দেশে ফিডের বাজার এখন কত?

বর্তমানে বাংলাদেশের পোলট্রি ও ফিড শিল্পের বাজার বেশ বড়। স্থানীয়ভাবে পোলট্রি, ক্যাটেল এবং অন্যান্য খাত মিলিয়ে এ বাজারের আকার প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিমাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে দেশে ফিডের চাহিদা বছরে প্রায় ৬০-৭০ লাখ টন।

এ খাতে চাহিদার কত শতাংশ এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে?

বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদন খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের চাহিদার শতভাগ পশুখাদ্য দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। এটি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রমাণ।

দেশে কতগুলো কোম্পানি ফিড উৎপাদনে যুক্ত আছে। এর মধ্যে আপনাদের কোম্পানির বাজার অংশীদারত্ব কত?

বর্তমানে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং পশুসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৩৫০টি পশুখাদ্য উৎপাদন কারখানা রয়েছে এবং এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চাহিদার বিপরীতে আমাদের কোয়ালিটি বা গুণগত মানের ফিড উৎপাদনের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। মোট উৎপাদনের মাত্র ৬-৭ শতাংশ উচ্চ গুণমানসম্পন্ন ফিড উৎপাদিত হচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ফিড খাতের জন্য কী ধরনের ঘোষণা চান?

এ খাত দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখলেও অন্যান্য খাতের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। বরং এ খাতের উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমাদের অন্যতম চাওয়া হলো অন্যান্য শিল্প খাতের মতো এ খাতের প্রতি সরকারের সুনজর। বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন প্রকার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তা আমাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে ক্যাপিটাল মেশিনারির ক্ষেত্রে যেখানে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়, সেখানে খুচরা যন্ত্রাংশের জন্য ৩০-৪০ শতাংশ শুল্ক অযৌক্তিক। সরকারের উচিত এ বিষয়ে আরো বেশি দক্ষতা দেখানো এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধানে আসা। বাজারের পরিবেশকে ব্যবসাবান্ধব করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ন্ত্রণ যত বাড়ানো হবে, এ খাত তত সংকুচিত হতে থাকবে। তাই সরকারের উচিত হবে উদার নীতি গ্রহণ করা এবং ট্যাক্সের বোঝা কমানো। ট্যাক্স কমলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও শিল্পায়নও বেগবান হবে। দুবাই ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো তাদের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণেই উন্নতি লাভ করেছে। সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। আমরা যে কাঁচামাল আমদানি করি, তা এ খাতের প্রধান উপকরণ, কোনো বিলাসপণ্য নয়। অথচ উৎসেই অতিরিক্ত ট্যাক্স কেটে রাখা হচ্ছে। করপোরেট ট্যাক্সের তুলনায় গড়ে ১০ গুণ বেশি এ ট্যাক্স। আমাদের এতে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু বেআইনিভাবে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কেটে নেয়া হচ্ছে এবং বছর শেষে করপোরেট ট্যাক্সের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে না। এটা দিনের আলোয় ডাকাতির শামিল। অনেক ফিড মিলের কোটি কোটি টাকা এভাবে আটকে আছে, যা ফেরত পাওয়া কঠিন। আমরা এনবিআরকে এ বিষয়ে জানিয়েছি এবং আটকে থাকা অর্থ ফেরত চেয়েছি।

এছাড়া বাজেটের এইচএস কোডে কিছু সমন্বয় আনা প্রয়োজন। এর অভাবে অনেক সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের অযৌক্তিক ট্যাক্সের জালে আটকা পড়ি। কাস্টম হাউজ থেকে অনেক সময় মনগড়াভাবে এইচএস কোড চাপিয়ে দেয়া হয়, যার ফলে বন্দরে ড্যামারেজ চার্জসহ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত খরচ বাড়ে। যদিও ৫ আগস্টের পর কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, তবে উন্নত বিশ্বে যেখানে ৪৫ মিনিটে পণ্য খালাস হয়, সেখানে আমাদের দেশে এখনো মাস পেরিয়ে যায়। বন্দরে পণ্য আটকে রেখে এখনো ব্যয়বহুল রেডিয়েশন সার্টিফিকেট নিতে হচ্ছে, যা সত্যিই হাস্যকর এবং এর মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে।

প্রথমত, সরকারের উচিত বেসরকারি খাতের সঙ্গে বাণিজ্যবান্ধব আলোচনা শুরু করা। সরকারের এমন ধারণা পোষণ করা উচিত নয় যে বেসরকারি খাতের সবাই অসৎ। একজনের ভুলের জন্য পুরো খাতকে সমস্যায় ফেলা সরকারের একটি বড় ভুল। অদক্ষতার কারণেই এসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরকারের উচিত তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সব তথ্য উন্মুক্ত রাখা। কোনো প্রকার লুকোচুরি ছাড়াই বেসরকারি খাত সরকারকে সকল প্রকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

আমি ৩০ বছর ধরে দেখছি যে বিভিন্ন দেশে আমাদের যে হাইকমিশনগুলো রয়েছে, তাদের কাছে ট্রেড কমিশন থেকে রফতানির সুযোগ নিয়ে কোনো প্রকার তথ্য বা অনুসন্ধান পাওয়া যায় না। তারা কী করছেন? আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন অথচ আমাদের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনছেন না। যদিও বেসরকারি খাত তাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে।