গত আড়াই শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র শুধু একটি রাষ্ট্র হিসেবেই নয়—উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্বে অনন্য অবস্থান তৈরি করেছে। সেই যাত্রার অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজও গর্বিত। হা-মীম গ্রুপেরও বছরে প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি হয়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি বাস্তব প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আজ কেবল রফতানি-আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি লাখো মানুষের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক আস্থা, পূর্বানুমেয় বাণিজ্যনীতি এবং ধারাবাহিক সংলাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্ক সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানিও সম্প্রসারিত হবে। এটি হবে দুই দেশের জন্যই একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগ।
এ ঐতিহাসিক ২৫০তম বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করছি। একই সঙ্গে আশা করি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো গভীর হবে এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ও জনগণের জন্য নতুন সুযোগ ও সমৃদ্ধির দ্বার উন্মোচন করবে।
এ কে আজাদ: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান, হা-মীম গ্রুপ










