বাইরে থেকে অনেকটা রিসোর্টের মতো দেখায় কারখানাটিকে। কারখানার ভেতরে ঢুকলেও থাকে স্বস্তি। তবে ভেতরে কোনো এয়ার কন্ডিশন বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নেই। তার পরও ভেতরটা শীতল। এটি এসএম সোর্সিং—বিশ্বের অন্যতম উচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত সবুজ পোশাক কারখানা।
২০১৩ সালে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে যাত্রা শুরু করা এসএম সোর্সিং পরিবেশবান্ধব কারখানার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) রেটিং সিস্টেমে ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ১০৬ পয়েন্ট অর্জন করে শীর্ষ তিনে উঠে এসেছে এ কারখানা। এটি আবাসন প্রকল্প বাদে বিশ্বের যেকোনো বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা নেয়াকে কারখানা কর্তৃপক্ষ সবসময়ই গুরুত্ব দেয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সংযোজন-বিয়োজনও করে। বর্তমানে কারখানাটি যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি, জাপানসহ বিশ্বের ১১টি দেশে পোশাক রফতানি করছে। পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতির কারণে বৈশ্বিক বড় ব্র্যান্ডের কাছেও আস্থার নাম হয়ে উঠছে এসএম সোর্সিং।
সবুজ কারখানার রাজধানী বাংলাদেশ
দেশের পোশাক খাতের যাত্রার ইতিহাসে ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ড আর পরের বছর এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা বড় ক্ষত হয়ে রয়েছে। এ দুটো ঘটনার জেরে পশ্চিমা ক্রেতারা বাংলাদেশী পোশাক কেনা বর্জন করতে শুরু করে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্থানে বিক্ষোভ হয়। বাংলাদেশের পোশাককে ‘সোয়েটশপ’ এমনকি ‘রক্তরঞ্জিত’ আখ্যা দেয়া শুরু হয়। ২০১৩ সালেই যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দেয়। একই সময়ে ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতারা আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা জোট গঠন করে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার মান যাচাই শুরু করে। এ সংকটের মধ্যে বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা নিরাপদ ও বিশ্বমানের সবুজ কারখানা গড়ার বিষয়টি অনুধাবন করতে শুরু করেন। পশ্চিমা ক্রেতাদের আস্থা ফেরানোর জন্য কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ শুরু হয় তৈরি পোশাক অবকাঠামো নির্মাণে। দেশে বাড়তে শুরু করে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কেন্দ্র। এসব উদ্যোগের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বর্তমানে এসএম সোর্সিং নামক তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
এসএম সোর্সিং অবশ্য একাই এ অর্জনের দাবিদার নয়। তবে এটি গোটা বিশ্বের শিল্প-কারখানার বৃহত্তর সবুজ বিপ্লবের প্রতীক। বর্তমানে বাংলাদেশে ২৮৬টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১২৩টি প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটেড। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৪টিই বাংলাদেশে অবস্থিত। আরো চমকপ্রদ তথ্য হলো, বিশ্বের শীর্ষ দশের মধ্যে নয়টি এবং শীর্ষ বিশের মধ্যে ১৫টি সবুজ কারখানা বাংলাদেশের। এছাড়া বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটেড দুটি লিড কারখানাও বাংলাদেশেই। এর মধ্যে এসএম সোর্সিংয়ে শীর্ষ তিনে। গত ছয় মাসে নতুন সার্টিফায়েড হয়েছে ২৪টি কারখানা (১৬টি প্লাটিনাম এবং আটটি গোল্ড)। আরো পাঁচ শতাধিক কারখানা ইউএসজিবিসিতে লিড সার্টিফিকেশনের জন্য অপেক্ষমাণ।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, তৈরি পোশাক খাতের দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে পুরনো সংকট কাটিয়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে এসএম সোর্সিংয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে সবুজ কারখানায় রূপান্তর
গাজীপুরের কোনাবাড়িতে প্রায় চার বিঘা জমির ওপর এসএম সোর্সিংয়ের কারখানা। ভেতরে মাত্র ৯০০ কর্মী সর্বক্ষণ কাজে ব্যস্ত। সবুজ কারখানায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এসএম সোর্সিংয়ের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তারা পুরনো কারখানার শেড ভেঙে আবার নতুন করে গড়েনি। কারখানার সিইও মির্জা শামস মাহমুদ শক্তি কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ও তার বাবার স্মৃতিবিজড়িত এ শেডকে পরিবেশবান্ধব করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনটি নতুন ভবন নির্মাণের চেয়েও চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত ছিল। পুরনো কাঠামোর কিছুই না ভেঙে ভবনের ভেতর আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে কারখানাকে ‘রেট্রোফিটিং’ করা হয়।
