ভূমিকা: ইতিহাস ও জনসংখ্যা প্রসঙ্গ
রাজনীতির সঙ্গে ন্যায্যতা-চিন্তার দূরত্বের কারণে আমাদের কতগুলো জটিল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। কতগুলো ভুল সিদ্ধান্ত, কিছু ক্ষেত্রে দৃঢ়তার অভাব ও দলগুলোর অসহিষ্ণুতার কারণে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে না। ইতিহাসবিদ ভ্যান শ্যান্ডেল একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, সমকালীন বাংলাদেশকে অনুধাবন করতে হলে আগের কয়েক দশকের রাজনৈতিক-সামাজিক অভিঘাতগুলো গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন। বতর্মানে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর দেশ, যা রাশিয়া ও জাপানকেও ছাড়িয়ে গেছে। তার মতে, বাংলাদেশের মতো সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে এত বিচিত্র ও বহুধাবিভক্ত একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। সুতরাং অতিমাত্রার জনঘনত্ব এখানকার জটিলতার একটি দিক। আর অন্য দিকটি নিয়ে কথা বলেছেন, আমাদের কিংবদন্তি ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক এএফ সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নবীন হলেও তার সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি সহস্র বছরের পুরনো। আর তাছাড়া এ অঞ্চলের রয়েছে পরিবেশ, জলবায়ু ও ভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য; যার সঙ্গে বাংলা ভাষার শক্তি মিলেমিশে একে এক স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় দিয়েছে।
এ লেখায় আমি তিনটি দিক থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর আলোকপাত করব: প্রথমত, রাজনৈতিক দর্শনের অণুবীক্ষণ, দ্বিতীয়ত, নৈতিকতা ও ন্যায্যতা-চিন্তার বিকাশপথ এবং তৃতীয়ত, চলমান সমস্যার উত্তরণে সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি টানব।
সামাজিক চুক্তির তাত্ত্বিক ভিত্তি
সপ্তদশ শতাব্দীর দার্শনিক থমাস হবস তার লেভিয়াথান গ্রন্থে প্রথমবারের মতো ‘সামাজিক চুক্তি’র ধারণা প্রস্তাব করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষে মানুষে নিরবচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধ প্রতিরোধ করে সমাজকে সুরক্ষিত করা। প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধরত’—এ বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে একটি সামাজিক চুক্তির ধারণার কার্যকর প্রয়োগ কীভাবে সমাধান দিতে পারে তা তিনি দেখিয়েছেন। তার মতে, ‘কমন পাওয়ার’ বা ‘সার্বভৌম ক্ষমতা’র অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তার ভাষায়: ‘যেখানে প্রতিটি মানুষ একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, সেখানে এ-ও অনিবার্য যে অন্যায় বলে কিছু থাকতে পারে না। ন্যায়-অন্যায় কিংবা সঠিক-ভুলের যে ধারণা, তা সেখানে অস্তিত্বহীন। কারণ যেখানে কোনো কমন পাওয়ার নেই, সেখানে আইনও নেই; আর যেখানে আইনই নেই, সেখানে অন্যায়ের কথাও অনুপস্থিত।’ (লেভিয়াথান, অধ্যায় ১৩, ১৬৫১)। মানুষ স্বেচ্ছায় নিজের কিছু অধিকার রাষ্ট্রের হাতে সমর্পণ করে; যাতে সমাজে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা, শান্তিসহ বণ্টনমূলক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সমাজের সদস্যরা স্বেচ্ছায় নিজের ক্ষমতার একটি অংশ ছাড় দিয়ে সম্মিলিতভাবে এ কমন পাওয়ার বা সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অর্পণ করে। রাষ্ট্র এ ক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করে সমাজকে পরস্পর হানাহানির সমূহ বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়; একটি ‘সামাজিক চুক্তি’তে উপনীত হয়ে। রাষ্ট্র তার সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে কতগুলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের দরকার পড়ে, কারণ মানুষ সাধারণত কোনো কাজে নিজের স্বার্থ সর্বোচ্চ আদায় করতে চায়, যা তাকে বিশৃঙ্খল বা মব সন্ত্রাস সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়। আর তাই নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক পক্ষের ভেতর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক সময়ে সম্ভবত স্কুলই সামাজিক চুক্তির আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করে। আরো বড় হয়ে সেই শিক্ষার্থী যখন কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তখন তার সামনে আরো বৃহত্তর পরিধির সমাজের সঙ্গে এ চুক্তির নবায়ন ঘটে এবং তার বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও আইন
সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবসের এ ধারণার প্রেক্ষাপট হলেও বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর প্রকাশিত সংবাদ দেশে যে ‘বিশৃঙ্খলা’ ও ‘ছায়াযুদ্ধে’র কথা বলছে, তার সঙ্গে এর মিল-অমিল দুটোই আছে। বর্তমান বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তাহীনতার বোধ ক্রমবর্ধমান, ‘দলীয় মব সন্ত্রাস’ কিংবা অরাজকতার খবর যখন নিত্যসঙ্গী, তখন হবসের এ তত্ত্ব নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি রাজনৈতিক দলের অনাস্থা, উপদেষ্টাদের বিতর্ক ও তাদের টেবিলে ‘সমন্বয়ক’দের তদবিরের উঁচু ফাইল, আদালতের গুণমানের ক্রমাবনতি এবং সেনা অবস্থান ইত্যাদি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামাজিক চুক্তি কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অসাড় হয়ে পড়েছে সমাজে নাগরিকদের সমদর্শিতারূপে গণ্য করার দৃষ্টিভঙ্গির। সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে সমমর্যাদায় দেখার দৃষ্টিভঙ্গির বড্ড অভাব আমাদের সমাজে।
কেন এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে তার কারণ অনুধাবন করা খুব কঠিন নয়। কারণ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া; তা এ সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠার একটি দিক মাত্র। গণতন্ত্রের এ পুরনো ও আনুষ্ঠানিক দিকটি যেখানে নির্বাচন ও ব্যালটকেই গুরুত্ব দেয়। কিন্তু যারা পৃথিবীব্যাপী গণতন্ত্রের বিকাশমান ধারাটি অনুসরণ করেন তারা এর অন্য দিকটি ‘আলাপ-আলোচনাভিত্তিক শাসনে’র ব্যাপকতর দৃষ্টিভঙ্গিটি এ দেশে যে নেই সেটি জেনে থাকবেন। অগ্রসর পাঠক উপলব্ধি করবেন যে এক মাথা এক ভোটের দাবি হিসেবে গণতন্ত্রকে এখন আর গণ্য করা হয় না, বরং দেখা হয় তার চেয়ে ব্যাপক প্রশস্ত আকারে।
আলাপ-আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্র
‘ডিলিবারেটিভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘আলাপ-আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্র’ সম্পর্কে দার্শনিক জন রলস বলেছেন: ‘ধারণাটির সুনির্দিষ্ট ভিত্তি হলো আলাপ-আলোচনা। নাগরিকরা যখন আলাপ-আলোচনাপ্রসূত মত প্রকাশ করেন, তখন তারা পরস্পরের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা বিনিময় করেন এবং রাজনৈতিক সমস্যাগুলো নিয়ে নিজেদের মতের সমর্থনে বিতর্ক করেন।’ এটুকু পড়ে কেউ ভাবতে পারেন, এ তো আমরা হরহামেশাই করে থাকি! চায়ের দোকানে বা আড্ডায় কিংবা আর একটু আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন সভা-সমিতির আলোচনা অনুষ্ঠানে। এর প্রত্যুত্তরে বলতে হয়—অবশ্যই, কিন্তু সেগুলো কি রাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে হয়েছিল? জনগণের ভেতর এ যুক্তিতর্কগুলোর আলোকে কি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? রলস অবশ্য আলাপ-আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্রের তিনটি মৌলিক উপাদান জরুরি মনে করেন: ‘প্রথমটি হলো প্রকাশ্য যুক্তিপ্রয়োগের ধারণা থাকতে হবে, যদিও এর সব রূপ একই রকমের হবে না, দ্বিতীয়টি হলো সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের একটি কাঠামো, যা আলাপ-আলোচনার সারবত্তাকে আইন প্রণয়নকারী সংস্থার কাজের পরিধি নির্ধারণ করবে এবং তৃতীয়টি হলো নাগরিকদের সদিচ্ছা ও জ্ঞানগত সক্ষমতা থাকা, যাতে তারা প্রকাশ্য যুক্তিপ্রয়োগের পথ ধরে নিজেদের রাজনৈতিক আচরণে সেই আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট থাকে। এ মৌলিক বিষয়গুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিফলন হলো নির্বাচনের জন্য সরকারি অর্থায়ন এবং জননীতির মৌলিক প্রশ্ন ও ইস্যুগুলোর বিষয়ে সুশৃঙ্খল ও গভীর আলোচনার জন্য জনসমক্ষে উপযুক্ত পরিসর উন্মুক্ত করা। আলাপ-আলোচনা বাস্তবায়নযোগ্য হবে তখনই যখন এটিকে গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে ও গণতন্ত্রকে অর্থের প্রভাবমুক্ত রাখা যাবে।’
ন্যায্যতার বিকাশে শিক্ষা ও নৈতিকতা
রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় দেশের বুকের ওপর যে দুর্দশার পাহাড় চেপে বসে আছে তার প্রধান ভিত্তিই হলো শিক্ষার অভাব। (ইজভেস্তিয়া, ১৯৩০)। আমাদের জীবনের বহুবিধ সমস্যাকে একটি মাত্র বিন্দুতে আনার কারণে, কেউ হয়তো তার চিন্তাটিকে অতিসরলীকরণের দোষে দুষ্ট বলতে পারেন, তবে রবীন্দ্রনাথের বিচারটি যে গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সে বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। তার বিদ্যালয়ের ছাত্র অমর্ত্য সেন, নতুন সময়ের প্রেক্ষপটে, এই চিন্তাকে মূল সূত্র ধরে ‘সক্ষমতার দৃষ্টিভঙ্গি’র নতুন তত্ত্বায়ন করেছেন।
