উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যম ও নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মধ্যেও চীনা ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি একটি সংস্থার তথ্যমতে, দেশে জনপ্রিয় শীর্ষ ১০ স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের মধ্যে সাতটিই চীনের।
চীনের শাওমি, রেডমি, অপো, ওয়ানপ্লাস, টেকনো, ভিভো, ইনফিনিক্স, অনার ও রিয়েলমির মতো ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে দেশের বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ব্যবসাবিষয়ক ডিজিটাল প্রকাশনা গ্লোবাল ব্র্যান্ড ম্যাগাজিনের (জিবিএম) ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে বেশি ফিচারের স্মার্টফোনের তালিকায় শাওমির নোট সিরিজকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এ সিরিজের ফোনের দাম ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম মডেলে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জিবিএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটের মধ্যে উন্নত স্পেসিফিকেশন এবং রেডমি নোট সিরিজের জনপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের বাজারে শাওমি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ডেটা অ্যানালিটিকস প্লাটফর্ম স্ট্যাটকাউন্টারের তথ্যমতে, বাংলাদেশে মোবাইল ব্র্যান্ড বা স্মার্টফোন ভেন্ডরদের মধ্যে শাওমির বাজার হিস্যা ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বাজার হিস্যায় এটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশে শাওমির জনপ্রিয়তার পেছনে তরুণ প্রজন্মের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে শাওমি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ফিচার, উন্নত প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে আসছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আমাদের রেডমি নোট সিরিজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটিরও বেশি রেডমি নোট সিরিজের ডিভাইস শিপমেন্ট হয়েছে এবং বাংলাদেশে এ নোট সিরিজকে জাতীয় ফোন বলা হয়, যা এ সিরিজের জনপ্রিয়তা ও গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন। এ ধারাবাহিকতায়, আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে রেডমি নোট সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ, রেডমি নোট ১৭ সিরিজ উন্মোচন করতে যাচ্ছি আমরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা শুধু হাই-এন্ড ও অত্যাধুনিক স্মার্টফোনই নিয়ে আসছি না, পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম পণ্যও নিয়ে আসছি। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের বাইরেও গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির আরো কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি স্মার্ট, সংযুক্ত ও আধুনিক জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সমন্বিত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জীবনযাত্রায় আরো বেশি সুবিধা, সংযোগ ও স্মার্টনেস যুক্ত করা সম্ভব।
শাওমির পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে চীনের আরেক ব্র্যান্ড ভিভোর অবস্থানও শক্তিশালী। শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিভো। স্ট্যাটকাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভিভোর বাজার হিস্যা ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বাজার সম্প্রসারণের অন্যতম কারণ হচ্ছে দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত প্রযুক্তি ও ফিচার সরবরাহ। বিশেষ করে ক্যামেরা, ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, ডিসপ্লে ও প্রসেসিং সক্ষমতার মতো সুবিধা তুলনামূলক কম দামের ফোনেও যুক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ঘন ঘন নতুন মডেল বাজারজাত এবং অফারভিত্তিক বিপণন কৌশলও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
অন্যদিকে শাওমি স্মার্টফোনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম পণ্যেও গুরুত্ব দিচ্ছে। জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা শুধু হাই-এন্ড ও অত্যাধুনিক স্মার্টফোনই নিয়ে আসছি না, পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম পণ্যও নিয়ে আসছি। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের বাইরেও গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির আরো কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
ফলে স্মার্টফোনের বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি শুধু বাজেট ফোনে সীমাবদ্ধ থাকছে না; মধ্যম ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টেও তাদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এর মাধ্যমে দেশের স্মার্টফোন বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর প্রভাব আরো বিস্তৃত হচ্ছে।










