দেশীয় গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় এলএনজি ও জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের ওঠানামা সরাসরি আমাদের বিদ্যুৎ খাত ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো জমির স্বল্পতা ও উচ্চমূল্য, দুর্বল গ্রিড অবকাঠামো, ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রতা ও সুদীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, অর্থায়নের উচ্চ ব্যয় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা। উপরন্তু ক্যাপাসিটি পেমেন্টভিত্তিক ব্যয়বহুল কাঠামো ও ভর্তুকির চাপ নতুন বিনিয়োগের পথ সংকুচিত করেছে।

স্বল্পমেয়াদে রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিং ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে সেক্ষেত্রে বিশেষত শিল্প-কারখানা, আরএমজি ভবন ও সরকারি স্থাপনার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সেচে সোলার পাম্প, স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং জ্বালানি সাশ্রয় ও চাহিদা ব্যবস্থাপনায় জোর দেয়া প্রয়োজন।

মধ্যমেয়াদে গ্রিড আধুনিকায়ন ও স্মার্ট গ্রিডে বিনিয়োগ, ব্যাটারি স্টোরেজ সংযোজন, ভাসমান সোলার (জলাশয়, পরিত্যক্ত খনি এলাকা), উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ এবং নেপাল-ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির আঞ্চলিক গ্রিড সংযোগ বাস্তবায়ন। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানও সমান্তরালে চালিয়ে যেতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে একটি বৈচিত্র্যময় ও কম-কার্বন জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তোলা, সবুজ হাইড্রোজেন ও উন্নত স্টোরেজ প্রযুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই, দেশীয় সোলার উৎপাদন শিল্প ও দক্ষ জনবল তৈরি এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে বাজারভিত্তিক মূল্যনির্ধারণ প্রতিষ্ঠা।

সর্বোপরি প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার, স্বচ্ছতা এবং একটি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা—যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আর বিকল্প নয়, বরং মূলধারার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হবে। এ উদ্যোগগুলো টেকসই পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।

ইঞ্জি. মো. মুকিত আলম খান: চিফ বিজনেস অফিসার, আকিজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (আকিজ রিসোর্স গ্রুপ) এক্স পিডি, কক্সবাজার ৬০ মেও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প