ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের ব্যবসায়িক ও আর্থিক পারফরম্যান্স সম্পর্কে জানতে চাই।
প্রচলিত ও ইসলামী, উভয় ধারাতেই আমরা আবাসন খাতে ঋণ দিই। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ঢাকার বাইরেও আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছি। সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে আমরা অনেকদিন থেকেই বলে আসছি। সরকারের সঙ্গেও বিভিন্ন সময় আলাপ-আলোচনা করেছি। খুব একটা অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। গভর্নরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারাও কাজ করতে আগ্রহী।
সাশ্রয়ী আবাসন যদি বিস্তার লাভ করে, আমাদের এ ব্যবসা আরো প্রসার লাভ করবে। আমরা শুধু ঢাকা বা বিভাগীয় শহরগুলোতে আবাসন ব্যবসা দেখি। কিন্তু এটাই তো শুধু আবাসন নয়। দেশের ১৭ কোটি মানুষেরই আবাসন দরকার। বিভাগীয় শহরগুলোয় এরই মধ্যে আমাদের সেবা পৌঁছিয়েছি। গ্রামীণ পর্যায়ে সম্ভব না হলেও জেলা শহরগুলোয়ও আমাদের বিস্তার বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। ঋণ বিতরণ কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে গত দুই বছর আমাদের ব্যবসার কিছু প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সাশ্রয়ী আবাসন আরো বিস্তার লাভ করলে আশা করি ভবিষ্যতে আমরা আরো বড় আকারে ভূমিকা রাখতে পারব।
আবাসন খাতে ব্যবসার পরিস্থিতি কী? সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতে ব্যবসা কমে গিয়েছে কিনা?
এর উত্তর হ্যাঁ-না, দুইভাবেই দেয়া যায়। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী কিংবা ধানমন্ডির কথা যদি বলি, তাহলে বেচাবিক্রি কিছুটা কমেছে। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় নেই। তবে সার্বিকভাবে আবাসনের চাহিদা তো কোনোভাবে কমবে না। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন সরবরাহ করা। আমরা সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
এনবিএফআই (ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) খাতে করের হার অনেক বেশি। তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আমাদের সাড়ে ৩৭ শতাংশ কর দিতে হয়। ব্যাংক ও এনবিএফআই, দুটিই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও আকারে অনেক বেশি পার্থক্য আছে। অনেক ব্যাংকই আছে, যারা ৫০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক মুনাফা অর্জন করে। এনবিএফআই তো সে তুলনায় অনেক ছোট। সেজন্য উভয়ের করহার একই রাখা যুক্তিযুক্ত কিনা, সে বিষয়ে আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে তাকালেও দেখা যায় যে, সেখানে ১০ শতাংশ বা তারও বেশি পার্থক্য আছে। আমাদের প্রত্যাশা এনবিএফআইয়ের করহার আরেকটু যৌক্তিক করা। তাছাড়া সাশ্রয়ী আবাসন খাত নিশ্চিত করতে চাইলেও কিছু প্রণোদনার দরকার আছে। আমাদের দেশে ২০১১ সাল পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা আবাসন ঋণ থাকলে সুদহারের ওপর কর অব্যাহতি ছিল। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এ নিয়ম আছে। কিন্তু আমাদের এখানে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সুযোগটা যদি অন্তত ২৫-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে মধ্যবিত্তের জন্য অনেক উপকার হবে এবং আবাসন খাত আরো উন্নত হবে।
আবাসন খাতে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ডিবিএইচের অবস্থান কেমন? এ খাতের বিকাশে সরকারের কাছে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন?
ডিবিএইচে তারল্য পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো জায়গায় আছে। আমরা গত ১৯ বছর ধরেই ‘ট্রিপল এ’ ক্রেডিট রেটিং পেয়েছি, সেজন্য গ্রাহকরা আমাদের ওপর আস্থা হারাননি। তবে খাত হিসেবে বললে, তারল্য ঘাটতি একটু-আধটু তো আছেই। এ ঘাটতিটা ব্যাংকের ক্ষেত্রেও ছিল আবার এনবিএফআইয়ের ক্ষেত্রেও ছিল। কিন্তু গত সরকার ও বর্তমান সরকার, উভয়ই ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিলেও এনবিএফআইকে কোনো সহায়তা দেয়নি। ফলে যে ধরনের প্রতিষ্ঠান কিছু সমস্যায় ছিল, তাদের সমস্যাগুলো এখনো রয়েই গেছে।
আপনারা সাশ্রয়ী আবাসন নিয়ে আইএফসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছিলেন। এ বিষয়ে একটু আপডেট জানতে চাই।
সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য আমরা যে বন্ড খুলেছি, সেখানে আইএফসি ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। শুধু ফান্ডিং নয়, আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে আইএফসির অ্যাডভাইজরি উইংয়ের সঙ্গেও কয়েক বছর ধরে কাজ করছি। ঝুঁকি না বাড়িয়ে কীভাবে আরো বেশি ঋণ দেয়া যায় কিংবা অনানুষ্ঠানিক খাতে ঋণপ্রবাহ ইত্যাদি বিষয়ে আমরা কাজ করেছিলাম। ওই প্রকল্পটা মোটামুটি শেষ পর্যায়ে আছে। এরপর তাদের সঙ্গে আমরা আরো একটি প্রকল্প ‘সবুজ অর্থায়ন’ এ স্বাক্ষর করেছি। আমাদের পরিবেশের কথা ভাবতেই হবে। আগামী আড়াই বছরের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ হবে।
আর্থিক খাতের জন্য বছরটা কেমন যাবে বলে মনে করছেন?
অর্থনৈতিক খাতের জন্য এ বছরটা একটু কঠিনই হবে। আগের বছরের তুলনায় ঋণের সুদহার বেড়েছে। এর পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। যদিও মানুষ সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। সুদের হার বেড়ে গেলে গ্রাহকের ঋণের কিস্তির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে যারা ঋণ নিতে আগ্রহী, তারা অনেক সময় ঋণ নিতে চিন্তা ভাবনা করেন। এ সমস্যা যে খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়ে যাবে, সেটা মনে হয় না। সেজন্য ২০২৫ সালটা আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং যাবে বলে মনে করি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই কিছুটা কঠিন যাবে।










