বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজারগুলোর একটি। প্রতি বছর ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাংলাদেশী পণ্য দেশটিতে রফতানি হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো এ বিশাল বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার তুলনায় আমাদের উপস্থিতি এখনো সীমিত। বিশেষ করে খাদ্য ও নন-ফুড ভোক্তাপণ্যের ক্ষেত্রে সামনে রয়েছে অভূতপূর্ব সুযোগ। ৩৪ কোটি জনসংখ্যার এ বিশাল বাজারে শুধু বাংলাদেশী কমিউনিটিই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়, আমেরিকান, হিস্পানিক, আফ্রিকান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিপুলসংখ্যক ভোক্তার কাছে খাদ্য ও নন-ফুড পণ্য পৌঁছে দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অভিজ্ঞতা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০টিরও বেশি পণ্য বাজারজাত করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি হাউজওয়্যার, কিচেনওয়্যার, খেলনা, ব্যাগ, লাগেজ, সাইকেল, জুতা, গার্মেন্টস, স্টেশনারি, লন অ্যান্ড গার্ডেনসহ বিভিন্ন ধরনের নন-ফুড পণ্যও রয়েছে।

গত অর্থবছরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্য রফতানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ। বর্তমানে ওয়ালমার্ট, টার্গেট, ডলার ট্রি, ফ্যামিলি ডলার, ডলার জেনারেল, ফুড টাউন, কে টাউনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় খুচরা বিক্রয় চেইনে প্রাণ-আরএফএলের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক মান, উদ্ভাবন ও সঠিক বাজার কৌশল থাকলে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশ্ববাজারে আরো বড় অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান, পরীক্ষাগার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের তুলনায় আমাদের লিড টাইম বেশি থাকা ও পরিবহন ব্যয়ও অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা শুধু ভালো পণ্য নয়; প্রতিযোগিতামূলক দামে নির্ধারিত সময়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রফতানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য খাদ্য, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, গৃহস্থালি পণ্য, খেলনা, জুতা, পেট কেয়ার পণ্যসহ নতুন খাতগুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই উভয় দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে। বাংলাদেশ পাবে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রফতানি আয়; আর যুক্তরাষ্ট্র পাবে নির্ভরযোগ্য, মানসম্মত ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্যের একটি বিশ্বস্ত উৎস। তাই সম্পর্ককে আমরা শুধু বাণিজ্যের দৃষ্টিতে নয়; দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আরো এগিয়ে নিতে চাই।