সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফসেটের বাজার বড় হচ্ছে? এখন এ খাতের পরিস্থিতি কী?

শহরাঞ্চলে আবাসনের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে আধুনিক ও মানসম্মত ফসেট পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে বাজারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ফসেটের ডিজাইন ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে, যা নির্মাণ শিল্পে মানোন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। বর্তমানে শুধু ভালো পণ্য তৈরি করেই বাজারে টিকে থাকা সহজ নয়, ভালো মানের পণ্যের সঙ্গে অত্যাধুনিক ডিজাইনও খুবই অপরিহার্য। এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আকিজবশির গ্রুপের রোসা ফসেট তার ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০২৩ সাল থেকে অত্যাধুনিক ডিজাইন ও সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন করছে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় বিপণন করে যাচ্ছে।

বাজেটে ফসেট খাতের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব থাকে। এবারের বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফসেট শিল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা বা নীতি সহায়তা ছিল না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তবে ফসেট শিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা বা নীতি সহায়তার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এবারের বাজেটে আমরা চাই, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড়, বিশেষ করে পিতল ও পিতলের তৈরি যন্ত্রাংশের জন্য সুনির্দিষ্ট শুল্ক, প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য কর রেয়াত দেয়া হোক।

আমাদের প্রস্তাব হলো বাস্তবমুখী ভ্যাট হার নির্ধারণ, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, প্রযুক্তিগত মেশিনারিজ আমদানিতে করছাড়, পিতলের তৈরি ফসেটের জন্য সুনির্দিষ্ট এইচএস কোড করে আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং নিম্নমানের বিদেশী পণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা। এছাড়া স্থানীয় ব্র্যান্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি প্রকল্পে একচ্ছত্র ব্যবহারের সুযোগ দেয়া।

ফসেট রফতানিতে আমাদের সম্ভাবনা কেমন?

বাংলাদেশী ফসেট পণ্য রফতানির সম্ভাবনা যথেষ্ট রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোয়। এ মুহূর্তে চীন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক ভালো ব্যবসা করছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ওদের থেকে আমাদের দেশে অনেক ভালো মানের ফসেট তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমিকস্বল্পতা, উৎপাদন খরচ, পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে উন্নত দেশগুলোয় ফসেট উৎপাদন অনেক ব্যয়বহুল। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে যদি আমরা আমাদের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম, রফতানিবান্ধব নীতিমালা ও গুণগত মান বজায় রাখতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে এটি একটি বড় রফতানি খাতে পরিণত হতে পারে।

দেশের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান কতটুকু?

বর্তমানে ফসেট শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে ছোট-বড় হাজারের বেশি কারখানা, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষ নিয়োজিত। উৎপাদন, বিপণন, বিতরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ—সব মিলিয়ে এটি একটি বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিতে এটি এসএমই খাতের একটি সম্ভাবনাময় অংশ, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। আমাদের আকিজবশিরের রোসা ফসেট কোম্পানিতে এ মুহূর্তে ৬০০-এর অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে এবং অদূরভবিষ্যতে এটি আরো বাড়বে। পাশাপাশি আমদের কোম্পানি পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্যও অনেক বিনিয়োগ করেছে। ফসেটের যে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়, সেখানে অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সে ক্ষতির হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষার জন্য আমাদের আধুনিক পানি পরিশোধন প্লান্ট রয়েছে। ফলে আমাদের ফ্যাক্টরি থেকে যে পানি আমরা নিষ্কাশন করি, তাতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকে না।

ফসেট শিল্পের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

যেকোনো ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা, সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি প্রণোদনা, শুল্ক সুবিধা, সহনীয় ভ্যাট হার ইত্যাদি শিল্পের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। আমরা দেখেছি, পোশাক শিল্প দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন সরকার ও সরকারি পলিসির সাপোর্ট নিয়েই আজ পৃথিবীব্যাপী সুনাম করেছে। আমাদের দেশে ফসেট শিল্প মাঝারি শিল্প হিসেবে এসএমইর অন্তর্ভুক্ত। এসএমই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মানোন্নয়ন করেই চীন আজ পৃথিবীতে একচ্ছত্র ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাই এ শিল্পে নির্দিষ্ট শিল্পনীতি অবশ্যই প্রয়োজন, যা ফসেটসহ স্যানিটারি হার্ডওয়্যার শিল্পকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, রফতানি প্রণোদনা ও মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সেই সঙ্গে এ পণ্যের জন্য একটা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি, যা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।