এ প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তার অর্থ শুধু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়; বরং সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও দেশীয় উৎসভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। স্বল্পমেয়াদে শিল্প কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, নেট মিটারিং আরো কার্যকর করা, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) ব্যবহারে নীতিগত সহায়তা এবং সহজ শর্তে স্টেকহোল্ডারদের জন্য গ্রিন ফাইন্যান্স নিশ্চিত করা জরুরি। এতে গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, বিদ্যুতের ব্যয়ও কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

মধ্যমেয়াদে ওপেক্স/রেসকো মডেলের সম্প্রসারণ, স্থানীয়ভাবে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ উৎপাদনে উৎসাহ এবং এসবের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। এগুলোর মাধ্যমে আধুনিক স্মার্ট গ্রিডে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় জ্বালানি পরিকল্পনার কেন্দ্রে রেখে একটি সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক নীতিমালা বাস্তবায়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মূলধারার জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে। সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগই আমাদের একটি নিরাপদ, টেকসই ও স্বনির্ভর জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

মাসুদুর রহিম: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)

ওমেরা রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেড