সাম্প্রতিক সময়ে আবাসন খাতে ঋণের চাহিদা কেমন দেখছেন? এ প্রেক্ষাপটে প্রিমিয়ার ব্যাংকের হোম লোন কার্যক্রমের পরিস্থিতি কেমন?

দেশের নগরায়ণ, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং উঠতি মধ্যবিত্ত সম্প্রসারণের কারণে আবাসন খাতে ঋণের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে নিজস্ব ফ্ল্যাট বা বাড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেশি। এই বাস্তবতায় প্রিমিয়ার ব্যাংক হোম লোনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। আমরা মনে করি, আবাসন শুধু একটি সম্পদ নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতারও অংশ। সে কারণেই এ খাতে আমাদের সম্পৃক্ততা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক বর্তমানে দুটি হোম লোন প্রডাক্ট পরিচালনা করছে। ‘‌প্রিমিয়ার হোম লোন’ ও ‘‌প্রিমিয়ার বসতভিটা’। এই দুই প্রডাক্টই গ্রাহকদের ফ্ল্যাট ক্রয় কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য উপযোগী। বর্তমানে গ্রাহকরা উভয় প্রডাক্টে ১৫ শতাংশ সুদহারে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। বাজার পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এ হার নির্ধারিত হয়, যা গ্রাহকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছহারে বিতরণ করা হয়।

গৃহঋণে অর্থছাড়া একটি বড় বিষয়। প্রিমিয়ার ব্যাংকে আবেদন করার পর গ্রাহকরা কত দ্রুত ঋণ পান?

আমরা সময়কে খুব গুরুত্ব দিই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যদি সঠিকভাবে ও পূর্ণাঙ্গভাবে জমা দেয়া হয়, তাহলে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ সম্পন্ন করা হয়। দ্রুত প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য। কারণ ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে দেরি হলে ব্যয় ও ঝুঁকি দুটোই বাড়ে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২৫ বছর মেয়াদে হোম লোন নিতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মাধ্যমে মাসিক কিস্তির চাপ কমানো সম্ভব হয়, যা গ্রাহকদের জন্য আর্থিক স্বস্তি নিয়ে আসে। এতে করে মধ্য আয়ের গ্রাহকরাও ধাপে ধাপে নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন। ব্যাংকের দৃষ্টিতে এটি একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি করে।

সুদহার ভাসমান হওয়ায় অনেক গ্রাহক ঝুঁকির কথা বলেন। এ বিষয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের অবস্থান কী?

সুদহার ভাসমান হলেও তা পুরোপুরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংক কখনই এর বাইরে গিয়ে হার নির্ধারণ করে না। ঋণ অনুমোদনের আগেই গ্রাহকদের সুদ কাঠামো, সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ঝুঁকির বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানানো হয়। এখন পর্যন্ত ভাসমান সুদের কারণে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এমন কোনো বড় অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। বরং আমরা স্বচ্ছতা বজায় রেখে গ্রাহকদের সঠিক তথ্য প্রদান করি।

পর্যাপ্ত জামানত থাকার পরও অনেক ব্যাংক হোম লোনে আগ্রহী নয়—এমন অভিযোগ শোনা যায়। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

হোম লোন মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। সব ব্যাংকের কৌশল দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। তবে প্রিমিয়ার ব্যাংক এ খাতকে নিরাপদ ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। সে কারণেই আমরা নিয়মিতভাবে হোম লোন বিষয়ে প্রচার, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং গ্রাহক শিক্ষা উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের হোম লোনে খেলাপি ঋণের চিত্র কেমন? কোন ধরনের গ্রাহকের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি?

আমাদের হোম লোনে খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ল্যান্ডলর্ড শ্রেণীর কিছু গ্রাহকের মধ্যে খেলাপির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। সাধারণত তাদের আয় একক বা অনিয়মিত উৎসনির্ভর হওয়ায় এ ঝুঁকি দেখা দেয়। তবে সামগ্রিকভাবে হোম লোনকে আমরা একটি নিরাপদ ঋণ খাত হিসেবেই দেখি।

নীতিগত বা কাঠামোগত দিক থেকে হোম লোন সম্প্রসারণে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ আছে কি?

বড় কোনো নীতিগত চ্যালেঞ্জ নেই। তবে জমির কাগজপত্র যাচাই, ভবনের অনুমোদন এবং আইনগত প্রক্রিয়াগুলো যদি আরো সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়, তাহলে হোম লোন কার্যক্রম আরো দ্রুত ও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে।

হোম লোনের বাজার আরো বিস্তৃত করতে আবাসন কোম্পানিগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

আবাসন কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি নিয়মকানুন মেনে মানসম্মত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি হস্তান্তর করে, তাহলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে। এ আস্থাই হোম লোন বাজারের টেকসই সম্প্রসারণের মূল ভিত্তি।