দেশে ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি অপারেটর কাজ করছে এবং মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন। বার্ষিক এলপিজি আমদানি ১৬-১৮ লাখ টন এবং প্রতি বছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ গতিশীলতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে ৩০ লাখ টন এবং ২০৪০ সালে ৫০ লাখ টন আমদানি সম্ভব হবে।
এলপিজি অবকাঠামোর বিস্তার: গত এক দশকে বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।
এ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফ্রেশ এলপি গ্যাস। বর্তমানে চারটি লোকেশনে অত্যাধুনিক রি-ফিলিং প্লান্ট, ২০ হাজার টন এলপিজি সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং নিজস্ব দুটি এলপিজি ক্যারিয়ার (প্রতিটির ধারণক্ষমতা দুই হাজার টন) পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর আরো দুটি ক্যারিয়ার যুক্ত হলে আমদানি ও সরবরাহ সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।
এছাড়া কোম্পানির রয়েছে নিজস্ব এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদন কারখানা, যা প্রতি মাসে এক লাখ সিলিন্ডার উৎপাদনে সক্ষম। পাশাপাশি অত্যাধুনিক ক্যারোসেল ফিলিং সিস্টেম, রোড ট্যাংকার বহর, দেশব্যাপী বিস্তৃত পরিবেশক ও ২০,০০০+ রিটেইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা: এলপিজি কাঠ ও কয়লার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে। ডিজেলের চেয়েও এটি অনেক কম দূষণকারী।
এলপিজি জ্বালানি কাঠের তুলনায় অধিক কার্যকর, যা কম ব্যবহারে বেশি তাপ উৎপাদনে সক্ষম। একই পরিমাণ রান্নার কাজে এর প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হয়। ফলে গৃহস্থালি, ফুড বিজনেস ও শিল্প খাতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে এবং কাঠসহ অন্যান্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে বনজ সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বহুমুখী ব্যবহারে এলপিজির বিস্তার: সিঙ্গেল সিলিন্ডারের পাশাপাশি রেটিকুলেশন সিস্টেমের মাধ্যমে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করছে ফ্রেশ এলপি গ্যাস। বহুতল ভবন ও হাউজিং প্রকল্পে সিলিন্ডার ব্যাংক বা স্টোরেজ ট্যাংক থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নাঘরে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি অটোমোটিভ খাতেও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ১০০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি অটোগ্যাস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করছে ব্র্যান্ডটি।
বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চাহিদা পূরণে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে আসছে ফ্রেশ এলপি গ্যাস। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এলপিজি অপারেটরটি।
আবু সাঈদ রাজা: চিফ মার্কেটিং অফিসার
ফ্রেশ এলপি গ্যাস লিমিটেড