রেট্রোফিটিং প্রসঙ্গে এসএম সোর্সিংয়ের সিইও মির্জা শামস এ কারখানার লিড রেটিং পাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রথম স্থান পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সবুজ কারখানায় রূপান্তরে বিনিয়োগ করিনি। বরং পরিবেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিনিয়োগ করেছি।’ সবুজ কারখানার বিনিয়োগ সফলতার বিষয়ে মির্জা শামস জানান, ‘গোটা বিশ্বে বায়াররা পরিবেশবান্ধব কারখানা থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এজন্য পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়া এখন বাড়তি যোগ্যতা নয় বরং বাণিজ্যের প্রাথমিক শর্ত। এজন্য আমরা এখন অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে এর ফল পাওয়া যাবে।’
কারখানার প্রায় ৩৫ শতাংশ জায়গা খোলা। খোলা জায়গায় লাগানো হয়েছে গাছ। ফলে কারখানার ভেতরে ও বাইরে তাজা বাতাস অবাধে চলাচল করতে পারে। তবে বাইরের বাতাস ধুলোমুক্ত রাখার জন্য পরিশোধনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি মনোযোগ। এজন্য বসানো হয়েছে হেপা ও এমইআরভি এয়ার ফিল্টার। এদিকে সবুজায়নের ফলে কারখানার ভেতরের মনোরম দৃশ্য কর্মীদের সবসময় প্রফুল্ল রাখে। সাধারণ ভবনের তুলনায় কারখানাটির ছাদ পাঁচ ফুট উঁচু। এজন্য উষ্ণ মৌসুমেও কারখানার ভেতর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে না এবং আর্দ্রতাও কম থাকে। উষ্ণ বাতাস বের করার জন্য কারখানায় একাধিক এক্সস্ট ফ্যান বসানো হয়েছে। এ ফ্যানগুলো বাইরের তাজা বাতাস কারখানার ভেতর টেনে আনে। এভাবে মাত্র গুটিকয়েক সাধারণ সিলিং ফ্যান চালিয়েই কারখানার পরিবেশ আরামদায়ক রাখা হচ্ছে। দিনের বেলায় কারখানার ভেতরে জ্বালানো হয় না কোনো বৈদ্যুতিক আলো। কারণ কারখানার ছাদে রয়েছে স্কাইলাইট। স্কাইলাইটের কারণে যেন কারখানার ভেতরে তাপ না ছড়ায় সেজন্য ছাদের নিচেই রয়েছে ইনসুলেশন ও বিশেষ সোলার রিফ্লেকশন পেইন্ট। এজন্য বাইরের তাপমাত্রা বাড়লেও কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা সম্ভব হয়।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সফলতা
আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসএম সোর্সিং জ্বালানি বা শক্তি ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে। কারখানার ছাদে ৫৪ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা রয়েছে। এটি কারখানার মোট প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি জোগান দিয়ে থাকে। কারখানায় স্থাপিত সোলার প্যানেল থেকে প্রতিদিন ৪৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কারখানার মোট দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা ২২৫ কিলোওয়াট, সুতরাং সৌরশক্তি থেকে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বিদ্যুৎ মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্বন নিঃসরণ বা কার্বন ফুটপ্রিন্ট অবিশ্বাস্য হারে (৭১ শতাংশ) কমিয়ে এনেছে। প্রতিষ্ঠাকালে কারখানার কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৪১ টন। বর্তমানে তা ১ হাজার ৫৭ টনে নেমে এসেছে। কার্বন নিঃসরণের এ পরিমাণ কমানো বছরে প্রায় ৬৭ হাজার গাছ লাগানোর সমান প্রভাব ফেলে। এ ডিকার্বোনাইজেশন প্রক্রিয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কার্বন সাশ্রয়ের শর্ত পূরণ করা তাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে।
জ্বালানি সাশ্রয় সফল করার জন্য কারখানাটি নিয়মিত জ্বালানি নিরীক্ষণ বা এনার্জি অডিট করে থাকে। বিদ্যমান ভবনকে সবুজ কারখানায় রূপ দেয়ার জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয় তার রিটার্ন কত দ্রুত আসবে সেজন্য প্রাথমিক যাচাই করা হয়। তারপর কারখানাটি লেভেল-১ এনার্জি অ্যাসেসমেন্ট ও লেভেল-২ এনার্জি অডিট সম্পন্ন করে। নিরীক্ষণ পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ এনার্জি অডিটরদের নিয়োগ দেয় কারখানাটি। অডিট সম্পন্ন হওয়ার পর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট স্টেটমেন্ট তৈরি করে সমন্বয় করে কারখানাটি। জ্বালানি নিরীক্ষণের মাধ্যমে কারখানাটি তিন বছরে বাড়তি বিনিয়োগ তুলে এনেছে। বর্তমানে কারখানাটি সাশ্রয়ী জ্বালানির সুবিধা ভোগ করছে। এটি গোটা বিশ্বের সবুজ কারখানার জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা
তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের পাশাপাশি পানির সরবরাহও স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তবে তৈরি পোশাক শিল্পে পানির অপচয়ও বহুদিনের সমস্যা। তবে এসএম সোর্সিং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার নানা কৌশল অবলম্বন করে ৫০ শতাংশ পানি সাশ্রয় করতে পারছে। কারখানার ভেতরের পানির কল ও অন্যান্য সরঞ্জামে ‘লো ফ্লো ফিক্সচার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে পানির অপচয় কমছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কারখানার ভেতরকার খোলা জায়গায় বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। বাগানের নিচে বিশেষ রিজার্ভারে বৃষ্টির পানি জমানো হয়। পরবর্তী সময়ে এ পানি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব ক্রয়নীতি
এসএম সোর্সিং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত ৩আর (Reduce, Reuse, Recycle) নীতির বদলে ৮আর নীতি (Rethink, Refuse, Reduce, Reuse, Refurbish, Repair, Repurpose, Recycle) মেনে চলে। ফলে কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্যের ৮০ শতাংশই রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করা যায়। এভাবে অনেক বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পাঠানোর বদলে রক্ষা করা যায় এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে কাজে লাগানো যায়। এমনকি উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও কারখানাটি টেকসই ক্রয়নীতি অনুসরণ করছে। রিচার্জেবল ব্যাটারি কেনা, এফএসসি সার্টিফায়েড কাগজ ব্যবহার করা, কারখানায় পারদমুক্ত বাল্ব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বাড়তি বর্জ্য উৎপাদন অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পেরেছে কারখানাটি।
পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনায় বাড়ছে কর্মী দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা
গোটা কারখানাটিকে রিসোর্টের মতো মনোরম রূপ দেয়ায় কর্মীরা সবসময়ই উৎফুল্ল পরিবেশে কাজ করতে পারেন। কারখানার তাপমাত্রা কৃত্রিমভাবে ঠাণ্ডা রাখা হয় না। স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকায় কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ থাকে কম। কর্মীদের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করায় বায়ুবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে এড়িয়েছে এসএম সোর্সিং। কারখানার ভেতরের জানালা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কর্মীরা কাজের ফাঁকে বাইরের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করতে পারে। এতে কর্মীদের মানসিক চাপ কমে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। এসএম সোর্সিংয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৫০-৫৫ শতাংশ ছিল। কর্মপরিবেশের উন্নতির মাধ্যমে তা বেড়ে ৮০-৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এসএম সোর্সিং
প্লাটিনাম মানের লিড সার্টিফায়েড কারখানা নির্মাণে ব্যয় হয় একটি সাধারণ কারখানার চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। তবে এ বাড়তি খরচ একটি লাভজনক বিনিয়োগ। এসএম সোর্সিং প্রমাণ করেছে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয় বরং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরনো ভবনের সংস্কার করেও পরিবেশবান্ধব কারখানায় রূপান্তর সম্ভব। লিড বিশেষজ্ঞ আনান্তা আহমেদ জানান, এসএম সোর্সিংয়ের সফলতা দেখে বলেছেন, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয় এবং কর্মীদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কারণে মাত্র তিন বছরে কারখানা রূপান্তরের অতিরিক্ত বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে, যা রফতানির মূল্য ও পরিমাণ দুটোই বাড়ায়। বিজিএমইএ সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন, ‘বৈশ্বিক সংকটের সময়ে এমনিতেই অর্ডারের পরিমাণ কমে আসছে। তবে সবুজ কারখানার কারণে আমরা এখন কিছু অর্ডার পাই।’
এসএম সোর্সিংয়ের সাফল্য আজ শুধু একটি কারখানার গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গভীর রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি—যেখানে একসময়কার ‘সোয়েটশপ’ তকমার গ্লানি কাটিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশসচেতন পোশাক শিল্পের দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গাজীপুরের এ ছোট্ট কারখানার বড় স্বপ্ন—মুনাফা ও পরিবেশ, দুটোই রক্ষা করা সম্ভব। এসএম সোর্সিং সেই স্বপ্নের জীবন্ত প্রমাণ।