সামাজিক প্রগতির ক্ষেত্রে ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার ভূমিকার কথা রবীন্দ্রনাথ বহু বছর আগে বলে গেলেও বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের মতো অন্যান্য উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানও উন্নয়ন-চিন্তায় শিক্ষার ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়েছেন। অর্থনৈতিক সুযোগ ও কর্মসংস্থানে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা কী ভীষণভাবে কার্যকর তা আজকাল আর বোঝানোর দরকার পড়ে না। অমর্ত্য সেনের মতে, শিক্ষা মানুষকে কতগুলো মৌলিক স্বাধিকার দেয়, যার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীকে বোঝা, একটি ওয়াকিবহাল জীবনযাপন করা, অন্যদের সঙ্গে ভাব বিনিময় এবং সাধারণভাবে আমাদের চারপাশের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবহিত থাকার ক্ষমতা। কারণ আধুনিক সমাজ লিখিত ভাববিনিময়ের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। (ভারত: উন্নয়ন ও বঞ্চনা, দ্রেজ ও সেন)।
আমাদের সংকটটি কিন্তু শুধু স্থিতিশীলতার নয়, বরং সমাজে নয়েজ বা কোলাহল কমিয়ে কীভাবে উচ্চতর সমাজ নির্মাণ করা যাবে তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এ কাজ করতে হলে রবীন্দ্রনাথ ও অমর্ত্য সেনের মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ক্রমবর্ধমান ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন সংবেদনশীল মানবিক বোধের প্রয়োগ ও আলাপ-আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্রের গতিশীল অভিযাত্রা। রবীন্দ্রনাথের আত্মানুসন্ধানমূলক দর্শন ও ‘বিচ্ছিন্নতা-বিরুদ্ধ’ চর্চা আমাদের শেখায় কীভাবে ব্যক্তি তার সীমিত পরিধির খোলস থেকে ক্রমে সমাজ-সত্তার সঙ্গে এবং সমাজ-দেহ থেকে বিশ্বমানবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি সহনশীল ন্যায্যতাচর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়।
চলমান সংকট ও রাজনৈতিক শিক্ষার ঘাটতি: দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতি
চিন্তাশীল মানুষের লেখা পড়লে খুব বড় মাপের গঠনমূলক অভিজ্ঞতা হয়, তা সে যত পুরনোই হোক না কেন। আমরা যদি গত এক মাসে দৈনিক পত্রিকাগুলোয় যেসব খবর বেরিয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখব রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের পরস্পরের প্রতি ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস স্পষ্ট। এখানে সমাজের চাওয়া আর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থের ভেতর দূরত্ব রয়েছে। ফলে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এটি অনেকটা হবসীয় সময়ের ‘সবার সঙ্গে সবার স্বার্থ-সংঘাতে’র ফলে সৃষ্ট অস্থিরতাকেই যেন অনুসরণ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভেতর ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে কিছুটা সাফল্য পেলেও এখন আর তার পক্ষে সেটি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না সমদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের অভাবে। আবার কখনো সমদৃষ্টিতে দেখা হলেও বড়রা তা গ্রহণ করতে পারছেন না বোধের অভাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আকর্ষণ ছিল তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও তরতাজা আইডিয়াগুলো। সময় যত গড়িয়েছে, সেগুলোয় কিছুটা ধুলা পড়েছে ও ম্লান হয়ে গেছে জনসম্পৃক্ততার অভাবে। অন্যদিকে বিবদমান সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ঐক্যের জায়গা নষ্ট হয়ে সেই জায়গায় পুরনো পেশিশক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতা স্থান করে নিয়েছে ও তাতে পরস্পর লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শুধু নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বা ফলাফল নয়, বরং তার পেছনে থাকা রাজনৈতিক অর্থনীতির ভিত্তিও এখন আলোচনায় আনা জরুরি। অর্থনৈতিক ভিত্তি দূষিত হলে—কি সামাজিক চুক্তি, কি রাজনৈতিক চুক্তি—যাই বলি না কেন তা অসাড় হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও সোস্যাল ক্রিটিক মনজুর আলম টিপু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি প্রধান বিষয় হওয়া উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থনৈতিক ভিত্তির সংস্কার। রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের আয়ের উৎস কী তা যদি অপরাধ, দুর্নীতি অথবা লুটপাট হয় তবে তাদের নৈতিক অবস্থান কীভাবে প্রত্যাশিত হবে?’
আহমেদ জাভেদ: প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন। তিনি বর্তমানে সিটি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত










