কভিড-১৯
মহামারী বিশ্বকে
নাড়া দিয়েছে।
শতবর্ষ আগে
পৃথিবী প্রত্যক্ষ
করেছে স্প্যানিশ
ফ্লু মহামারী।
১৯১৮-১৯১৯
পৃথিবীর লোকসংখ্যা
ছিল প্রায়
১৮৫ কোটি।
স্প্যানিশ ফ্লু
আক্রান্ত হয়ে
মৃত্যুবরণ করে
দুই কোটি
মানুষ। বলা
হয়েছে, অনেকের
ইনফ্লুয়েঞ্জা-পরবর্তী
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে
মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ওই
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী
অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার
হয়নি। পৃথিবীতে
প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক
পেনিসিলিন আবিষ্কার
করেন আলেকজান্ডার
ফ্লেমিং ১৯২৯
সালে। সেই
পেনিসিলিন পরিশোধিত
করে মানুষের
ব্যবহার উপযোগী
করা হয়
পঞ্চাশের দশকে।
স্প্যানিশ ফ্লু
মহামারীকালে মোটরগাড়ি
ও উড়োজাহাজ
ছিল না।
দ্রুত যাতায়াতের
জন্য ডাঙায়
রেলগাড়ি ও
সমুদ্রে জাহাজ
ছিল ভরসা।
আজ যেমন
চীনে মহামারী
শুরু হলে
কয়েকদিনের মধ্যে
অ্যারোপ্লেনের সাহায্যে
সংক্রমিত ব্যক্তি
আমেরিকা, ইউরোপ,
অস্ট্রেলিয়া ও
এশিয়ার বিভিন্ন
দেশে সংক্রমণ
ছড়িয়ে দিতে
পারে। স্প্যানিশ
ফ্লুর সময়
সে সুযোগ
না থাকলেও
১৫৮ কোটি
বিশ্ব জনসংখ্যার
মধ্যে দুই
কোটি মারা
পড়েছিল। আর
কভিড-১৯
সংক্রমণে পৃথিবীর
৭০০ কোটি
মানুষের মধ্যে
মৃত্যু হয়েছে
৪৭ লাখ
৭ হাজার,
আর সংক্রমিত
হয়েছে ২২
কোটি ৯৩
লাখ মানুষ।
কেন মৃত্যুহারের
এই তারতম্য
সে নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনা
করা যায়।
আমরা সেই
দিকে যাব
না। করোনা
মহামারীতে বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার
কোন কোন
দুর্বল দিক
সামনে এসেছে, নীতিগত
কোনো দুর্বলতা
আছে কিনা,
আগামীতে এমন
মহামারী মোকাবেলায়
আমরা প্রস্তুত
হচ্ছি কিনা
সে বিষয়
নিয়ে কিছু
আলোচনা করব।
প্রথমে আমি
আন্তর্জাতিক সংক্রমণের
বিস্তৃতি প্রতিরোধ
নিয়ে আলোকপাত
করছি। চীনের
উহান থেকে
অল্প সময়ে
সারা বিশ্বে
কভিড-১৯
ছড়িয়ে পড়েছে
একবিংশ শতাব্দীর
উত্কৃষ্ট যাতায়াত
ব্যবস্থা বিশেষ
করে বিমান
পরিবহন ব্যবস্থায়।
২০১৯ সালের
শেষের দিকে
উহান থেকে
কভিড-১৯
সংক্রমিত মানুষ
দ্রুত পৃথিবীর
বিভিন্ন দেশে
ছড়িয়ে পড়ায়
বিরাট ভূমিকা
পালন করে
চীনা নববর্ষ।
এ সময়
চীনা নববর্ষের
জন্য চীন
থেকে হাজার
হাজার পর্যটক
পৃথিবীর বিভিন্ন
দেশে ভ্রমণ
করেছেন। বাংলাদেশে
চাইনিজ পর্যটকের
সংখ্যা নগণ্য।
আমাদের দেশে
২০২০ সালের
ফেব্রুয়ারির প্রথম
সপ্তাহে উহানে
