জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল অবকাঠামোগত ইস্যুই নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অন্যতম কৌশলগত পূর্বশর্ত।
তবে শিল্প খাত এখনো গ্যাসের ঘাটতি, ভোল্টেজের ওঠানামা ও আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এতে যেমন উৎপাদন ব্যাহত হয়, তেমনি ব্যয় বাড়ে ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ ক্রেতাদের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দিতে পারে না। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ওষুধ শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু উৎপাদনের সুবিধার বিষয় নয়; এটি পণ্যের গুণগত মান ও রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। জীবাণুমুক্ত ইনজেকশনযোগ্য ওষুধ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ‘ক্লিনরুম’ পরিবেশে উৎপাদিত হয়। সেখানে অল্প সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ভোল্টেজের ওঠানামাও উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে, উৎপাদন বিলম্বিত করতে পারে এবং পণ্যের মান ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
লায়োফিলাইজড ইনজেকশনযোগ্য ওষুধ উৎপাদনে টানা তিন থেকে পাঁচদিন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চক্র বজায় রাখতে হয়। এ সময় সামান্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পুরো একটি ব্যাচ বাতিল করে দিতে পারে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি, কাঁচামালের অপচয় ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহে বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হয়।
জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর ওষুধ, যেমন ক্যান্সারের ওষুধ বা ইনসুলিন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাস্তবতা একই। এসব পণ্যের প্রতিটি ব্যাচের আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। বিদ্যুৎ সরবরাহে যেকোনো বিঘ্ন উৎপাদন ব্যাহত করে ও রফতানি বিলম্বিত করে। ফলে নির্ভরযোগ্য ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এ কারণেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর, ইউপিএস ও অন্যান্য ব্যাকআপ অবকাঠামোয় বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হয়। এতে পরিচালন ব্যয় ও মূলধনি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা শুধু উৎপাদন সচল রাখার বিষয় নয়; এটি পণ্যের মান রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে দেয়া সরবরাহ প্রতিশ্রুতি পূরণ ও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতার প্রতি আস্থা আরো শক্তিশালী করার অন্যতম শর্ত।
সিমিন রহমান: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)
ট্রান্সকম গ্রুপ










