, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত অর্থায়নের বিভিন্ন সমাধানে প্রবেশাধিকার পায়। বাংলাদেশের জন্য রেনমিনবির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যেসব বাণিজ্যিক লেনদেনে চীনা ইউয়ানে অর্থপ্রাপ্তি বা অর্থপ্রদানের স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে, সেখানে রেনমিনবি নিষ্পত্তি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার একটি অতিরিক্ত বিকল্প হতে পারে, প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে থেকে।
চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। টেক্সটাইল ও ম্যান-মেড ফাইবারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো খাতে বিনিয়োগ, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা আরো বাড়াতে পারে। একইভাবে চীনের বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও জুতা, পাটজাত পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো পণ্যের জন্যও সুযোগ রয়েছে।
এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগ পরিবেশ, লজিস্টিকস, জ্বালানি, কাস্টমস এবং নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতার পাশাপাশি দক্ষ আর্থিক অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ।
বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা আমাদের বুঝিয়েছে, অর্থায়নকে প্রকল্পের শেষ ধাপ হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রকল্পের শুরু থেকেই অর্থায়ন কাঠামো, ঝুঁকি বণ্টন, বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় আনা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি আরো শক্তিশালী হয়। সাইনোশিউরের মতো ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স কাঠামোও নির্দিষ্ট প্রকল্পে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
পদ্মা রেল সংযোগ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সম্পৃক্ততা আমাদের স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজন, দুই ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
চীন-বাংলাদেশ করিডোরের ক্ষেত্রেও এ সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। একজন চীনা বিনিয়োগকারীর জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যাংকিং সক্ষমতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহ পরিচালনার জন্য বৈশ্বিক সংযোগও প্রয়োজন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যবসাগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা বোঝার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ট্রেড ও পেমেন্ট সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের চীন করিডোর প্রপোজিশনের মূল শক্তি হলো এ দুই দিককে একই ব্যাংকিং সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্ত করা। আমাদের কাছে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরবর্তী ধাপের বিষয়টি তাই শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ নয়। কতটা বিনিয়োগ বাংলাদেশে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করছে, কতটা স্থানীয় ব্যবসা সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হচ্ছে এবং কতটা নতুন রফতানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের চীন করিডোর প্রপোজিশন অবস্থান এখানে পরিষ্কার: বাংলাদেশ ও চীনের ব্যবসাগুলোর মধ্যে যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ তৈরি হচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাংকিং সমাধান দেয়া এবং দুই বাজারের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগকে আরো কার্যকর করা। চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে এ সংযোগের গুরুত্ব আরো বাড়বে। আর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের দীর্ঘ স্থানীয় উপস্থিতি, চীন করিডোর নেটওয়ার্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আমাদের সেই পরিবর্তনের সঙ্গে কাজ করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড চীনের অন্যতম প্রাচীন বহুজাতিক ব্যাংক। ১৮৫৮ সালে প্রথম শাখা স্থাপনের পর থেকে ১৬৮ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটি তার বৈশ্বিক ব্যাংকিং দক্ষতার মাধ্যমে সমগ্র চীনজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে। অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী একমাত্র বহুজাতিক সর্বজনীন ব্যাংক, যা ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অব্যাহতভাবে দেশে কাজ করে যাচ্ছে। তাই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডই হবে আপনার সেরা বিকল্প।