অধ্যয়নরত ৩১২
জন ছাত্র
ঢাকায় ফিরে
আসে। তাদের
ঢাকা বিমানবন্দরে
জ্বর (শরীরের
তাপমাত্রা) পরীক্ষা
করে আশকোনা
হজ ক্যাম্পে
১৫ দিন
কোয়ারেন্টিনে রাখা
হয়। কোয়ারেন্টিন
শেষে তাদের
নিজ নিজ
বাড়িতে যেতে
দেয়া হয়।
এ সময়
আমরা দেখেছি,
আমাদের আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরগুলোতে জ্বর
মাপার ভালো
ব্যবস্থা ছিল
না। সরকার
দ্রুত এসব
ব্যবস্থা করার
প্রয়াস নেয়
কিন্তু কিছুদিন
আমাদের বিমানবন্দরগুলোর
অবস্থা ভালো
ছিল না।
এ সময়
বেশকিছু বাংলাদেশী
ইতালি থেকে
দেশে ফিরেছেন।
সে সময়
বিমানবন্দর থেকে
তাদের গ্রামের
বাড়ি পাঠিয়ে
দেয়া হতো
কোয়ারেন্টিন করার
নির্দেশনা দিয়ে।
২০২১ সালের
জানুয়ারিতে কভিড-১৯-এর
নতুন ভ্যারিয়েন্টের
উদ্ভব হলো।
এ ভ্যারিয়েন্টটির
ছড়ানোর ক্ষমতা
এর আগে
ছড়ানো ভাইরাসগুলোর
চেয়ে ৭০
শতাংশ বেশি।
সে সময়
নীতিনির্ধারকরা বললেন,
বিদেশ থেকে
আসা বাংলাদেশীদের
বিমানবন্দরের পাশে
চারদিন কোয়ারেন্টিনে
রাখা হবে,
তারপর ১১
দিন হোম কোয়ারেন্টিন
করা হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর
হস্তক্ষেপে এ
নিয়ম পরিবর্তন
করে ১৫
দিন ঢাকারই
হোটেলে কোয়ারেন্টিনের
ব্যবস্থা করা
হয়। বিপুলসংখ্যক
জনসাধারণের শহর
ছেড়ে দেশের
বিভিন্ন প্রান্তে
গমন ও
ফিরে আসা,
সারা দেশে
কভিড-১৯
ছড়ানোর প্রধান
কারণ। আমাদের
দেশে ঈদের
সময় বিপুলসংখ্যক
মানুষ অতি
অল্প সময়ে
গাদাগাদি করে
বাসে, ট্রাকে
ও ফেরিতে
করে শহর
ছেড়ে দেশের
বিভিন্ন প্রান্তে
যায় এবং
সপ্তাহখানেক পরে
আবার ওইভাবে
শহরে ফিরে
আসে। সে
সময় তারা
ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি
না মেনে
যাতায়াত করে।
২০২০ সালের
মে ও
আগস্টে এবং
২০২১ সালের
মে ও
জুলাইয়ে ঈদ
উদযাপনের সময়
এ ঘটনাগুলো
ঘটেছে। ২০২১
সালের জুলাই
শেষে দেশে
লকডাউন চলছিল।
হঠাৎ রফতানিমুখী
শিল্প (গার্মেন্ট)
খুলে দেয়ার
সিদ্ধান্ত হয়।
হাজার হাজার
শ্রমিক হেঁটে,
ট্রাকে গাদাগাদি
করে ঢাকা
ও পাশের
গার্মেন্টগুলোতে আসে।
সারা দেশে
যখন লকডাউন
দেয়া হয়েছে
তখন বস্তুত
লকডাউন কার্যকর
হয়েছে ঢাকা
বা বড়
শহরের রাজপথগুলোয়।
সেখানে অবশ্য
বিশেষ প্রয়োজনে
অনুমতি সাপেক্ষে
লোকজন গাড়ি
নিয়ে যাতায়াত
করেছে। রাস্তায়
ছিল বিস্তর
যানজট, নজর
দেয়া হয়নি
পাশের ফুটপাতে।
সেখানকার মানুষ
মাস্ক পরছে
কিনা, স্বাস্থ্যবিধি
মানছে কিনা
সেদিকে খেয়াল
করা হয়নি।
ছোট পরিসরে
লকডাউন কার্যকর
হয়েছে। ২০২০
সালে মিরপুরের
টোলারবাগে লকডাউন
করে অত্যন্ত
ভালো ফল
পাওয়া গেছে।
দেশজুড়ে অথবা
বিস্তীর্ণ এলাকায়
লকডাউন কার্যকর
করা যেমন
কঠিন, তেমনি
কাঙ্ক্ষিত ফলও
পাওয়া যায়নি।
ছোট ছোট
এলাকায় যেখানে
সংক্রমণের হার
অধিক ক্লাস্টার
সেখানে অল্প
জায়গায় কঠোর
লকডাউন করে
ভালো ফল
পাওয়া গেছে।
যেমন মিরপুর
টোলারবাগে এবং
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ
উপজেলায়। শিবগঞ্জে
এলাকাভিত্তিক কঠোর
লকডাউন দিয়ে
অল্প সময়ে
সংক্রমণ হার
৬০ ভাগ
থেকে ১০
ভাগে কমিয়ে
ফেলা গিয়েছিল।
এ জিনিসের
পুনরাবৃত্তি হয়নি।
দেশের অধিকাংশ
স্থানে সংক্রমণ
ছড়িয়ে যাওয়ার
পর একমাত্র
টেস্টিং ল্যাবরেটরি
আইইডিসিআরে যারা
পরীক্ষা করতে
ইচ্ছুক তাদের
পরীক্ষা করার
ব্যবস্থা করা
হয়। কেউ
সংক্রমিত হয়েছে
বলে সন্দেহ
করে আইইডিসিআরে ফোন
করলে স্যাম্পল
কালেকশন টিম
সেই ব্যক্তির
স্যাম্পল কালেকশন
করে আইইডিসিআরে
পরীক্ষার জন্য।
কিন্তু চাহিদা
অনুপাতে উদ্যোগটি
অপ্রতুল বলে
পরবর্তী সময়ে
আরটি-পিসিআর
পদ্ধতিতে টেস্টিং
ল্যাবরেটরি সংখ্যা
বাড়ানো হলে
ধীরে ধীরে
পরীক্ষার সংখ্যাও
বাড়তে থাকল।
ওয়াকিবহাল মহলের
উত্কণ্ঠা কমতে
থাকল। কিন্তু
স্বল্প সময়ে
আরটি-পিসিআর
ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা
করা, যথেষ্ট
টেস্টিং কিট
জোগাড় করা
ইত্যাদিতে অনেক
সময় ব্যয়
হয়েছে। স্যাম্পল
কালেকশন, ট্রান্সপোর্ট,
ল্যাবরেটরিতে নমুনা
পরীক্ষার ফলাফল
সমন্বয় করা
যথেষ্ট শ্রমসাপেক্ষ
বলে প্রতীয়মান
হয়েছে। সম্পূর্ণ
অপ্রস্তুত স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা ধীরে
ধীরে এসব
কাজ গুছিয়ে
আনতে প্রাথমিক
পর্যায়ে যথেষ্ট
সময় নিয়েছে।
প্রাইভেট ল্যাবরেটরিকে
টেস্টের দায়িত্ব
দিয়ে কিছু
কিছু ল্যাবরেটরিতে
দুর্নীতি ধরা
পড়ে। এসব
কার্যক্রম যখন
মোটামুটি ভালোভাবে
চলছিল তখন
দুই শতাধিক আরটি-পিসিআর
ল্যাবরেটরি সারা
দেশে কাজে
নিয়োজিত ছিল।
১২-১৫
মে, ২০২১
ঈদুল ফিতরের
জন্য বিপুলসংখ্যক
জনসাধারণ ১০
মে শহর
থেকে গ্রামে
চলে যায়।
এভাবে বেশি
সংক্রমিত শহরের
জনগণ সারা
দেশে ছড়িয়ে
পড়ে। ১৭-২৩
মে দেশের
২২টি জেলায়
নতুন রোগী
বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোনো কোনো
ক্ষেত্রে বৃদ্ধির
হার শতভাগেরও
অধিক। ২২টি
জেলার মধ্যে
১৫টি জেলা
সীমান্তবর্তী। জনস্বাস্থ্যবিদরা
মনে করেন,
শহর থেকে
সীমান্তবর্তী জেলায়
সংক্রমিত মানুষের
সমাগমের সঙ্গে
আগের কয়েক
সপ্তাহ ধরে
ভারত থেকে
আসা সংক্রমিত
মানুষের সমাগম
হয়। যদিও
বাংলাদেশে সরকার
এ সময়
