বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রায় এক মাস বন্ধ থাকায় যে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়, তা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় সম্পদের উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে এলএনজি, কয়লা ও তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের ক্রমহ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। একই সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে জ্বালানির অপচয় এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উচ্চ সিস্টেম লসও ব্যয় বৃদ্ধি ও দক্ষতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।

স্বল্পমেয়াদে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেটের মধ্যে ভারসাম্য রেখে কার্যকর এলএনজি আমদানি কৌশল গ্রহণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস কমানো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা জরুরি। বর্তমানে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় কম খরচের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয় না, ফলে অধিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার প্রয়োজন হয়।

মধ্যমেয়াদে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিদ্যমান ক্ষেত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পুরনো ও অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবর্তে আধুনিক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস, এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ আমদানির সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি সম্পদের উন্নয়ন, সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, দ্বিতীয় তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম পথ।

মো. রিয়াজ উদ্দিন: এমডি ও সিইও, সামিট মেঘনাঘাট ১ ও ২ পাওয়ার কোম্পানিজ লিমিটেড