বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরশক্তি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতি বছর প্রায় ১৪৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ অর্থের জোগানে সরকারি খাতের পাশাপাশি দেশীয় বেসরকারি ও বিদেশী বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।

আমার অভিজ্ঞতায়, অনেক সম্ভাবনাময় প্রকল্প অর্থায়ন পায় না কয়েকটি কারণে, যা প্রকল্পের বিনিয়োগযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। যেমন নীতিগত অনিশ্চয়তা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, মুদ্রা বিনিময় হারের অস্থিরতা, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা ও বিদ্যুৎ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ও দেশের সার্বভৌম ঋণমানের প্রভাব।

বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের পরিধি আরো বাড়িয়ে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

আমার মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি ফ্যাসিলিটি চালু, বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য কার্যকর কারেন্সি হেজিং ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের আরো কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স, গ্রিন বন্ড ও কার্বন মার্কেটের মতো নতুন আর্থিক উপকরণ কাজে লাগানো যেতে পারে।

ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, এসআরইডিএকে আরো সক্ষম করা, উপযুক্ত সরকারি জমি প্রস্তুত রাখা, বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সময়োপযোগী আর্থিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ সৃষ্টি হবে।

এম নিতাই পদ সাহা: পরিচালক (অর্থ), বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)