বাংলাদেশ-ভারত
সীমান্ত বন্ধ
করে দিয়েছিল।
অনানুষ্ঠানিক পথে
সীমান্ত অতিক্রম
করে বহু
সংক্রমিত মানুষ
সীমান্তবর্তী জেলায়
ঢুকে পড়ে।
১৫টি জেলার
মধ্যে পশ্চিম
সীমান্তে ঠাকুরগাঁও,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট,
রাজশাহী, মেহেরপুর,
কুষ্টিয়া, যশোর,
সাতক্ষীরা এবং
উত্তরে লালমনিরহাট,
কুড়িগ্রাম, জামালপুর
ও পূর্বে
সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ,
রাঙ্গামাটি ও
বান্দরবন।
এসব জেলায়
সংক্রমণের সঙ্গে
সঙ্গে চিকিৎসা
সংকটও দেখা
দেয়। উপজেলা
ও জেলা
হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক
চিকিৎসাপ্রত্যাশী রোগী
আসে। কিন্তু
সিটস্বল্পতা, অক্সিজেন
ঘাটতি (সেন্ট্রাল
অক্সিজেন না
থাকা এবং
অক্সিজেন সিলিন্ডারের
অপ্রতুলতা) হাই
ফ্লো ন্যাজাল
ক্যানুলা ও
ভেন্টিলেটরের অভাবে
রোগীরা সেবা
থেকে বঞ্চিত
হয়েছে। অবস্থাপন্ন
রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স
ভাড়া করে
রাজধানী শহরে
ভিড় করেছে।
ফলে রাজধানীর
হাসপাতালগুলোও সিটের
অভাবে চিকিৎসা
দিতে ব্যর্থ
হয়। রোগীদের
স্বজনের গাড়িতে
বা ভ্যানে
করে রাজধানীর
করোনা ডেজিগনেটেড
হাসপাতালগুলোতে তাদের
ছোটাছুটি করতে
দেখা গেছে।
নতুন করে
ঢাকা উত্তর
সিটি করপোরেশন
একটি এক
হাজার বেড
হাসপাতাল স্থাপন
করে অবস্থা
কিছুটা সামাল
দেয়। পরবর্তী
সময়ে বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে
আরো একটি
এক হাজার
বেড হাসপাতাল
স্থাপন করা
হয়। উল্লেখ্য,
দেশের শীর্ষ
পর্যায় থেকে
জেলা পর্যায়ের
হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ
সেবা চালু
করার নির্দেশনা
আসে ২০২০
সালের জুন
মাসে। এ
ব্যাপারে ধীরে
ধীরে পদক্ষেপ
নেয়া হচ্ছে।
ভারতের সেরাম
ইনস্টিটিউট থেকে
প্রাপ্ত অ্যাস্ট্রাজেনেকা
টিকা দিয়ে
বাংলাদেশে টিকা
কার্যক্রম শুরু
হয়। নিবন্ধন
পদ্ধতির মাধ্যমে
টিকা কার্যক্রম
শুরু হয়।
২০২১ সালের
৭ ফেব্রুয়ারি
থেকে টিকাদান
শুরু হয়।
এ টিকা
প্রথম ডোজের
এক মাস
পরে দ্বিতীয়
ডোজ দেয়ার
কথা থাকলেও
দুই মাস
পর ৭
এপ্রিলে দ্বিতীয়
টিকা দেয়া
হয়। পরবর্তী
সময়ে এই
গ্যাপ তিন
মাস করা
হয় এবং
বলা হয়,
গ্যাপ চার
মাস করা
হলেও টিকা
কার্যকর হবে।
এর মধ্যে
নানা কারণে
ভারত থেকে
এই টিকা
সরবরাহ বিঘ্নিত
হয় ও
বাংলাদেশের টিকা
কার্যক্রমে একটা
ছেদ পড়ে।
সরকার বিভিন্ন
দেশ থেকে
নানা কোম্পানির
টিকা সংগ্রহের
চেষ্টা চালায়।
ধীরে ধীরে
বেশকিছু দেশ
থেকে কয়েক
ধরনের টিকা
সংগৃহীত হয়
