জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬-এ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রয়োজন আছে কি?

বাংলাদেশ এখন একটি উদীয়মান ডিজিটাল র্অথনীতির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’-এ ঘোষিত ভিশন অনুসারে, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাজেট ২০২৫-২৬-এ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কৌশলগত, সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। এ খাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করলে দেশীয় উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের অংশীদার হতে পারবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বলবেন।

আইসিটি খাত বর্তমানে দেশের কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন, রফতানি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জিডিপিতে সরাসরি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৩ শতাংশ অবদান রাখা এ খাত প্রতি বছর ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় করছে। ২০ হাজারের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এ গতিধারা অব্যাহত রাখতে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও স্বল্পমূল্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাজেট ২০২৫-২৬ হতে পারে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের মাইলফলক। সরকার যদি সয়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণ করে, কর ছাড় সুবিধা অব্যাহত রাখে এবং প্রযুক্তিপণ্য সহজলভ্য করে তোলে তবে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার পরবর্তী প্রযুক্তি হাব। আমরা সরকারের কাছ থেকে প্রযুক্তি খাতের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান বজায় রাখার এবং এ খাতকে জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

কর-জিডিপি হার যৌক্তিকীকরণে আইএমএফের পরামর্শে কর ছাড় প্রত্যাহার হলে আইসিটি খাতে কী প্রভাব পড়বে?

আইসিটি খাতে কর ছাড় প্রত্যাহার হলে তা দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বিদেশী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে, বেকারত্ব বাড়বে, প্রযুক্তিনির্ভর রফতানি কমে যাবে এবং তরুণদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হবে।

সরকারের কাছে আমাদের যুক্তিপূর্ণ প্রত্যাশা—এ সম্ভাবনাময় খাতে বিদ্যমান কর ছাড় সুবিধা অব্যাহত রাখা হোক এবং প্রয়োজনে আরো সম্প্রসারণ করা হোক, যাতে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আমরা আরো দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি।

বর্তমানে প্রযুক্তি পণ্যে আমদানি শুল্ক পরিস্থিতি কেমন?

বর্তমানে ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে আমদানি শুল্কসহ মোট কর হার ২০ শতাংশের বেশি, যেখানে আগে এটি ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। কর হার বৃদ্ধি ও ক্রমাগত ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের প্রযুক্তিপণ্য কেনা প্রায় অসম্ভব করে তুলছে।

দেশে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রযুক্তিপণ্যের নিজস্ব উৎপাদন না থাকায় আমদানিই এখন ভরসা। অথচ শুল্ক, ভ্যালু অ্যাসেসমেন্টের অনিয়ম এবং অনুমোদনবিহীন চ্যানেলে পণ্যের প্রবাহের কারণে বাজারে মান ও মূল্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থার উন্নয়নে প্রস্তাব:

 কর কাঠামোকে বাস্তবমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করা

 অ্যাসেসেবল ভ্যালু নির্ধারণে বাস্তবতা বিবেচনায় নেয়া

 বৈধ আমদানিকারক ও চ্যানেলগুলোর প্রতি উৎসাহ এবং অননুমোদিত পথে আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণে শুল্ক হ্রাস কতটা প্রয়োজনীয়?

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল বোর্ড, ইন্টারেক্টিভ প্যানেলসহ আধুনিক টুলস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু উচ্চ শুল্ক এবং প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অধিক হারে অ্যাসেসমেন্ট করার কারণে এসব পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ সরঞ্জাম গ্রহণে অপারগ। তাই ডিজিটাল শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে এ উপকরণে শুল্ক হ্রাস সময়োপযোগী ও অপরিহার্য।

নকল ও রিফারবিশড পণ্য কী সমস্যা তৈরি করছে?

নকল ও ব্যবহৃত (রিফারবিশড) পণ্য আইটি বাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে মূলত মূল্য ও মানের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এতে ভোক্তা প্রতারিত হচ্ছে এবং ব্র্যান্ডের সুনাম ও দীর্ঘমেয়াদি বাজার স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এনবিআরের কার্যকর নজরদারি এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অতীব জরুরি।

উন্নত বিশ্বে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও বাংলাদেশে রিফারবিশড পণ্য অনায়াসে প্রবেশ করছে। নিম্নমান ও বিক্রয়োত্তর সেবা না থাকায় অল্প বাজেটের ক্রেতা ও ছাত্ররা এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছে।

এ অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজন সরকারের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। মিথ্যা ঘোষণা বা অনুমোদনহীন উপায়ে আসা এসব পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা, পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।