শিল্প, পরিবহন, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক জীবনযাত্রা সবকিছুই নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর। তাই একটি দেশের জ্বালানি কৌশল হতে হবে দূরদর্শী, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিনির্ভর, যাতে বর্তমান চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে জ্বালানির গুরুত্ব আরো গভীর। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং শিল্প খাতকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমদানিনির্ভরতা যত বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা তত বেশি আমাদের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে এখনই অধিকতর মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অপচয় রোধকে জ্বালানি খাতের মূল অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। এতে খরচ কমবে, সরবরাহ বাড়বে ও দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হবে।

একই সঙ্গে আমাদের জ্বালানি মিশ্রণকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে। সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো আজ আর বিকল্প নয়; এটি ভবিষ্যতের অপরিহার্যতা। তবে এলএনজি, এলপিজি, কয়লা এবং পারমাণবিক বিদ্যুতের মতো বড় উৎসগুলোকেও নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগাতে হবে, যাতে সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং শিল্প খাত নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যেতে পারে। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ সবকিছুতেই সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

জ্বালানির মূল্য নির্ধারণেও থাকতে হবে স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও বাজারসংশ্লিষ্ট একটি সুস্পষ্ট কাঠামো। উদ্যোক্তা ও শিল্প খাত যদি ভবিষ্যৎ ব্যয় সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই একটি গ্রহণযোগ্য, পূর্বানুমেয় এবং ন্যায্য মূল্যসূত্র গঠন করা সময়ের দাবি। সঠিক নীতি, সঠিক বিনিয়োগ এবং দায়িত্বশীল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য হবে স্থিতিশীল উন্নয়নের শক্ত ভিত।

আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