ও টিকাদান
কার্যক্রম চালু
হয়। প্রথম
দিকে জনসাধারণের
মধ্যে টিকা
নেয়ার তেমন
আগ্রহ দেখা
না গেলেও
পরে টিকা
গ্রহণ করতে
মানুষের মধ্যে
প্রচুর আগ্রহ
পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সরকার টিকাদান
ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ঠিক
করেছে। ফ্রন্ট
লাইনার বা
যারা কভিড-১৯
রোগী নিয়ে
কাজ করছেন,
যেমন ডাক্তার,
নার্স, ওয়ার্ডবয়,
আইন প্রয়োগকারী
সংস্থা ও
বয়স্ক অসুস্থ
মানুষ। এখন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে
দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে
ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ
প্রায়োরিটি গ্রুপে
এসে পড়েছে।
বাংলাদেশে কভিড-১৯
সংক্রমণ প্রথম
ধরা পড়ে
২০২০ সালের
৮ মার্চ।
তখন ল্যাবরেটরির
সংখ্যা কম
ছিল, বেশি
স্যাম্পল টেস্ট
করা যেত
না। ধীরে
ধীরে ল্যাবরেটরির সংখ্যা
বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে স্যাম্পলও
বাড়তে থাকে,
যদিও সেটা
আশানুরূপ ছিল
না। লক্ষ
করা গেল,
সংক্রমণ হার
ধীরে ধীরে
বাড়তে থাকল।
মে মাসে
সংক্রমণের হার
২০ শতাংশে
পৌঁছাল। এ
হার আগস্ট মাসের
শেষের দিকে
১৮ শতাংশে,
সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ
হার ১১
শতাংশে নামল
ও ডিসেম্বরের
মাঝামাঝি সংক্রমণের
হার ৯
শতাংশে নেমে
গেল। ২০২১
সালের জানুয়ারিতে
সংক্রমণ হার
৩ শতাংশে
নেমে গেল,
ফেব্রুয়ারিতে ২-৩
শতাংশে থাকল,
মার্চের দ্বিতীয়
সপ্তাহ থেকে
সংক্রমণ হার
বাড়তে শুরু
করল ও
মাস শেষে
সংক্রমণ হার
২০ শতাংশের
ঘরে পৌঁছে
গেল। শুরু
হলো বাংলাদেশের
কভিড-১৯
সংক্রমণের দ্বিতীয়
ঢেউ। এপ্রিলের
চতুর্থ সপ্তাহে
সংক্রমণের হার
আবার ১০
শতাংশের ঘরে
নামল। মে
থেকে জুনের
প্রথম সপ্তাহ
পর্যন্ত সংক্রমণ
হার ১০
শতাংশের ঘরেই
থাকল। জুনের
শেষের সপ্তাহে
সংক্রমণ হার
আবার ২০
শতাংশে উঠে
গেল। ২০২১-এর
গোটা জুলাই
মাস ও
আগস্টের তৃতীয়
সপ্তাহ পর্যন্ত
সংক্রমণ হার
২০ শতাংশের
মধ্যে থাকল
এবং চতুর্থ
সপ্তাহে সংক্রমণ
হার ১৫
শতাংশের নিচে
নেমে গেল।
ধীরে ধীরে
কমতে কমতে
আজ (২১
সেপ্টেম্বর ২০২১) সংক্রমণের
হার ৪
দশমিক ৬
শতাংশের ঘরে।
সংক্রমণ হারের
ওঠানামা ও
বাংলাদেশে শীতকালে
সংক্রমণ হার
কমে যাওয়া,
যা কিনা
অন্যান্য দেশের
সঙ্গে মেলে
না, সেখানে
শীতকালে কভিড-১৯
সংক্রমণ হার
বেড়ে যায়।
এ বিষয়গুলো
নিয়ে গবেষণার
প্রয়োজন আছে,
কারণ অনুসন্ধান
করতে হবে।
আমরা ইমার্জিন
কভিড-১৯
প্যানডেমিক মোকাবেলার
জন্য প্রস্তুত
