বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের চাহিদা থাকলেও দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন হয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিসিএফ এবং আমদানীকৃত এলএনজি থেকে পাওয়া যায় আরো প্রায় এক বিসিএফ। ফলে প্রতিদিন প্রায় এক বিসিএফ গ্যাসের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
এ বাস্তবতায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর, পরিচ্ছন্ন ও বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত এক দশকে এ খাতের প্রবৃদ্ধি তারই প্রমাণ। ২০১৪ সালে যেখানে দেশে বার্ষিক এলপিজি আমদানি ছিল মাত্র দেড় লাখ টন, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৬ লাখ টনে পৌঁছেছে। এ পুরো খাতের বিকাশ ঘটেছে মূলত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও উদ্যোগে।
এ পর্যন্ত এলপিজি খাতে প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমানে এ খাতের বার্ষিক টার্নওভার ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশের প্রায় এক কোটি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করছে এবং প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ এ জ্বালানির সুবিধা পাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান এলপিজি ব্যবহার প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ শক্তির চাহিদা পূরণ করছে, যা জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ কমিয়েছে।
এলপিজির অবদান শুধু জ্বালানি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। যেসব এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানে এটি আধুনিক জ্বালানির প্রধান উৎস। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহার কমেছে, বন সংরক্ষণে সহায়তা মিলেছে এবং ধোঁয়াজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সিলিন্ডার উৎপাদন, বোতলজাতকরণ, পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প খাতেও সিরামিক, টেক্সটাইল, গ্লাস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণসহ বিভিন্ন খাতে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্ব এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনও এলপিজিকে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রূপান্তরকালীন জ্বালানি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই সরকারি নীতিগত সহায়তা, সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ, ডিজিটাল সেবা, স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং কর-শুল্কে যৌক্তিক সুবিধা থাকলে এলপিজি খাতটিই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই শিল্পায়নের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে।
মোহাম্মদ আমিরুল হক: প্রেসিডেন্ট, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)










