একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন আবিদুল ইসলাম। ঢাকার বাইরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও উচ্চতর পড়াশোনা ও চাকরির সুবাদে বেশ কয়েক বছর আগেই স্থায়ী হয়েছেন ঢাকায়। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় একটি নিজস্ব ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তবে জমি ও ফ্ল্যাটের উচ্চমূল্যের বাজারে তার স্বপ্ন প্রায় ফিকে হয়ে যেতে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত রাজধানীর বনশ্রীতে কয়েকজন বন্ধু মিলে ৫ শতাংশ জায়গা কিনেছেন তিনি। এখন সেখানে বাড়ি বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আবিদুল ইসলাম বলেন, একটা সময় ফ্ল্যাট কেনার চেষ্টা করেছিলাম। যেসব ফ্ল্যাট পছন্দ হতো, অতিরিক্ত দামের কারণে সেগুলো কেনার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আবার কিছু ক্ষেত্রে তৈরীকৃত ফ্ল্যাটের গুণমান নিয়েও সন্দেহ হতো। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন বন্ধু মিলে জায়গা কিনে এখন বাড়ি তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দুয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু করব।

শুধু আবিদুল ইসলাম ও তার বন্ধুরাই নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও উপশহরেই এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‌‘‌নিজেদের বাড়ি নিজেরাই বানানো’ উদ্যোগ। দেশের প্রধান শহরগুলোয় এখনো আবাসন ব্যবস্থা অনেকটাই ডেভেলপার কোম্পানিনির্ভর। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত হওয়ায় এসব আবাসন বিল্ডিং অধিকাংশ সময় চড়া মূল্যে বিক্রি করতে হয় তাদের। মধ্য ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের এ বাজারে অধিকাংশ ক্রেতাই যা কেনার সামর্থ্য রাখেন না। আবার ডেভেলপারদের তৈরীকৃত আবাসন প্রকল্পগুলোর মান নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে মাঝেমধ্যেই। এসব কারণেই বিভিন্ন জায়গায় এখন কয়েকজন সহকর্মী, বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন মিলে ব্যক্তি উদ্যোগেই বাড়ি বানাচ্ছেন। এতে একই বাড়ি বানাতে ব্যাংক থেকেও ঋণ পাচ্ছেন একাধিক জন। ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফিসহ নানা খরচও বাঁচিয়ে চলতে পারছেন তারা। গ্রাহকদের এমন অবস্থার কথা বিবেচনা করে অনেক ব্যাংকও এখন গ্রুপভিত্তিক ঋণ দেয়ার জন্য প্রডাক্ট সাজিয়েছে। আবার একক ঋণেও ৪ কোটি (আগে ২ কোটি ছিল) ঋণ সীমার স্থলে ১৫-২০ কোটি বা তারও বেশি ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন উদ্যোক্তারা। ঋণগুলোও ভাগ হওয়ায় নিজেদের সুবিধামতো পরিশোধ করতে পারছেন তারা।

রাজধানী ঢাকার যেসব এলাকায় সম্প্রতি আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে আফতাবনগর, বনশ্রী, পল্লবী ও বসিলা এলাকা। সম্প্রতি এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সারি সারি উঁচু বিল্ডিং। এলাকাগুলোয়ও ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর তৈরি বিল্ডিংয়ের আধিক্য দেখা গেলেও বড় একটি অংশ দেখা গেছে ব্যক্তি উদ্যোগের বিল্ডিং। এসব উদ্যোগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই আবার কয়েকজন মিলে জায়গা ক্রয় ও বাড়ি বানানোর উদ্যোগ। সেখানকার একজন সরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় খুবই কমসংখ্যক মানুষ উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট কিনতে পারে। আবার এককভাবে জায়গা কিনেও বাড়ি বানানোর মতো টাকা সবার হাতে থাকে না। সেজন্যই কয়েকজন সহকর্মী একত্রে জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে থাকছেন। এতে নিজেদের পছন্দমতো বাড়ি বানানোরও সুযোগ পেয়েছেন তারা।

ঢাকা শহরে বর্তমানে এমন ব্যক্তিগত উদ্যোগই বেশি বলে মনে করেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বর্তমানে ব্যক্তি উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে। অনেক ডেভেলপার কোম্পানিই গ্রাহককে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন না। ফ্ল্যাট বুঝে পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। প্রডাক্ট একরকম দেখালেও হাতে পাওয়ার পর দেখা যায় ভিন্ন রকম। ফলে ডেভেলপারদের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন তারা। এসব কারণেই এখন গ্রুপভিত্তিক উদ্যোগ বেশি দেখা যাচ্ছে।