ছিলাম না।
বস্তুত স্বাধীনতার
পর সাড়ে
সাত কোটি
জনসংখ্যার জন্য
প্রতিষ্ঠিত হেলথ
সার্ভিসের উন্নয়নে
মোটামুটি জুতসই
পরিকল্পনার মাধ্যমে
উন্নতি সাধনের
উদ্যোগ নেয়া
হয়। দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার দেশগুলোর
মধ্যে বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য অবকাঠামো
উন্নয়ন পরিকল্পনা
অত্যন্ত উন্নত।
কিন্তু বিভিন্ন
সময়ে ভুল
কার্যক্রম, সমন্বয়হীন
ও দুর্নীতিপরায়ণ
ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার
ঠিকমতো উন্নতি
সাধিত হয়নি।
এর মধ্যে
দুর্নীতি হচ্ছে
সবচেয়ে ক্ষতিকর
কারণ। দুর্নীতির
সঙ্গে জড়িতরা
একেবারে নিম্ন
পর্যায় থেকে
শীর্ষ পর্যায়ের
কিছু মানুষ।
সমন্বয়হীনতার উদাহরণ
দিই, একটি
হাসপাতালে কিছু
অত্যন্ত মূল্যবান
এক্স-রে
যন্ত্রপাতি ও
ভেন্টিলেশন ইকুইপমেন্ট এসেছে।
মজার ব্যাপার
হলো, এ
যন্ত্রপাতি যারা
চালাবে সেই
টেকটিক্যাল লোকজনের
পোস্ট আছে
কিন্তু সেখানে
লোক নিয়োগ
দেয়া হয়নি।
আপনারা খবরে
শুনেছেন কয়েক
বছর ধরে
যন্ত্রগুলো প্যাকেটস্থ
অবস্থায় থাকার
জন্য নষ্ট
হয়ে গেছে।
জিজ্ঞাসা করলে
সিভিল সার্জন
বললেন, যন্ত্র
এসেছে কিন্তু
ওগুলো চালানোর
লোক পোস্টিং
দেয়া হয়নি।
উপরে এই
সম্পর্কে চিঠি
দিয়ে কোনো
ফল হয়নি।
পোস্ট থাকা
সত্ত্বেও লোক
নিয়োগ দেয়া
হলো না
কেন? খবরের
কাগজ পড়ে
আমরা জানতে
পারি, এ
রকম ঘটনা
নতুন না।
২০-৩০
বছর আগেও
এ রকম
খবর আমরা
কাগজে পড়েছি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক পার্লামেন্টারি
কমিটি আছে।
সংবাদ মিডিয়া
আছে। আলোচনা
হচ্ছে, পদক্ষেপ
নেয়া হচ্ছে
না।
করণীয়: নতুন
নতুন যেসব
মহামারী দেখা
দেয় তার
সিংহভাগই ভাইরাসজনিত।
দেশে ভাইরাস
ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা
করতে হবে—বিশেষ
করে টারশিয়ারি
প্রতিষ্ঠানগুলোতে। পিসিআর
পদ্ধতিতে রোগ
নির্ণয় একটি
আধুনিক পদ্ধতি।
জেলা পর্যায়ে
পিসিআর ল্যাবরেটরি
প্রতিষ্ঠা করতে
হবে। অতিজ্ঞানী
কিছু বিশেষজ্ঞই
বাধা দেবেন—এত
টাকা দিয়ে
এসব ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা
করলে যখন
কভিড-১৯
মহামারী প্রশমিত
হবে এসব
ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি
ব্যবহারে নিয়োগপ্রাপ্ত
লোকজন বসে
থাকবে, দেশ
রসাতলে যাবে।
তাই আগে
থাকতে বলে
দিই এসব
ল্যাবরেটরি থেকে
হেপাটাইটিস-ই,
হেপাটাইটিস-সি, সাইটোমেগালো
ভাইরাসের সেবা
পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে একেকটি
জেলায় কম-বেশি
২৫ লাখ
লোক বাস
করে। এসব
স্থান থেকে
অসুখ হলেই
ঢাকা যাওয়ার
প্রবণতা বন্ধ
করতে হবে।
ভাইরাল ইনফেকশন
শনাক্ত করতে
জেলা শহরের
ল্যাবরেটরি ব্যবহার
করা যাবে।
তবে এ
পর্যায়ে বলে
রাখি, কভিড-১৯
পিসিআর ল্যাবরেটরিতে
যারা কাজ
করবে তাদের
ইউনিভার্সিটি বায়োকেমিস্ট্রি,
মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিকস
ইত্যাদি বিভাগ
থেকে পাস
করা ছেলেমেয়েদের
নিয়োজিত করা
যায় কিনা
দেখতে হবে।
উপজেলা পর্যায়ে
কেন্দ্রীয় অক্সিজেন
সাপ্লাই ও
জেলা পর্যায়ে
আইসিইউ সেবা
নিশ্চিত করতে
হবে। মনে
রাখতে হবে,
রোগী আরোগ্য
করাও রোগ
প্রতিরোধের অংশ।
রোগী আরোগ্য
লাভ করলে
তার থেকে
রোগ ছড়ায়
না।
আমি যখন
মেডিকেল কলেজে
ভর্তি হই
তখন পূর্ব
পাকিস্তানে তিনটি
মেডিকেল কলেজ
ছিল। ঢাকা,
চট্টগ্রাম আর
রাজশাহী। ১৯৬১
সালে আরো
পাঁচটি সরকারি
মেডিকেল কলেজ
প্রতিষ্ঠিত হয়।
সিলেট, ময়মনসিংহ,
রংপুর, বরিশাল
ও স্যার
সলিমুল্লাহ। মোট
মেডিকেল কলেজের
সংখ্যা ৮।
আজ সরকারি
মেডিকেল কলেজের
সংখ্যা ৩৬।
প্রাইভেট মেডিকেল
কলেজের সংখ্যা
৬৮। সেনাবাহিনীর
অন্তর্গত ছয়টি
মেডিকেল কলেজ।
দেশে কয়েকশ
প্রাইভেট হাসপাতাল
ও ক্লিনিক,
ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি,
ব্লাড ট্রান্সফিউশন
সেন্টার এসব
স্থাপনা দেখাশোনা
করার জন্য
স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের
দপ্তরটি অনেক
পরিবর্ধন প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,
স্বাস্থ্য সচিবালয়
ও স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়—এ
তিনটি প্রতিষ্ঠান
দেশের স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা পরিচালনা
করে। বিশেষজ্ঞরা
মনে করেন,
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
পরিবর্ধন করার
সঙ্গে সঙ্গে
এ অধিদপ্তরের
দায়িত্বভার বহন
করার মতো
উপযুক্ত ক্ষমতাও
প্রদান করতে
হবে। স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর স্বাস্থ্যসেবা,
শিক্ষা ও
গবেষণার সমুদয়
কাজ করবে।
সচিবালয় ও
মন্ত্রণালয় দেশের
অন্যান্য সংস্থার
সঙ্গে স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার সমন্বয়
সাধন করবে।
নীতিগত সব
সিদ্ধান্ত অধিদপ্তর,
সচিবালয় ও
মন্ত্রণালয় নিজ
নিজ ভূমিকা
পালন করে
সমন্বিত সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করবে।
ডা. মো. নজরুল ইসলাম: অধ্যঅপক ও সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়





